
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী নভেম্বর অথবা ডিসেম্বরের শুরুতে ভারত সফরে যেতে পারেন। দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ পুনরায় জোরদার এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন করে এগিয়ে নিতে ঢাকা ও নয়াদিল্লির কর্মকর্তারা সফরটি নিয়ে আলোচনা করছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স্ট পোষ্ট এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা আবারও শুরু হয়েছে বলে দ্য হিন্দুর বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডও জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশের কর্মকর্তারা সফরের সময়সূচি ও বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত করতে কাজ করছেন। তবে এখনো সফরের নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক হয়নি। নভেম্বরকে সম্ভাব্য সময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এখনো ভারত সফরে যাননি তারেক রহমান। এর আগে আগস্টে তার সম্ভাব্য তিন দিনের ভারত সফর নিয়ে আলোচনা হলেও দুই দেশের মধ্যে সুবিধাজনক সময়সূচি চূড়ান্ত না হওয়ায় তা পিছিয়ে যায়।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, তারেক রহমানকে ভারত দুটি পৃথক আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। এর একটি ছিল দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য এবং অন্যটি ছিল বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য।
তবে তারেক রহমান ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেননি। জয়সওয়াল তখন জানান, দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণের বিষয়ে ঢাকার কাছ থেকে এখনো কোনো জবাব পায়নি নয়াদিল্লি।
এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছিলেন, ব্রিকস সম্মেলনে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হলেও ঢাকা দুই দেশের সম্পর্ককে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে নিতে চায়।
সম্ভাব্য ভারত সফরের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর রয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
সেখানে তিনি বিশ্বনেতাদের সামনে বাংলাদেশের বিভিন্ন অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন। রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সভাপতিত্ব করছেন।
নিউজ১৮-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের জাতিসংঘ অধিবেশনের পর অক্টোবরজুড়ে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক কূটনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে। এসব কর্মসূচির পর নভেম্বর বা ডিসেম্বরের শুরুতে ভারত সফরের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হতে পারে।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে যাওয়ার পর থেকেই ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতকে একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। তবে এখনো তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করেনি নয়াদিল্লি।
নতুন সরকার ভারতের সঙ্গে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পর্কের নতুন কাঠামো গড়ে তোলার আগ্রহের কথা জানিয়েছে। সম্ভাব্য এই সফর চূড়ান্ত হলে দুই দেশের সরকার প্রধানের বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরাসরি আলোচনা হতে পারে।
এদিকে চলতি সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময়ও হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর মোদির জন্মদিনে তাকে শুভেচ্ছা জানান তারেক রহমান। জবাবে ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমানের শুভেচ্ছার প্রশংসা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
তবে এখন পর্যন্ত তারেক রহমানের ভারত সফরের তারিখ ও আলোচ্যসূচি চূড়ান্ত হয়নি।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
