বিশৃঙ্খলা ও লুটপাটের অভিযোগ; পুলিশের দাবি, অভিযোগ পায়নি তারা

🎧অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন
ভিডিও প্রতিবেদনের বিস্তারিত তথ্য ও প্রাসঙ্গিক বর্ণনা নিচে পড়ুন।
রাজধানীর পল্লবীতে একটি লাইফস্টাইল পণ্যের বিক্রয়কেন্দ্র উদ্বোধনকে ঘিরে ব্যাপক ভিড়, বিশৃঙ্খলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
‘লাইভ শপিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ফ্যাক্টরি আউটলেট উদ্বোধন উপলক্ষে দেওয়া বিশেষ ‘ফ্রি শপিং’ অফারকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিকালে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, উদ্দেশ্যমূলকভাবে একটি দল বিক্রয়কেন্দ্রে ঢুকে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে।
এমনকি বিক্রয়কর্মীদের মারধর, ব্যাগ চুরি এবং বিভিন্ন পণ্য নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
শুক্রবার বিকাল ৩টায় পল্লবীতে ‘লাইভ শপিং ফ্যাক্টরি আউটলেট’ উদ্বোধনের কথা ছিল। উদ্বোধন উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে প্রচার করা হয় ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘ফ্রি শপিংয়ের’ সুযোগ।
তবে এটি সরাসরি বিনামূল্যে পণ্য নেওয়ার সুযোগ ছিল না। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া শর্ত অনুযায়ী, একজন ক্রেতাকে প্রথমে ন্যূনতম ৩ হাজার টাকার পণ্য কিনতে হবে। এরপর গোলবারে দুটি শট নেওয়ার সুযোগ থাকবে। দুটি শটের মধ্যে অন্তত একটি গোল করতে পারলে ৩ হাজার টাকা ক্যাশব্যাক দেওয়া হবে। অর্থাৎ, গোল করতে পারলে আগে করা ৩ হাজার টাকার কেনাকাটাই কার্যত বিনামূল্যে হয়ে যাওয়ার কথা।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, অফারটি ঘিরে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি বিশৃঙ্খল হয়ে যায়।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একাধিক পোস্ট ও লাইভ ভিডিওতে পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে সাহায্য চায় ‘লাইভ শপিং’। বিকাল ৪টার দিকে দেওয়া একটি পোস্টে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করে, কিছু মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে সেখানে ঢুকে ‘মব’ তৈরির চেষ্টা করছে। পরে এক লাইভ ভিডিওতে প্রতিষ্ঠানটির সত্ত্বাধিকারী আশিক খান অভিযোগ করেন, ১০ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিক্রয়কেন্দ্রে ঢুকে হামলা ও ভাঙচুর করেছে।
তার ভাষ্য, ঘটনার সময় বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে কেনাকাটা ও অফারে অংশ নিচ্ছিলেন। কিন্তু একটি দল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভেতরে ঢুকে কর্মীদের মারধর করে এবং বিভিন্ন জিনিসপত্র নষ্ট করে।
তিনি আরও দাবি করেন, কয়েকজন গ্রাহকের ব্যাগ চুরি হয়েছে এবং জুতা ও অন্যান্য পণ্য নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
আশিক খানের ভাষায়, “মানুষ কিনতেছিল এবং খেলতেছিল। উদ্দেশ্যমূলকভাবে ওই লোকগুলো ভেতরে ঢুকে মারছে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সবকিছু নষ্ট করা হয়েছে।”
ঘটনার সময় সেখানে এক হাজারের বেশি মানুষ উপস্থিত ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনার খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, প্রতিষ্ঠানটি একটি অফার দিয়েছিল। সেখানে ‘কন্ডিশন অ্যাপ্লাই’ লেখা থাকলেও অনেকেই বিষয়টি বুঝতে পারেননি। ফলে মানুষ হুড়মুড় করে সেখানে ঢুকে পড়েন। একপর্যায়ে বিক্রয়কেন্দ্রের লোকজনের সঙ্গে তাদের ঝামেলা হয়।
পুলিশ গিয়ে লোকজনকে বের করে দেওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রতিষ্ঠানটির লোকজনের সঙ্গে কথা বলে ওই দিনের জন্য শোরুমটি বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
তবে লুটপাট বা মারধরের বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি বলে জানিয়েছেন ওসি।
তিনি বলেন, “আমরা এমন কোনো অভিযোগ পাইনি। আমরা প্রতিষ্ঠানের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা এখনো কোনো অভিযোগ দেননি।”
ঘটনার সময় কয়েকশ মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান তিনি। পুলিশের মূল কাজ ছিল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সবাইকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া।
একদিকে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে পরিকল্পিতভাবে হামলা, মারধর ও লুটপাটের গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে; অন্যদিকে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের বক্তব্যে এখন পর্যন্ত এমন কোনো অভিযোগ বা মামলা করার তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফলে ঠিক কী কারণে পরিস্থিতি এতটা উত্তপ্ত হলো, কারা সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল এবং সত্যিই কোনো পণ্য লুট বা কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছিল কি না: এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।
বিশেষ করে ‘ফ্রি শপিং’ শব্দটি প্রচারের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি এবং অফারের শর্ত সম্পর্কে গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।
কারণ পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, অফারের সঙ্গে ‘কন্ডিশন অ্যাপ্লাই’ থাকলেও অনেকেই সেটি বুঝতে পারেননি। ফলে বিনামূল্যে পণ্য পাওয়ার আশায় বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে ভিড় করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর শুক্রবারের জন্য বিক্রয়কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেয় পুলিশ। তবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে করা লুটপাট ও হামলার অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া পোস্ট ও লাইভ ভিডিওতে বিশৃঙ্খলার চিত্র ছড়িয়ে পড়লেও, অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত সেখানে ঠিক কী ঘটেছিল, তার চূড়ান্ত চিত্র পাওয়া কঠিন।
এটা পরিকল্পিতভাবে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে কেন চক্র এমন প্রশ্নে পুলিশ জানায়, অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজন আইনগত অভিযোগ এখনো আমরা পাই নি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…

