
কলকাতা, ১৪ সেপ্টেম্বর – পশ্চিমবঙ্গে অনুমোদনহীন ও নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিচালিত মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান এবং কঠোর আইনি পদক্ষেপ শুরু করেছে রাজ্য সরকার। রাজ্যজুড়ে গঠিত তদন্ত কমিটির সমীক্ষার পর প্রথম ধাপে ২৫২টি মাদ্রাসা একযোগে বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও ১০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারলে শোকজ করা ওই ১০০টি মাদ্রাসার বিরুদ্ধেও চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।
তদন্তে উঠে আসা চিত্র ও কড়া পদক্ষেপ
রাজ্যের ২২টি জেলা এবং কলকাতা সংলগ্ন এলাকার মাদ্রাসাগুলোতে সরেজমিনে ব্যাপক যাচাই-বাছাই ও সমীক্ষা চালায় রাজ্য সরকার।
অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের চিত্র: সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে ২,১৩২টি মাদ্রাসা বৈধ রেজিস্ট্রেশন নিয়ে চালু থাকলেও প্রায় ২,৩৯৬টি মাদ্রাসা কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন বা বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল।
বন্ধের বড় কারণ: ক্লাসরুমের অভাব, শিক্ষার্থী-শিক্ষকের চরম স্বল্পতা, রাজ্য নির্ধারিত পাঠ্যক্রম না মানা এবং পরিচালনার উৎস ও শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের পরিচয়ে বড় ধরনের অসঙ্গতি পাওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জেলাভিত্তিক বন্ধের তালিকা: সবচেয়ে বেশি মালদহে প্রায় ৪৫টি, উত্তর দিনাজপুরে ৩৭টি, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৩২টি এবং নদীয়া ও মুর্শিদাবাদে ২৫টি করে মাদ্রাসায় বন্ধের নির্দেশ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ ও পাল্টা প্রতিক্রিয়া
মাদ্রাসা বন্ধের এই অভিযানকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে:
মাওলানা সাজিদ রশিদি (সভাপতি, অল ইন্ডিয়া ইমাম অ্যাসোসিয়েশন) বলেন, “সরকারের অধীনে থাকা মাদ্রাসা বন্ধ করলে তাতে কিছু যায় আসে না। কিন্তু আমাদের পরিচালিত, সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা আড়াই শতাংশ খারিজি মাদ্রাসা বন্ধ করে দেখাক।”
শমীক ভট্টাচার্য (রাজ্য বিজেপি সভাপতি) বলেন, “আমাদের লড়াই কোনো মাদ্রাসার বিরুদ্ধে নয়। তবে মাদ্রাসার নামে যেসব প্রতিষ্ঠানে ‘ভারতবিরোধী’ কাজ হচ্ছে, আমরা তার কঠোর বিরোধী।”
অন্যদিকে পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান, পূর্বে অনেক সন্ত্রাসী ধরা পড়েছে যারা মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। যেখানে-সেখানে নিয়ম ছাড়া মাদ্রাসা খুলে উৎপাত করার সুযোগ সরকার আর দেবে না।
ক্যাবিনেট মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল মন্তব্য করেন, ভোটব্যাংকের স্বার্থে দীর্ঘদিন ধরে খারিজি মাদ্রাসায় ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ভারতবর্ষকে কোনোভাবেই টুকরো হতে দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।
এনএন/ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

