
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক গড়ল গোলাম রাব্বানী ও জহিরুল ইসলামের যৌথ পরিচালনায় নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নিশি’।
প্রথম বাংলাদেশি চলচ্চিত্র হিসেবে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষার্থী চলচ্চিত্র উৎসব ‘ভিজিআইকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী চলচ্চিত্র উৎসব’-এ নির্বাচিত হয়েছে ছবিটি।
প্রযোজনা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া জানিয়েছে, রাশিয়ার বিখ্যাত গেরাসিমভ ইনস্টিটিউট অব সিনেমাটোগ্রাফি আয়োজিত উৎসবটির ৪৬তম আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে ‘নিশি’। বিশ্বের প্রাচীনতম চলচ্চিত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম এই প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে চলচ্চিত্রটির নির্বাচিত হওয়া বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গোলাম রাব্বানীর গল্প ও চিত্রনাট্যে নির্মিত ‘নিশি’তে উঠে এসেছে চা-বাগানের এক শ্রমিক পরিবারের বাস্তবতা, পানির সংকট এবং একটি শিশুর শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হওয়ার গল্প।
পানির অভাবে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায় চা-শ্রমিকের মেয়ে নিশির। অন্যদিকে, বাড়িতে একটি টিউবওয়েল বসিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নাবালিকা নিশিকে বিয়ে করতে চায় কাঠ ব্যবসায়ী লালচাঁন। এমন সামাজিক বাস্তবতা ও সংকটের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় চলচ্চিত্রটির কাহিনি।

ছবিটি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে নির্মাতা গোলাম রাব্বানী বলেন, “বাংলা সিনেমার ইতিহাসে ‘নিশি’ একের পর এক রেকর্ড গড়ছে, সত্যিই এটা আনন্দের খবর। এই অর্জন শুধু আমাকে নয়, আমাদের ফিল্ম ইতিহাসকে বিশ্বের দরবারে সমৃদ্ধ করবে।”
আগামী ১৬ থেকে ২০ নভেম্বর রাশিয়ার মস্কোতে অনুষ্ঠিত হবে উৎসবটি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ, গ্রিন ফিল্ম স্কুল অ্যালায়েন্স ও ইউনেসকো ঢাকার সহযোগিতায় নির্মিত হয়েছে ‘নিশি’। ছবিটির চূড়ান্ত সম্পাদনা, কালার গ্রেডিং ও সাউন্ডের কাজ সম্পন্ন হয়েছে পোল্যান্ডের বিখ্যাত লজ ফিল্ম স্কুলে।
চলচ্চিত্রটির চিত্রগ্রহণ করেছেন ওই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থী নাতালিয়া পুসনিক। সিলেটের একটি চা-বাগান ও এর আশপাশের এলাকায় ছবিটির শুটিং হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এর আগে সাফল্য পেয়েছে ‘নিশি’। প্রথম বাংলাদেশি চলচ্চিত্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫তম এমা অ্যাওয়ার্ড জয়ের পাশাপাশি গ্রিন মন্টেনিগ্রো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ১২তম আসরেও পুরস্কার অর্জন করে ছবিটি।
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ধারাবাহিক সাফল্যের মধ্য দিয়ে ‘নিশি’ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। একই সঙ্গে চলচ্চিত্রটির এই অর্জন দেশের তরুণ নির্মাতাদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…




