অননুমোদিত অনুপস্থিতি ও পলায়ন: পুলিশের ৬ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত – DesheBideshe

অননুমোদিত অনুপস্থিতি ও পলায়ন: পুলিশের ৬ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত – DesheBideshe


ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর – কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা, অসদাচরণ এবং পলায়নের মতো গুরুতর অভিযোগে বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ৬ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্তে আনা অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই করা পৃথক ছয়টি প্রজ্ঞাপনে এই বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের বিস্তারিত ও কারণ

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যাদের বরখাস্ত করা হয়েছে এবং যে তারিখ থেকে তাদের আদেশ কার্যকর ধরা হয়েছে, তার বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

মোহাম্মদ জায়েদুল আলম (সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি): ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। বারবার যোগাযোগ ও কারণ দর্শানোর নোটিশ সত্ত্বেও সাড়া না দেওয়ায় বিভাগীয় তদন্তে পলায়ন প্রমাণিত হয়। তাকে ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর থেকে কার্যকরভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

মো. আসাদুজ্জামান (সাবেক ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার): ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সারদা পুলিশ একাডেমিতে সংযুক্ত থাকার পর ছুটি শেষে আর যোগ দেননি। তদন্তে পলায়ন প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গত ১৭ সেপ্টেম্বর বরখাস্ত করা হয়।

আরিফুর রহমান মণ্ডল (সাবেক সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার): বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে যুক্ত থাকার পর ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত ছিলেন। অসদাচরণ ও পলায়ন প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকরভাবে বরখাস্ত করা হয়।

মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন (সাবেক পুলিশ সুপার, এটিইউ): বরিশাল রেঞ্জে সংযুক্ত থাকার পর ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত ছিলেন। তদন্তের ভিত্তিতে তাকে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকরভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

পলাশ রঞ্জন দে (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ৭-এপিবিএন, সিলেট): ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন এবং মোবাইল ফোনেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট থেকে কার্যকরভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

রাজীব দাস (সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, ডিএমপি): ২০২৪ সালের অক্টোবরে চিকিৎসার জন্য ২০ দিনের ছুটিতে থাইল্যান্ড গিয়ে আর দেশে ফেরেননি। ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২ নভেম্বর কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি অনুপস্থিত থাকেন। তদন্ত শেষে তাকে ২০২৪ সালের ২ নভেম্বর থেকে কার্যকরভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়।

আইনি প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত আদেশ

বিভাগীয় মামলা পরিচালনার পর অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের কাছে একাধিকবার ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও তাদের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে পুলিশের শৃঙ্খলা ও বিভাগীয় তদন্ত কমিটি তাদের বিরুদ্ধে পলায়ন ও অসদাচরণের অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা পায়।

আইন অনুযায়ী বিভাগীয় এ গুরুদণ্ড প্রদানের পূর্বে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতামত চাওয়া হলে কমিশনও বরখাস্তের পক্ষে মত দেয়। চূড়ান্তভাবে রাষ্ট্রপতির সদয় অনুমোদন লাভের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন জারি করলো।

এনএন/ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬