ইয়েমেনে হুতিদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: নিহত অন্তত ৫৩ সেনাসদস্য, রক্তাক্ত প্রশিক্ষণ শিবির – DesheBideshe

ইয়েমেনে হুতিদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: নিহত অন্তত ৫৩ সেনাসদস্য, রক্তাক্ত প্রশিক্ষণ শিবির – DesheBideshe


ইয়েমেনে হুতিদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: নিহত অন্তত ৫৩ সেনাসদস্য, রক্তাক্ত প্রশিক্ষণ শিবির – DesheBideshe

সানা, ২০ অক্টোবর – মধ্যপ্রাচ্যের নতুন করে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশে সরকারি বাহিনীর এক সামরিক শিবিরে ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। রক্তাক্ত এই হামলায় অন্তত ৫৩ জন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২০০ জন নতুন নিয়োগপ্রত্যাশী।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইয়েমেনের শাবওয়া প্রদেশের এক প্রশিক্ষণ শিবিরে এই প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। ঘটনার পরপরই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে এবং হামলার দায় স্বীকার করে নিয়েছে হুতিরা।

লাইন ধরে দাঁড়িয়েছিলেন তরুণরা, মুহূর্তেই নেমে এল মৃত্যু

ইয়েমেনি সামরিক সূত্র এবং প্রাদেশিক সরকারের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য নিয়োগ পাওয়া তরুণরা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীতে যোগদানের উদ্দেশ্যে শিবিরে প্যারেড ও প্রশিক্ষণের জন্য সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই হুতিদের ছোঁড়া ঘাতক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো একের পর এক শিবিরে এসে আঘাত হানে।

প্রাদেশিক সরকারের ক্ষোভ: শাবওয়া প্রাদেশিক সরকার এক বিবৃতিতে এটিকে “নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর চরম সামরিক উত্তেজনা এবং নগ্ন আগ্রাসন” বলে অভিহিত করেছে।

মৃত্যুপুরী সামরিক শিবির: আহত অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। ফলে নিহতের সংখ্যা সামনে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

ইরান সংঘাত ও ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা

চলতি বছরে ইরানকে ঘিরে তৈরি হওয়া আঞ্চলিক যুদ্ধের প্রভাবে ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ নতুন করে রূপ নিয়েছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে লড়াই অনেকটাই স্তিমিত হয়েছিল, এই হামলার পর তা কার্যত পুরোপুরি ধসে পড়ল।

হুতিদের শক্তিবৃদ্ধি: সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের প্রধান বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার পাশাপাশি লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ সংলগ্ন ভূখণ্ডে নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে।

ইরানি সহায়তার অভিযোগ: জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্ররা হুতিদের উন্নত অস্ত্র ও কারিগরি দক্ষতা যোগাচ্ছে। যদিও ইরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি ইয়েমেন সরকারের

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি এই নজিরবিহীন হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, হুতিরা রাজনৈতিক বা সামরিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়লেই এমন রক্তক্ষয়ী পথ বেছে নেয়।

অন্যদিকে, হুতিদের সামরিক মুখপাত্র দাবি করেছে, সৌদি কর্মকর্তারা পরিচালনা করেন এমন এক গোপন কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে তারা হামলাটি চালিয়েছে। তবে তাদের দাবিকৃত সৌদি কর্মকর্তাদের মৃত্যুর কোনো প্রমাণ তারা দিতে পারেনি এবং সৌদি সরকারও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শাবওয়া প্রাদেশিক সরকার অবিলম্বে বিমান প্রতিরক্ষা (Air Defense) ব্যবস্থা জোরদার করতে প্রেসিডেন্ট ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

এনএন/ ২০ অক্টোবর ২০২৬