
নিউ ইয়র্ক, ২৫ সেপ্টেম্বর – ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের দ্বারা সৌদি আরবের বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্রমবর্ধমান হামলা এবং লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক নৌচলাচল ব্যাহত করার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্যরাষ্ট্রের বিরল ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই নিন্দা প্রস্তাব গৃহীত হয়।
একই দিনে রিয়াদের সুরক্ষায় এবং নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র (Mecca Pact) আওতায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধানেরা এক জরুরি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসছেন।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের যৌথ প্রতিক্রিয়া ও মূল বার্তা
নিরাপত্তা পরিষদের চলতি সভাপতি ও জাতিসংঘে নিযুক্ত ফরাসি প্রতিনিধি জেরোম বোনাফো যৌথ প্রেস বিবৃতিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের উদ্বেগ তুলে ধরেন:
হামলার কড়া নিন্দা: বেসামরিক নাগরিক, নারী, শিশু এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোয় হুথি হামলার তীব্র ধিক্কার।
সৌদির আত্মরক্ষা: আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সৌদি আরবের আত্মরক্ষার অধিকারের পূর্ণ সমর্থন।
নৌচলাচলের স্বাধীনতা: জাতিসংঘের সমুদ্র আইন (UNCLOS) মেনে লোহিত সাগর ও বাব-এল-মানদেব প্রণালীতে অবাধ বাণিজ্য নিশ্চিতের তাগিদ।
হামলা বন্ধের দাবি: হুথিদের অবিলম্বে সব সামরিক সংঘাত বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক বন্দিদের ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান।
ট্রিপাক্ষিক সেনাপ্রধান বৈঠক: মক্কা চুক্তির প্রথম বড় পরীক্ষা
গত জুলাই থেকে কার্যকর থাকা কৌশলগত বিরতি ভেঙে হুথিরা সৌদির বিরুদ্ধে নতুন করে আক্রমণ জোরদার করেছে। তারা বিশেষ করে সৌদির পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন ও বাণিজ্যিক নৌপথের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ইয়ানবু ও তায়েফের কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
এই সংকট নিরসনে গত ৭ আগস্টে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা চুক্তি’ (যার আওতায় যেকোনো এক দেশে হামলা তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে গণ্য হবে) কার্যকর করতে ত্রিদেশীয় সেনাপ্রধানেরা রিয়াদে বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন। আঙ্কারা থেকে তুর্কি সেনাপ্রধান ও প্রতিরক্ষা প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যেই রিয়াদের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
“সৌদি আরবে কোনো প্রকার উস্কানিমূলক আগ্রাসন বা হামলা সহ্য করা হবে না। নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সুরক্ষায় যৌথ প্রতিরক্ষা বলয় কঠোর পদক্ষেপ নেবে।” — মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র।
বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের এই নজিরবিহীন সর্বসম্মত নিন্দা এবং পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি ট্রিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণকে আরও জটিল ও কৌশলগত মোড়ে দাঁড় করিয়েছে।
এনএন/ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬




