জন্মদিনে সুড়ঙ্গ-তুফান-তাণ্ডবের প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল

বাংলা সিনেমাকে শুধু দেশের দর্শকের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেন দেশের নামী প্রযোজনা সংস্থা আলফা আই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল। ভালো সিনেমা নির্মাণের পাশাপাশি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের অবকাঠামো ও নীতিগত কাঠামোতেও পরিবর্তন চান তিনি।
জন্মদিনে চ্যানেল আই অনলাইনকে নিজের সেই দীর্ঘমেয়াদি ভিশনের কথা জানালেন এই প্রযোজক।
শাহরিয়ার শাকিল বলেন, “আমার ভিশন ভালো ভালো সিনেমা বানানো, সেগুলো পৃথিবীর কাছে তুলে ধরা। লাইফে এটা ছাড়া আমার কোনো ভিশন নাই।”
সুড়ঙ্গ-তুফান-তাণ্ডবের মতো ‘ব্লকবাস্টার’ সিনেমার এই প্রযোজক বলেন, বাংলাদেশে বিশ্বমানের সিনেমা নির্মাণের সক্ষমতা ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে। তবে ভালো সিনেমা নির্মাণের পাশাপাশি সেগুলো দর্শকের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রয়োজন একটি কার্যকর ও আধুনিক চলচ্চিত্র ব্যবস্থাপনা কাঠামো।
বিশেষ করে ই-টিকেটিং, সেন্ট্রাল সার্ভার এবং সিনেমা হলের মানোন্নয়নের মতো বিষয়গুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করে শাহরিয়ার শাকিল বলেন, “ভালো সিনেমা বানিয়ে দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে পলিসিগত যে স্ট্রাকচার (ই-টিকেটিং, সেন্ট্রাল সার্ভার, সিনেমা হলের মানোন্নয়ন) দরকার, সেটা বাংলাদেশে ঠিক নাই। সরকারি এবং প্রাইভেট সেক্টর মিলে উদ্যোগ নিয়ে আমরা যদি পরিবেশটা ঠিক করতে পারি, সেটাই এখন আমার আরেকটা অন্যতম ভিশন।”
তার মতে, এই কাঠামো বাস্তবায়ন হলে শুধু প্রযোজক বা নির্মাতারাই নয়, সরকারও লাভবান হবে। কারণ সঠিক ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আয়-ব্যয়ের হিসাব যেমন নির্ভুল হবে, তেমনি সরকারের রাজস্ব আদায়ও বাড়বে।
২০২৩ সাল থেকে একের পর এক আলোচিত সিনেমা নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে আলফা আই। ‘সুড়ঙ্গ’, ‘তুফান’, ‘তাণ্ডব’, ‘দাগি’ ও ‘দম’-এর মতো সিনেমার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বাংলা চলচ্চিত্রের নতুন সম্ভাবনাকে সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। আগামীতে এই প্রযোজকের ঘোষণা দেওয়া সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘খলনায়ক’ ও ‘সুড়ঙ্গ ২’।
তবে দর্শকের আগ্রহ ও বাজার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও নির্মাণ ব্যয় তুলে আনার অনিশ্চয়তা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন শাহরিয়ার শাকিল। তার ভাষায়, “আমাদের দেশে এত দর্শক থাকার পরেও ভালো সিনেমা বানিয়ে টেনশনে থাকতে হচ্ছে যে, টাকা দিয়ে সিনেমা বানালাম সেটা উঠে আসবে তো!”
চলচ্চিত্র শিল্পের এই সংকট কাটাতে সরকারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করেন শাহরিয়ার শাকিল। সরকারের দায়িত্ব সঠিক নীতিমালা তৈরি করা; আর সেই নীতিমালার ভিত্তিতে বেসরকারি খাত প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ও উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসতে পারবে এমনটাই তার প্রত্যাশা।
শাহরিয়ার শাকিল বলেন, “সরকারের কাজ হচ্ছে সঠিক পলিসি করে দেওয়া। আমি নিজেও যখন সরকারের সঙ্গে বসে আলোচনা করেছি, এটাই বারবার বলেছি আমাদের সঠিক পলিসি করে দিন। সরকার পলিসি করে দিলে প্রাইভেট সেক্টরে এই কাজগুলো হয়ে যাবে।”
বিশ্বের অন্যান্য চলচ্চিত্র শিল্পের উদাহরণ টেনে শাহরিয়ার শাকিল বলেন, সঠিক নীতিগত কাঠামো থাকলে একটি চলচ্চিত্র শিল্প কীভাবে বড় অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হতে পারে, তার উদাহরণ রয়েছে ভারতীয় সিনেমায়। তেলুগু সিনেমার বাজার ও সাফল্যকে সামনে রেখে তিনি মনে করেন, বাংলাদেশেরও সেই সম্ভাবনা রয়েছে।
“তেলুগু রাজ্যে এখন ১০ কোটির মতো জনসংখ্যা। সেখানকার সিনেমা হাজার কোটি আয় করছে, একইসঙ্গে অস্কার থেকেও অ্যাওয়ার্ড নিয়ে সারাবিশ্বে সুনাম অর্জন করছে। তারা কয়েকশ কোটি টাকা বাজেটে সিনেমা বানিয়ে প্রতিনিয়ত লাভ করছে। কারণ, তাদের পলিসি ঠিক আছে। আর আমাদের ২০ কোটির ওপর জনসংখ্যার দেশে ৭ কোটি দিয়ে সিনেমা বানিয়ে কীভাবে তুলব, সেই টেনশনে থাকতে হয়।”
শাহরিয়ার শাকিল বিশ্বাস করেন, সরকারের সঠিক নীতিমালার সঙ্গে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করা গেলে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পও দ্রুত এগিয়ে যাবে। কারণ, প্রতিভার কোনো ঘাটতি এখন আর বাংলাদেশে নেই।
“আমাদের দেশে এখন ট্যালেন্টের অভাব নাই। আমি মনে করি আমরা পারবোই। এতে পৃথিবীর কাছে আমাদের সুনাম বাড়বে,” বলেন তিনি।
সরকারের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনায় ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার কথাও জানান এই প্রযোজক। তবে এখন তিনি সেই আন্তরিকতার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চান। তার প্রত্যাশা, “সরকারের সঙ্গে একাধিকবার বসে কথা বলে আমরা খুবই আন্তরিকতা দেখেছি। এখন শুধু আন্তরিক কথার প্রতিফলন চাই। এই কাজগুলোর বাস্তবায়ন এখন খুব জরুরি।”
জন্মদিনে শাহরিয়ার শাকিল জানান, তার স্বপ্ন শুধু দেশের চলচ্চিত্র বাজারে সাফল্য পাওয়া নয়; বরং বাংলা সিনেমাকে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তার মতে, বাংলাদেশের কনটেন্ট এখন এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে ভাষা আর বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।
তিনি বলেন, “আমরা বাংলা সিনেমাকে সমগ্র দুনিয়াতে দিতে পারবো। আমাদের কনটেন্ট এমন পর্যায়ে গেছে, এখানে বাংলা ভাষা ম্যাটার করে না। যে কোনো ইউনিভার্সাল কনটেন্ট বানালে আমরা পৃথিবীর সবখানে পৌঁছে দিতে পারবো এবং দর্শক দেখবে।”
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
