কিন্তু ওই যে কথায় আছে না, বিধির লিখন না যায় খণ্ডন! ম্যারাডোনাও খণ্ডাতে পারেননি। বন্ধু ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে সাক্ষাতে গেলেও তাঁকে সেখানে বল নিয়ে কায়দা–কসরত করে দেখাতে হয়েছে। ইউএসএস আইওয়ায় ব্যাপারটা তাই অবধারিতই ছিল।
কারণ, সেই সময়ে ফুটবলকে বশ বানানোর মুনশিয়ানায় সম্ভবত ম্যারাডোনার চেয়ে ভালো কেউ ছিলেন না। নেপলসবাসী তা প্রতিদিনই দেখতেন। আর্জেন্টাইনরা তো তা দেখে আসছিলেন ম্যারাডোনার শৈশব থেকেই। আর বেসবল–পাগল যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ থেকে গোটা বিশ্ব হয়তো সেটাই ভালোভাবে দেখেছেন ’৮৬ বিশ্বকাপে। ফুটবলটা যে সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রের অনেকেই পছন্দ করতেন, সেটার প্রমাণ হলো ম্যারাডোনা আইওয়ায় ওঠার পর কোত্থেকে যেন তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল একটি ফুটবল।ওই তো, বল নিয়ে কিংবদন্তির অবিশ্বাস্য সব কারিকুরি দেখার আবদার!
সিনিওরিনির পোস্টের ভাষায়, ‘হঠাৎ কোথা থেকে যেন একটা বল চলে এল। বল পাওয়ামাত্রই একদম ছোটবেলার মতো নাচাতে (জাগলিং) শুরু করে দিলেন ম্যারাডোনা—যেটি আর্জেন্টিনা জুনিয়র্সের ম্যাচে মধ্যবিরতিতে তিনি নিয়মিত করতেন। কিছু ভাবার সময়ই পাননি!’ হয়তো জানেন কিংবা না–ও জানতে পারেন, ম্যারাডোনা আর্জেন্টিনা জুনিয়র্সে থাকতে ম্যাচের বিরতিতে বল নিয়ে বিভিন্ন কারিকুরি দেখিয়ে দর্শককে আনন্দ দিতেন।
আইওয়ার ডেকেও সবাইকে ম্যারাডোনা আনন্দ দেওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সাংবাদিক অ্যাঞ্জেলো রসি। তৎকালীন নেপলস ও দক্ষিণ ইতালির শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ইল মাতিনোতে কাজ করতেন। ম্যারাডোনার আইওয়া পরিদর্শন নিয়ে পরে প্রতিবেদনও করেছিলেন রসি।
ইনস্টাগ্রামে ছবিগুলো দেখতে দেখতে একটি ভাবনা মনে আসতে পারে। ফুটবলে সব কিংবদন্তির পরিচয় বুঝি একটাই—বলের সঙ্গে সখ্য কত ভালো! নইলে রণতরি দেখতে গিয়েও ম্যারাডোনাকে কেন বল নিয়ে ‘জাগলিং’ প্রদর্শন করতে হবে? কেন প্রতিবারই এমন সব মুহূর্তে শিশুর মতো আনন্দ নিয়ে বলকে পোষ মানাতে দেখা যেত ম্যারাডোনাকে! কারণ সম্ভবত একটাই—পৃথিবীতে ম্যারাডোনার সঙ্গে শুধু একটি বস্তুর সম্পর্কেই কখনো চোট লাগেনি। ফুটবল!


