মানিকগঞ্জে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বাল্কহেডে হামলা-লুটের অভিযোগ

মানিকগঞ্জে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বাল্কহেডে হামলা-লুটের অভিযোগ

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মাসুদ রানার নেতৃত্বে বালু পরিবহনকারী একটি বাল্কহেডে হামলা, পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, কর্মচারীদের মারধর করে নদীতে ফেলে দেওয়া এবং নগদ টাকা ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্যানেল চেয়ারম্যানসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বালু ব্যবসায়ী মো. চঞ্চল দেওয়ান।

অভিযোগে অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিরা হলেন মোসলেম উদ্দিন, মো. সুবহান মিয়া, মোহাম্মদ আলী, শাজাহান, রজ্জব শেখ, মো. ছায়েদুর রহমান, মো. সাত্তার মিয়া, মো. আইয়ুব আলী, মো. শীতল, মো. পান্নু মিয়া, মো. রাসেল মিয়া ও মো. শাজাহান। তাঁদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মারধর, লুটপাট ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।

চঞ্চল দেওয়ানের অভিযোগ, ১৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১২টার দিকে সাটুরিয়া থানার তিল্লী আকাশী এলাকা থেকে তরা বালুমহালের দিকে বালু নিয়ে যাওয়ার সময় গড়পাড়া ইউনিয়নের সাগরদিঘী এলাকার নদীতে কয়েকজন ব্যক্তি ট্রলার নিয়ে তাঁর বাল্কহেডের গতিরোধ করেন। এ সময় তাঁদের হাতে চাপাতি, দা, ছ্যান, এসএস পাইপ, হাতুড়ি, গাছের চেলা ও দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, বাল্কহেডে উঠে প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মাসুদ রানা, মোসলেম উদ্দিন ও সুবহান মিয়া তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা বাল্কহেডে থাকা কর্মচারী নাজমুল, সিয়াম, লোকমানসহ অন্যদের মারধর করে নদীতে ফেলে দেন। পরে চঞ্চল দেওয়ানকেও অস্ত্র দিয়ে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

চঞ্চল দেওয়ানের দাবি, একপর্যায়ে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হলে জীবন বাঁচাতে তিনি নদীতে ঝাঁপ দেন। এ সময় হামলাকারীরা বাল্কহেডের কেবিনে থাকা তিনটি ব্যাগ থেকে ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এ ছাড়া পাঁচটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, এক ব্যারেল জ্বালানি তেল, ইঞ্জিনের ২৯ প্লেট ব্যাটারি, বিভিন্ন টুলস ও গ্যাসের চুলাসহ অন্যান্য মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গড়পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মাসুদ রানা। তিনি বলেন, ‘সাগরদিঘী এলাকায় রাতের আঁধারে কাটার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। এলাকাবাসী তাদের আটকে রেখে আমাকে ফোন দিলে আমি বিষয়টি ইউএনও ও ওসিকে জানাই। পরে ইউএনও স্যার কাটার মেশিনটি আমার জিম্মায় রাখতে বলেন এবং তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন বলে জানান।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরে ইউএনও স্যার ঘটনাস্থলে না যাওয়ায় কাটার মেশিনটি স্থানীয় হাতেম আলীর জিম্মায় রাখা হয়। পরদিন তাঁদের একজন ফোন করে কাটার মেশিনটি দিয়ে দিতে বলেন। আমি জানাই, এটি দেওয়ার বিষয়ে আমার কোনো এখতিয়ার নেই; এটি ইউএনও স্যারের নিয়ন্ত্রণে। এরপর আমার নামে মামলা করার হুমকি দিয়ে ফোন রেখে দেন। আমি ঘটনাস্থলেই যাইনি। আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন।’

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জুলুস খান বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই। ওসি স্যার ছুটিতে আছেন। তাঁর কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও জানি না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী নাসরিন বলেন, ‘বুধবার সকালে গড়পাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এলাকাবাসীর সহযোগিতায় একটি কাটার মেশিন ও একটি বাল্কহেড জব্দের কথা জানান। পরে সেগুলো তাঁর জিম্মায় রাখতে বলা হয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’