
মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত দেশের অন্যতম পুরোধা সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদী। শনিবার বিকাল ৫টায় তাকে সমাহিত করা হয়।
এর আগে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর বনানীর ওল্ড ডিওএইচএস খেলার মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বন্ধু, স্বজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ীসহ সমাজের বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধিরা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় তাকে শেষ বিদায় জানান।
বনানীর ওল্ড ডিওএইচএস খেলার মাঠে জানাজার আগে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সম্পাদক বিশ্বদীপ দাশের বক্তব্য পড়ে শোনান প্রধান বার্তা সম্পাদক জাহিদুল কবির। প্রয়াতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশ্বদীপ দাশ বলেন, “তার রেখে যাওয়া আদর্শ এবং কাজ এগিয়ে নেওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব। আমাদের তিনি শিখিয়েছেন কঠিন প্রশ্ন করতে। চাপের মুখে মাথা নত না করতে। সত্য যতই অস্বস্তিকর হোক, মানুষের সামনে তা তুলে ধরতে।”
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর ভাতিজা তারাফ খালিদী বলেন, “আমার বাবা ২০১৯ সালে মারা যাওয়ার পর আমার চাচ্চু আমাদের বাবার মতো আগলে রেখেছেন। আমার স্কুল, কলেজে আমার চাচ্চুই ছিলেন আমার অভিভাবক। আমাদের জীবনে তার অবদানের কথা এই অল্প সময়ে বলে শেষ করা যাবে না।”
এরপর প্রয়াতের ছেলে ও বাংলাদেশ নিউজ ২৪ আওয়ার্স লিমিটেডের পরিচালক রাদ শারার খালিদীর বক্তব্য পড়ে শোনান তারাফ খালিদী।
রাদ শারার খালিদী বলেন, “পেশাগত জীবনেও আব্বুর কিছু আদর্শ ছিল, যেগুলোর সঙ্গে তিনি কখনো আপস করতে চাননি। তিনি বিশ্বাস করতেন সৎ, নির্ভীক এবং স্বাধীন সাংবাদিকতায়। তার কাছে সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা ছিল না; এটি ছিল একটি দায়িত্ব এবং বিশ্বাসের জায়গা। এই বিশ্বাসের কারণে তাকে জীবনে অনেক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়েও যেতে হয়েছে। এখানে উপস্থিত অনেকেই সেই অস্থির এবং কঠিন সময়গুলোতে তার পাশে ছিলেন। আমাদের পরিবার আপনাদের সেই ভালোবাসা, সাহস এবং সমর্থন কোনোদিন ভুলবে না।”
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর প্রতি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান তার সহকারী সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রাইসুল ইসলাম। ভারতের হাই কমিশনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রথম সচিব (রাজনৈতিক, প্রেস ও তথ্য বিভাগ) গোকুল বিমল কালা।
এ ছাড়া শ্রদ্ধা জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ, অভিনেতা তারিক আনাম খান, দৈনিক আগামীর সময় সম্পাদক মোস্তফা মামুন, আগামীর সময়ের নির্বাহী সম্পাদক এহসানুল হক বাবু, চ্যানেল আইয়ের চিফ এক্সিকিউটিভ এডিটর জাহিদ নেওয়াজ খান, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক ও সিইও শামসুর রহমান মোমেন, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক, কলাম লেখক চিররঞ্জন সরকার, গবেষক সালেক খোকন, এমআরডিআইয়ের হাসিবুর রহমান মুকুর, ইডাসের মৃত্যুঞ্জয় দাশ, বিবিসির সাংবাদিক কাদির কল্লোল, অভিনেত্রী নিমা রহমান, সাংবাদিক শাহরিয়ার করিম, আশরাফ কায়সার, মোহাম্মদ আলী সিদ্দীকী, বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ, জুলহাজ নুর, মানবাধিকারকর্মী দীপায়ন খীসা, অধ্যাপক সাদেকা হালিম, বিচারপতি আবু তাহের সাইফুর রহমান, সাংবাদিক গাজী নাসির উদ্দীন আহমেদ, জুলহাস রিপন, অভিনেতা ও নাট্যনির্দেশক মোহাম্মদ আলী হায়দার, সোহেল পারভেজ, রেজা ডিকেন, রাফে সাদনান আদেল ও মহাকাশ মিলন।
এ সময় প্রয়াতের সাবেক সহকর্মী মুনীরুল ইসলাম, নঈম তারিক, মাহমুদ জামান অভি, কাজী নাফিয়া রহমান, প্রকাশ বিশ্বাস, রুবি আহমেদ, রিয়াজুল বাশার, শাহরিয়ার, মহিউদ্দিন, মিন্টু চৌধুরী, রুবাইয়্যাৎ ও মুয়ীদসহ অনেকে শ্রদ্ধা জানান।
প্রসঙ্গত, ব্যক্তিগত সফরে লন্ডনে থাকা তৌফিক ইমরোজ খালিদী গত ১ অক্টোবর রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে সেইন্ট বার্থোলমিউ’স হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানান, তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। পরদিন স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর ৮ অক্টোবর জোহরের নামাজের পর পূর্ব লন্ডনের ব্রিকলেইন মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে মরদেহ নেওয়া হয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কার্যালয়ে। দুপুর ১২টা থেকে ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত সেখানে মরদেহ রাখা হয়। পরে তাকে বাসায় নেওয়া হলে পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা শেষবারের মতো তাকে দেখেন।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…




