
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাবে চলতি বছরের শেষ নাগাদ বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে জ্বালানির দাম ৩২ শতাংশ এবং খাদ্যপণ্যের দাম ১০ শতাংশ বাড়তে পারে। এতে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ও খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিশ্বব্যাংকের ‘কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক’ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিশ্বব্যাংকের উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোসে বলেন, পণ্যের বাজার একই সময়ে একাধিক বড় ধাক্কার মুখে পড়ছে। তিনি বলেন, ‘জ্বালানির বাড়তি খরচ ও বাণিজ্যে বাধার কারণে নানা ধরনের পণ্যের দাম বাড়ছে। এতে মূল্যস্ফীতি ও খাদ্য পাওয়ার অনিশ্চয়তা আরও বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও কমে যেতে পারে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে খাদ্যপণ্যের দাম ১০ শতাংশ বাড়তে পারে। ২০২৭ সালে আরও ৭ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সংঘাতের কারণে খাদ্যশস্য সরবরাহে বাধা, এল নিনোর প্রভাব এবং জ্বালানি ও সারের উচ্চমূল্য এর প্রধান কারণ।
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়াগত ঘটনা, যার প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসে। এর ফলে কোথাও বন্যা, কোথাও খরা এবং কোথাও অতিরিক্ত গরমের কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে এসব পরিস্থিতি যুক্ত হলে খাদ্য উৎপাদনকারীদের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর জ্বালানির দাম ৩২ শতাংশ বাড়তে পারে। তবে ২০২৭ সালে দাম কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পূর্বাভাসে ধরে নেওয়া হয়েছে, ইরান ও ইউক্রেনের সংঘাত নতুন করে তীব্র হবে না।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও সারের দাম বেড়েছে। সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ওপর হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বাধাগ্রস্ত করে। তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও সার পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে বিঘ্ন বিশ্ববাজারে সরবরাহের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
প্রতিবেদনে আরও সতর্ক করা হয়েছে, এল নিনো অত্যন্ত শক্তিশালী হলে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে কৃষ্ণসাগরে খাদ্যশস্যের ওপর হামলা বাড়লে অথবা ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম আরও বেড়ে গেলে খাদ্যসংকটের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ২০২৭ সালে অপরিশোধিত তেলের গড় দাম প্রতি ব্যারেল ১০৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে। একই পরিস্থিতিতে খাদ্যপণ্যের দাম মূল পূর্বাভাসের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি হতে পারে। এতে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর্যায়কেও ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে ৮৭০ কোটি ডলারের জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আয়হান কোসে বলেন, সবচেয়ে দরিদ্র মানুষদের সুরক্ষা দেওয়া এবং ঋণের বড় বোঝায় থাকা নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে সহায়তা করা অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে ২০২৬ সালে বিশ্বে তেলের সরবরাহ ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। মহামারির সময় বাদ দিলে চার দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এটি সরবরাহের সবচেয়ে বড় পতন হতে পারে।
এ বছর তেলের ব্যবহার ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। তেলের চাহিদা কমার কারণে বিশ্ববাজারে দাম আরও বেশি বাড়ার চাপ কিছুটা কমতে পারে। তেলের ব্যবহার কমার এই পূর্বাভাস করোনা মহামারি ও ১৯৮০ সালের তেলসংকটের পর অন্যতম বড় পতনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…




