
রিয়াদ, ১৮ সেপ্টেম্বর – ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রার মুখে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি বিমান হামলার আহ্বান জানালেও ওয়াশিংটন এতে সাড়া দেয়নি। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ও যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর সিমন মাবোন আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সিদ্ধান্তের পেছনের প্রধান কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক কৌশলগত কারণগুলো বিশ্লেষণ করেছেন:
১. দীর্ঘায়িত ইরান সংঘাত ও স্ট্র্যাটেজিক ক্লান্তি
- ছয় মাসের অনিষ্পন্ন যুদ্ধ: যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে হুথিদের প্রধান সমর্থক দেশ ইরানের সঙ্গে ব্যয়বহুল ও দীর্ঘায়িত সামরিক সংঘাত বা যুদ্ধে জড়িয়ে আছে।
- হিসাবের ভুল: দ্রুত সমাপ্তির প্রত্যাশা নিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হলেও ছয় মাস পার হলেও এর কোনো টেকসই সমাধান মেলেনি।
- তেলের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব: চলমান এই যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে চাপ সৃষ্টি করেছে।
২. আগামী মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন ও রাজনৈতিক ঝুঁকি
- রিপাবলিকানদের জন্য হুমকি: আগামী নভেম্বরের ইউএস মিডটার্ম নির্বাচন রিপাবলিকান পার্টির জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই সময়ে ইয়েমেন ফ্রন্টে নতুন যুদ্ধ শুরু করলে ভোটারদের কাছে তা অগ্রহণযোগ্য বার্তা পাঠাবে।
- ক্যাম্পেইন প্রতিশ্রুতির বৈপরীত্য: ট্রাম্প তাঁর নির্বাচনী প্রচারে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ (Endless Wars) থেকে বের করে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নতুন ফ্রন্ট খোলা তাঁর সেই অবস্থানের সরাসরি বরখেলাপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
- জনমতের অভাব: রয়টার্স/ইপসসের জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩১% আমেরিকান সাধারণ নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুদ্ধকে সমর্থন করে এবং ৮৩% বিশ্বাস করে এই সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হতে যাচ্ছে।
৩. অস্ত্র ও বাজেটের চরম ঘাটতি
- প্যাট্রিয়ট মিসাইলের টান: প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইরানের সাথে ধারাবাহিক সংঘাতের কারণে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা, বিশেষ করে ‘প্যাট্রিয়ট’ মিসাইল ব্যবস্থার মারাত্মক ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
- বিপুল অর্থনৈতিক ব্যয়: পেন্টাগনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতোমধ্যে ৩৩ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে এবং তাদের বেশ কিছু সামরিক বিমান ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৪. ব্যাকচ্যানেল ডিপ্লোমেসি ও ওমান আলোচনা
- হুথিদের সঙ্গে সমঝোতা: মাসকাটে (ওমান) মার্কিন ও হুথি প্রতিনিধিদের প্রত্যক্ষ আলোচনার পর ট্রাম্প প্রশাসন হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত জোরদার করে।
- আমেরিকান জাহাজে হামলা না করার আশ্বাস: হুথিরা যুক্তরাষ্ট্রকে নিশ্চয়তা দিয়েছে যে তারা কেবল সৌদি সম্পর্কিত বা অবরোধকারী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করবে এবং আমেরিকান বা আন্তর্জাতিক অন্যান্য নৌযানকে নিরাপদ রাখবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের রাজনৈতিক অবস্থান রক্ষা এবং নতুন সামরিক সংকটে জড়িয়ে পড়া এড়াতেই ওয়াশিংটন রিয়াদকে কেবল গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহে সীমাবদ্ধ রেখে সরাসরি বিমান হামলা বা যুদ্ধ থেকে বিরত থাকার পথ বেছে নিয়েছে।
এনএন/ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

