খোঁজ দ্য দরিদ্র

খোঁজ দ্য দরিদ্র

জরিপকারী বোঝালেন, সবাইকে একইভাবে দরিদ্র বলা যায় না। কেউ দরিদ্র, কেউ অতিদরিদ্র, কেউ ঝুঁকিপূর্ণ, কেউ আবার দরিদ্র হওয়ার ঝুঁকিতে।

লোকটি জানতে চাইলেন, ‘আমি কোন শ্রেণিতে?’

‘তথ্য বিশ্লেষণের পর জানা যাবে।’

‘আমার ঘরে তিন দিন ধরে চাল নেই। এটা কোন শ্রেণি?’

‘সেটাও যাচাই করতে হবে।’

লোকটি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন, ‘আমার দারিদ্র্যের ধরন প্রতিদিন একই। শুধু বাজারের দর বদলায়!’

লোকটির মনে আশা জাগল। এত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন, এত তথ্য দিয়েছেন—এবার নিশ্চয়ই কিছু একটা হবে।

—আমাকে খুঁজে পেলে কী হবে?

—আপনার তথ্যের ভিত্তিতে দারিদ্র্য বিমোচনের পরিকল্পনা করা হবে।

—কবে?

—তথ্য বিশ্লেষণের পর।

—তারপর?

—প্রতিবেদন তৈরি হবে, সুপারিশ করা হবে, বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

লোকটি মাথা চুলকে বললেন, ‘আপনাদের ধাপ এত বেশি যে আমার দারিদ্র্য এক ধাপ থেকে আরেক ধাপে যেতে যেতেই অবসরে চলে যাবে!’

জরিপকারী বললেন, ‘আপনি বিষয়টিকে হাস্যরসের সঙ্গে নিচ্ছেন।’

‘না ভাই, পেটের সঙ্গে নিচ্ছি। পেটকে পরিকল্পনা খাওয়াতে পারি না, প্রতিবেদন খাওয়াতে পারি না। পেট শুধু ভাত চেনে।’

জরিপকারী কলম বন্ধ করলেন। এই উত্তরটি ফরমে লেখার জায়গা নেই।