২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় গৃহহীন হতে পারে ৪ কোটির বেশি মানুষ: জাতিসংঘের চরম সতর্কতা – DesheBideshe

২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় গৃহহীন হতে পারে ৪ কোটির বেশি মানুষ: জাতিসংঘের চরম সতর্কতা – DesheBideshe


২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় গৃহহীন হতে পারে ৪ কোটির বেশি মানুষ: জাতিসংঘের চরম সতর্কতা – DesheBideshe

নয়াদিল্লি, ১৬ অক্টোবর – জলবায়ু পরিবর্তনের করাল গ্রাসে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে কোটি কোটি মানুষের জীবিকা আজ মারাত্মক হুমকির মুখে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও তীব্র খরায় নিজেদের ভিটেমাটি এবং কৃষিজমি হারিয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে গৃহহীন হচ্ছেন। তবে সময়মতো সঠিক প্রযুক্তি ও সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে এই ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই সীমিত রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসনসংস্থার (আইওএম) মহাপরিচালক অ্যামি পোপ।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভারতের নয়াদিল্লি সফরকালে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই হুঁশিয়ারি ও পরামর্শ তুলে ধরেন তিনি।

জাতিসংঘের আইওএম প্রধানের বক্তব্যের মূল তথ্যসমূহ:

২০৫০ সালের মধ্যে চরম বিপর্যয়: আইওএম-এর প্রাক্কলন অনুযায়ী, জলবায়ু পরিস্থিতির অবক্ষয় রোধ না করা গেলে ২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ৪ কোটি ৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত (Internal/Climate Displacement) হতে পারেন।

হিমবাহ ধস ও গত আগস্টের নেপাল ট্র্যাজেডি: উদাহরণ হিসেবে পোপ গত ২৬ আগস্টের নেপালের ভয়াবহ পাহাড় ও হিমবাহ ধসের কারণে সৃষ্ট প্রাণঘাতী বন্যার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিয়েছিল আইওএম।

গ্রাম ছেড়ে শহরে পাড়ি ও তাপদাহের প্রভাব: জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে ফসল উৎপাদন ও গবাদিপশু পালন অসম্ভব হয়ে পড়ায় ভারতের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশগুলোতে গ্রামাঞ্চল ছেড়ে দলে দলে মানুষ শহরের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

অর্থায়নের তীব্র ঘাটতি: দুর্যোগ দেখা দিলে শত শত কোটি ডলার ক্ষয়ক্ষতি সামলাতে ব্যয় হয়। অথচ তার সামান্য অংশ আগেই দুর্যোগ সক্ষমতা বাড়াতে বিনিয়োগ করলে বিপুল মানবিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হতো।

নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের তাগিদ: জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিরাপদ ও বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান পোপ। অন্যথায় কর্মসংস্থানের ভুয়া প্রলোভন দেখিয়ে মানব পাচারকারী ও অবৈধ চক্রগুলো অসহায় মানুষকে শোষণের সুযোগ নেবে।

“মানুষ যখন খাদ্য উৎপাদন করতে পারে না, পরিবার কিংবা গবাদিপশুর নিরাপত্তা দিতে পারে না—তখন ভিটেমাটি ছাড় ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ থাকে না। তবে মানবিক বিপর্যয় ঘটার আগেই সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করাটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।” — অ্যামি পোপ, মহাপরিচালক (আইওএম)।

দক্ষিণ এশিয়ায় চরম ঝুঁকিতে বাংলাদেশ ও ভারত

উপকূলীয় অঞ্চল প্লাবিত হওয়া, নদীভাঙন ও ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বাংলাদেশসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়া বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বিপজ্জনক ফ্রন্টলাইনে অবস্থান করছে। সময় থাকতেই প্রয়োজনীয় তহবিল গঠন ও অভিযোজন প্রযুক্তি সম্প্রসারণের জোর দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবিদ ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।

এনএন/ ১৬ অক্টোবর ২০২৬