শাশুড়ি হত্যার দায়ে ১৯ বছর পর জামাইয়ের যাবজ্জীবন

শাশুড়ি হত্যার দায়ে ১৯ বছর পর জামাইয়ের যাবজ্জীবন

গাইবান্ধায় শাশুড়ি মাহমুদা বেগমকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে জামাই বিরাজ আলীকে (৫০) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আইনজীবী মাসুদুর রহমান বিশ্বাস জানান, বুধবার বিকেলে গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক মোল্যা সাইফুল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় সাজাপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডিত বিরাজ আলী গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বোগদহ পুলপাড়া গ্রামের ফইম উদ্দিনের ছেলে।

আদালতের জিআরও সুব্রত জানান, ১৯৯৯ সালে বিরাজ আলীর সঙ্গে একই উপজেলার চক শিবপুর গ্রামের দুদু মিয়া ও মাহমুদা বেগম দম্পতির মেয়ে দুলালী বেগমের বিয়ে হয়। মাদকাসক্ত স্বামীর নির্যাতনের কারণে ২০০৭ সালে দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন দুলালী। তারর বাবা ছিলেন হতদরিদ্র দিনমজুর। সংসারের প্রয়োজনে তারর মা মাহমুদা বেগম গ্রামের এক গৃহস্থের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। দুলালী বেগমও জীবিকার প্রয়োজনে গ্রামের একটি গৃহস্থের বাড়িতে কাজ নেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, স্ত্রীকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য চেষ্টা করেন বিরাজ আলী। তবে দুলালী বেগম এতে রাজি হননি। ২০০৭ সালের ১৪ মে রাতে কাজ শেষে মা মাহমুদা বেগম ও মেয়ে দুলালী বেগম একসঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে চক শিবপুর গ্রামের আলেক উদ্দিনের বাড়ির কাছে আগে থেকে ওত পেতে থাকা বিরাজ আলীসহ আরও অজ্ঞাতনামা দুই থেকে তিনজন তারদের পথরোধ করে দুলালীকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

এ সময় মাহমুদা বেগম বাধা দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে বিরাজ আলী তারর শাশুড়ির বুকে ও পাঁজরে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন। তারদের চিৎকার শুনে গ্রামবাসী এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে আহত মাহমুদা বেগমকে রাতেই গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রাতেই তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় পরদিন ১৫ মে নিহতের ভাই শহিদুল ইসলাম গোবিন্দগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।

আদালতের জিআরও সুব্রত জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোবিন্দগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোস্তফা তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ১০ আগস্ট বিরাজ আলীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে বিরাজ আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন।