বিদায়ের দিনে বিরল ডক্টরেট ও রিভার প্লেটের সম্মান: বিশেষ কার্ডে খোদাই হলো বিশ্বকাপ জয়ের ঐতিহাসিক তারিখ – DesheBideshe

বিদায়ের দিনে বিরল ডক্টরেট ও রিভার প্লেটের সম্মান: বিশেষ কার্ডে খোদাই হলো বিশ্বকাপ জয়ের ঐতিহাসিক তারিখ – DesheBideshe


বিদায়ের দিনে বিরল ডক্টরেট ও রিভার প্লেটের সম্মান: বিশেষ কার্ডে খোদাই হলো বিশ্বকাপ জয়ের ঐতিহাসিক তারিখ – DesheBideshe

বুয়েনোস আইরেস, ০৭ অক্টোবর – বিদায়ের সুর যখন এস্তাদিও মনুমেন্তালের বাতাসে, ঠিক তখনই চিরস্মরণীয় এক সম্মানে ভূষিত হলেন বিশ্ব ফুটবলের বরপুত্র লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। জাতীয় দলের নীল-সাদা জার্সি গায়ে শেষবার মাঠে নামার মাত্র কয়েক মুহূর্ত আগে তাকে সম্মানসূচক সদস্যপদ প্রদান করেছে আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাব রিভার প্লেট।

বেনিনের বিপক্ষে বিদায়ী ম্যাচের ঠিক আগমুহূর্তে মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে রিভার প্লেটের প্রেসিডেন্ট স্তেফানো দি কার্লো স্বয়ং মেসির হাতে তুলে দেন সম্মানসূচক সদস্যপদ কার্ড, স্মারক ফলক এবং নাম লেখা একটি ‘পবিত্র জার্সি’। শুধু রিভার প্লেটই নয়, এই অবিস্মরণীয় দিনে বুয়েনস আইরেস বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পান মহাতারকা মেসি।

ARG18122022′: কার্ডে অমর হয়ে রইল কাতার বিশ্বকাপের রাত

রিভার প্লেটের দেওয়া এই বিশেষ সদস্যপদ কার্ডটিতে ছিল চোখধাঁধানো এক চমক। সাধারণ সদস্য নম্বরের স্থানে কার্ডে বড় অক্ষরে লেখা হয়েছে—‘ARG18122022’। এই কোডটি কেবল একটি নম্বর নয়; এটি সেই ঐতিহাসিক দিন—১৮ই ডিসেম্বর ২০২২, যেদিন কাতার বিশ্বকাপে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিলেন অধিনায়ক মেসি।

স্মারক ফলকেও ক্লাবটির পক্ষ থেকে তাকে ‘বিশ্বচ্যাম্পিয়ন’ এবং মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে ‘অপরাজিত কিংবদন্তি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

“ফুটবলের জন্য ধন্যবাদ, লিওনেল মেসি। আপনি কেবল একজন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নন, আপনি জাতীয় ক্রীড়ার চূড়ান্ত প্রতীক।” — শ্রদ্ধা জানিয়ে নিজেদের অফিসিয়াল বার্তায় লিখেছে রিভার প্লেট।

রিভার প্লেট ও মেসির এক পুরোনো স্মৃতির গল্প

আর্জেন্টাইন পরাশক্তি রিভার প্লেটের সঙ্গে মেসির সম্পর্কের শিকড় অনেক গভীরে। ২০০০ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে বার্সেলোনায় পাড়ি জমানোর ঠিক আগে রিভার প্লেটের ট্রায়ালে অংশ নিয়েছিলেন কিশোর মেসি। নিজের বয়সী ছেলেদের সাথে খেলে এক ম্যাচেই করেছিলেন ৩-৪টি গোল! রিভার প্লেট কর্তৃপক্ষ তার গ্রোথ হরমোনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে রাজি হয়ে তাকে সই করাতে চেয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইনি ও সামাজিক জটিলতায় সেই পথ থমকে যায়।

এরপর সময় বদলেছে, বদলেছে ইতিহাস। তবে ঘরের মাঠ এস্তাদিও মনুমেন্তালে জাতীয় দলের হয়ে ২৮টি ম্যাচে অপরাজিত থাকার অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েছেন এলএমটেন। এই মাঠেই তিনি উদযাপন করেছেন চারটি প্রধান শিরোপার জয়।

বিদায়ের চূড়ান্ত বাঁশি বাজার আগে বুয়েনস আইরেসের মাটি আর ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের এমন রাজকীয় শ্রদ্ধাঞ্জলি মেসির ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ফুটবলযাত্রাকে পৌঁছে দিল এক অনন্য উচ্চতায়!

এনএন/ ০৭ অক্টোবর ২০২৬