ঠিক ওই মুহূর্তে যাদের সঙ্গে কথা হলো, তাদের মধ্য যে কী পরিমাণ রাগ, ক্ষোভ ছিলে, তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। আমার নিজেরই মনে হচ্ছিল, যদি দেশটা ছাড়তে পারতাম! অনেকে দেশের দূরদূরান্ত থেকে এসেছে। রংপুর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা—কোনো জায়গা বাকি নেই। অনেকের থাকার জায়গা নেই। ভোরে পৌঁছে রাস্তায় বসে পাঁচ–ছয় ঘণ্টা অপেক্ষা করেছে। কিছু নারী পরীক্ষার্থী দেখলাম ছোট বাচ্চা নিয়ে কী নিদারুণ বিড়ম্বনা পোহাচ্ছ। আমাদের এই ভোগান্তির দায় নেবে কে? পরবর্তী সময়ে নেওয়া পরীক্ষায় যে প্রশ্নপত্র ফাঁস হবে না, তার নিশ্চয়তা কে দেবে? প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীরা এবার যে আরও বেশি সতর্ক হয়ে অন্য উপায় অবলম্বন করবে না, তা ঠেকানোর নিশ্চয়তাই–বা কে দেবে?
সরকারি চাকরিরতে প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রক্সি, ঘুষ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের ধারণা, সব প্রশ্নপত্রই ফাঁস হয়। আমরা হয়তো দু-একটার খবর পাই, যেগুলোর জন্য পরীক্ষা স্থগিত হয়। প্রশ্নপত্র কীভাবে ফাঁস হচ্ছে, কারা জড়িত এগুলো বুঝতে বিজ্ঞানী হতে হবে না। হাজারো আবেদ আলী তার প্রমাণ। কীভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হলো, তা যথাযথ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে হবে। যারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য অভিযুক্ত, তাদের মাধ্যমে কী তদন্ত প্রতিবেদন আসবে, সেটা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে! তাই নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠন করে সত্য উদ্ঘাটন করতে হবে। তা না হলে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করতে আবার নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।




