
ছবি: সংগৃহীত
🎧অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি, সামরিক সক্ষমতা জোরদার এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উদ্যোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নতুন একটি চুক্তি সই করেছে তুরস্ক, কাতার, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়া।
বুধবার (২১ অক্টোবর) কাতারের রাজধানী দোহায় দেশগুলোর প্রতিনিধিরা ‘বদর সমঝোতা স্মারক’ সই করেন বলে জানিয়েছে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, চার দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও গভীর করা এবং কৌশলগত অংশীদারত্ব উন্নয়নের অভিপ্রায় থেকেই এ সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এর আওতায় সামরিক উৎপাদন, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং সামরিক গবেষণা ও উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো হবে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রতিটি দেশের নিজস্ব সামরিক উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের সমন্বয় ও সক্ষমতা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি মিত্র ও বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোর সামরিক সরঞ্জাম ও প্রতিরক্ষা চাহিদা পূরণেও সহযোগিতা করা হবে।
চুক্তিটিকে অর্থনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছে মন্ত্রণালয়। তাদের মতে, এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে সহযোগিতা বাড়বে।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের শক্তিশালী অবস্থান এবং সামরিক সক্ষমতার কারণে দেশটি উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনীর অধিকারী তুরস্ক ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারেও সহায়তা করছে। কাতারে তুরস্কের একটি সামরিক ঘাঁটিও রয়েছে।
গত আগস্টে তুরস্ক পারমাণবিক অস্ত্রধারী পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে। ওই চুক্তি অনুযায়ী, কোনো একটি পক্ষের ওপর হামলাকে সব পক্ষের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রতিরক্ষা শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প বিভাগের প্রধান হালুক গোরগুন বলেছেন, নতুন সমঝোতা স্মারকটি যৌথ উৎপাদন ও প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে কৌশলগত সহযোগিতা গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি করবে।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, প্রযুক্তি বিনিময়, যৌথ উন্নয়ন এবং নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা শক্তিশালী করা টেকসই প্রতিরক্ষা শিল্পের মূল ভিত্তি। তুরস্ক এমন অংশীদারত্বকে গুরুত্ব দেয়, যা শুধু তৈরি সামরিক সরঞ্জাম কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সংশ্লিষ্ট দেশের মানবসম্পদ ও শিল্প অবকাঠামোর উন্নয়নেও ভূমিকা রাখে।
গোরগুন আরও বলেন, বদর সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে তুরস্ক, কাতার, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার পারস্পরিক পরিপূরক সক্ষমতাকে বাস্তব যৌথ প্রকল্পে রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে চার দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিনিময়, যৌথ উৎপাদন এবং সামরিক শিল্পের উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে চুক্তির আওতায় নির্দিষ্ট কী কী প্রকল্প নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…




