প্রবীণদের মুখে স্বস্তির হাসি! বাড়ল ভাতা ও আওতা: মেট্রোরেল-রেলেও মিলছে বিশেষ ছাড় – DesheBideshe

প্রবীণদের মুখে স্বস্তির হাসি! বাড়ল ভাতা ও আওতা: মেট্রোরেল-রেলেও মিলছে বিশেষ ছাড় – DesheBideshe


প্রবীণদের মুখে স্বস্তির হাসি! বাড়ল ভাতা ও আওতা: মেট্রোরেল-রেলেও মিলছে বিশেষ ছাড় – DesheBideshe

ঢাকা, ০৮ অক্টোবর – দেশের প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এক বিশাল পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছরেই আরও ১ লাখ মানুষকে যুক্ত করে এখন দেশের মোট ৬২ লাখ প্রবীণ নাগরিক পাচ্ছেন বয়স্ক ভাতা। কেবল আওতাই বাড়েনি, একইসঙ্গে বৃদ্ধি করা হয়েছে ভাতার পরিমাণও!

বুধবার (৭ অক্টোবর) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ জানান, প্রবীণ জনগোষ্ঠী দেশের বোঝা নয়, বরং অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ। তাদের আত্মমর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা রক্ষা করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

ভাতা ও যাতায়াতে নতুন কী থাকছে?

ভাতাভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি: পূর্বে উপকারভোগীর সংখ্যা আছিল ৬০ লাখ, যা পর্যায়ক্রমে বাড়িয়ে ৬১ লাখ এবং চলতি বছর ৬২ লাখে উন্নীত করা হয়েছে।

ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি: ভাতাভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি মাসিক আর্থিক সহায়তার পরিমাণও কিছুটা বাড়ানো হয়েছে।

গণপরিবহনে বিশেষ ছাড়: রেলাসেবা ও মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন পাবলিক ট্রান্সপোর্টে প্রবীণ নাগরিকদের যাতায়াতের জন্য ২৫ শতাংশ ভাড়ায় বিশেষ ছাড় (ডিসকাউন্ট) সুবিধা কার্যকর রয়েছে।

কারা পাবেন এই ভাতা? Eligibility & Process

বয়সসীমা: মহিলাদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৬০ বছর এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে ৬৫ বছর বা তার বেশি।

বাস্তবায়ন ও সীমাবদ্ধতা: বয়সসীমা পার হলেই এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শুরু হয় না। নীতিমালার আলোকে যাচাই-বাছাই ও বাজেট বরাদ্দের ওপর ভিত্তি করে তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।

সচিব স্পষ্টভাবে স্বীকার করেন যে, বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও এখনো কিছু প্রবীণ নাগরিক আওতার বাইরে রয়ে গেছেন। তবে সরকারের সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যোগ্য শতভাগ মানুষকে এই সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনীতে নিয়ে আসার পরিকল্পনা অব্যাহত রয়েছে।

শুধু ভাতা নয়, চাই সমন্বিত প্রবীণবান্ধব সমাজ

প্রবীণদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞাকে রাষ্ট্রের কাজে লাগানোর ওপর জোর দিয়ে সচিব ড. আবু ইউছুফ বলেন, কেবল ভাতা প্রদানই যথেষ্ট নয়। ভবিষ্যতে তাদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ আবাসন, বিনোদন এবং সমাজে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করে একটি ‘সমন্বিত প্রবীণবান্ধব নীতি’ বাস্তবায়ন করা হবে।

একইসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, প্রবীণদের যত্ন ও সম্মান প্রদর্শনে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি পারিবারিক মূল্যবোধ ও সামাজিকভাবে এগিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি।

এনএন/ ০৮ অক্টোবর ২০২৬