বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় নিয়োগ পেতে ভুয়া তথ্য! পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দুদকের – DesheBideshe

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় নিয়োগ পেতে ভুয়া তথ্য! পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দুদকের – DesheBideshe


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় নিয়োগ পেতে ভুয়া তথ্য! পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দুদকের – DesheBideshe

ঢাকা, ১৮ অক্টোবর – বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতো একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ পদে নিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে চাঞ্চল্যকর অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলো। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পেতে সিভিতে মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য দেওয়ার গুরুতর অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিলের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (১৮ অক্টোবর) এক জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান দুদকের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান।

মামলার নেপথ্য কাহিনি ও অভিযোগের পরিধি

চলতি বছরের গত ২০ মার্চ সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেছিল দুদক। মামলার মূল অভিযোগ দুটি ছিল অত্যন্ত গুরুতর:

ডব্লিউএইচও-তে ভুয়া তথ্য দিয়ে চাকরি: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য জমা দেওয়া জীবনবৃত্তান্তে (CV) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ‘অনারারি স্পেশালিস্ট/এক্সপার্ট’ হিসেবে কাজের সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করা হয়।

সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে অর্থ আত্মসাৎ: ন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কমিটি অন অটিজম এবং সূচনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রায় ২০টি ব্যাংক থেকে ৩৩ কোটি টাকা আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

ক্ষমতার অপব্যবহার ও জেনেভায় নথি পাঠানোর নেপথ্য

দুদকের অনুসন্ধানী ও তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক লোমহর্ষক চিত্র। ক্ষমতার চূড়ান্ত অপব্যবহার করে কীভাবে আন্তর্জাতিক সংস্থাকে প্রভাবিত করা হয়েছিল, তার একটি খতিয়ান তুলে ধরেছে দুদক:

স্বাভাবিক যাচাই-বাছাই বাধাগ্রস্ত করা: সিভিতে দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নথি পর্যালোচনা এবং প্র্রক্রিয়াগত যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ দেওয়া হয়নি। উল্টো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার ও তীব্র চাপ প্রয়োগ করে সেই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হয়।

সুইজারল্যান্ডে মিথ্যা তথ্য প্রেরণ: বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এবং জাতিসংঘের কার্যালয়ের মাধ্যমেই সেই ভুয়া তথ্যগুলো সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ডব্লিউএইচওর সদর দপ্তরে পাঠানো হয়। যার ফলশ্রুতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ লাভ করেন তিনি।

আইনি ধারা: পুতুলের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০ (প্রতারণা), ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত দল।

রাষ্ট্রের সুনাম ক্ষুণ্ণ ও প্রতিক্রিয়া

তদন্তে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিএসএমএমইউ বা দেশের কোনো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে ভুয়া অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট ব্যবহার করা কেবল ব্যক্তিগত দুর্নীতিই নয়, বরং এর মাধ্যমে গোটা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ও সুনাম দারুণভাবে ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। ক্ষমতার প্রভাবে তৎকালীন সময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হলেও ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর এখন আইনের খড়্গ নেমে এসেছে।

আমাদের ভাবনা: আন্তর্জাতিক সংস্থায় দুর্নীতির কালো ছায়া

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতো বিশ্বমানের সংস্থায় যদি ভুয়া তথ্য দিয়ে শীর্ষ পদে বসা যায়, তবে তা আন্তর্জাতিক নিয়োগ স্বচ্ছতার ওপর এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের এই চার্জশিট অনুমোদন দেশের বিচারব্যবস্থায় আইনের সমান প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এনএন/ ১৮ অক্টোবর ২০২৬