দেবদাস থেকে কাহানি

উৎসবের আবহ, সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে রহস্যের চূড়ান্ত উন্মোচন- হিন্দি সিনেমার একাধিক ছবিতে দুর্গাপূজা কেবল উৎসবের অনুষঙ্গ নয়, বরং কাহিনির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি।
চলচ্চিত্রে দুর্গাপূজা মানেই শুধু আলোকসজ্জা, ঢাকের শব্দ আর উৎসবের আনন্দ নয়। কখনো তা সম্পর্কের জটিলতা তুলে ধরে, কখনো সংঘাতের জন্ম দেয়, আবার কখনো কাহিনির মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সঞ্জয় লীলা বানসালি, প্রদীপ সরকার, সুজয় ঘোষ, বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানে ও করণ জোহরের পরিচালনায় নির্মিত পাঁচটি হিন্দি ছবিতে দুর্গাপূজার এমনই স্মরণীয় মুহূর্ত ধরা পড়েছে।
দেবদাস (২০০২)
সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘দেবদাস’-এ দুর্গাপূজার উৎসবেই প্রকাশ্যে আসে পার্বতী (ঐশ্বরিয়া রাই) ও চন্দ্রমুখীর (মাধুরী দীক্ষিত) সম্পর্কের এক গুরুত্বপূর্ণ দিক। দেবদাসের খোঁজ করতে গিয়ে দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। পরে পার্বতী নিজের জমিদারবাড়ির পূজায় চন্দ্রমুখীকে আমন্ত্রণ জানায়। উৎসবের আনন্দে দুজনের নাচের মুহূর্ত বিষাদে রূপ নেয়, যখন পার্বতীর পরিবারের এক সদস্য চন্দ্রমুখীর পরিচয় প্রকাশ করে দেন। ফলে দুর্গাপূজার আবহেই গল্পে তৈরি হয় নতুন সংঘাত।
পরিণীতা (২০০৫)
প্রদীপ সরকারের ‘পরিণীতা’ ছবিতে দুর্গাপূজা শেখর (সাইফ আলি খান) ও ললিতার (বিদ্যা বালান) সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। পূজার আবহে দুজনের ঘনিষ্ঠতা যেমন ফুটে ওঠে, তেমনই গিরিনের (সঞ্জয় দত্ত) আগমনে তৈরি হয় নতুন সমীকরণ। পূজামণ্ডপে গিরিনের ধুনুচি থেকে জ্বলন্ত নারকেলের ছোবড়া পড়ে গেলে ললিতা তা সরিয়ে দেয়। তার এই আচরণ শেখরের ঈর্ষা ও ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তোলে।
কাহানি (২০১২)
সুজয় ঘোষের থ্রিলার ‘কাহানি’-তে দুর্গাপূজার শেষ দিনেই ঘটে রহস্যের চূড়ান্ত উন্মোচন। নিখোঁজ স্বামীর খোঁজে কলকাতায় আসা বিদ্যা বাগচী (বিদ্যা বালান) নিজেকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করে গোয়েন্দা সংস্থার অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা বিশ্বাসঘাতক মিলন দামজিকে (ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত) সামনে আসতে বাধ্য করেন। শেষ পর্যন্ত প্রকাশ পায়, বিদ্যার আসল পরিচয় ও প্রতিশোধের পরিকল্পনা। মহিষাসুরের বিরুদ্ধে দেবী দুর্গার বিজয়ের প্রতীকী আবহে সাজানো এই সংঘাত ছবির সমাপ্তিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
লুটেরা (২০১৩)
বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানের ‘লুটেরা’ ছবির শুরুতেই দুর্গাপূজার আবহে ফুটে ওঠে বাংলার জমিদারবাড়ির ঐতিহ্য ও গ্রামীণ জীবন। জমিদার সৌমিত্র রায়চৌধুরীর (বরুণ চন্দ) বাড়িতে পূজার পাশাপাশি আয়োজন করা হয় যাত্রাপালার। সেখানে উপস্থিত জমিদারকন্যা পাখির (সোনাক্ষী সিনহা) হঠাৎ তীব্র কাশির ঘটনা দর্শককে তার শারীরিক অসুস্থতার ইঙ্গিত দেয়। এভাবেই উৎসবের আবহের মধ্য দিয়ে ছবির চরিত্র ও কাহিনির প্রেক্ষাপট প্রতিষ্ঠিত হয়।
রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি (২০২৩)
করণ জোহরের এই রোমান্টিক কমেডিতে দুর্গাপূজা হয়ে ওঠে রক্ষণশীল মানসিকতা ও প্রগতিশীল মূল্যবোধের সংঘাতের মঞ্চ। পূজামণ্ডপে ‘দোলা রে দোলা’ গানে রকি (রণবীর সিং) রানির বাবা চন্দন (তোতা রায়চৌধুরী), নিজের বাবা তিজোরি (আমির বশির) ও ঠাকুমা ধনলক্ষ্মীর (জয়া বচ্চন) সঙ্গে নাচে। ঘটনাটি মেনে নিতে না পেরে তিজোরি ও ধনলক্ষ্মী মণ্ডপ ছেড়ে চলে যান। পরে রানি (আলিয়া ভাট) তাদের মুখোমুখি হয়ে রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গির বিরোধিতা করে। ছবিতে দুর্গাপূজার এই দৃশ্য সামাজিক মূল্যবোধের পরিবর্তনের বার্তা তুলে ধরে।
এই পাঁচটি ছবিতে দুর্গাপূজা কখনো সম্পর্কের ভাঙাগড়া, কখনো রহস্য উন্মোচন, আবার কখনো সামাজিক পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। উৎসবের পরিচিত আবহকে গল্পের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার এই কৌশলই দৃশ্যগুলোকে দর্শকের মনে স্মরণীয় করে রেখেছে। টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…




