
ছবি: সংগৃহীত।
তালেবান সরকার আফিম উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত পোস্ত চাষ নিষিদ্ধ করলেও আফগানিস্তানে আফিম উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। একইসাথে, দেশটিতে পপি চাষের জমির পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফগানিস্তান থেকে আফিমসহ অন্যান্য মাদকের পাচার প্রতিবেশী দেশগুলোতেও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি)।
ইউএনওডিসি জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় আফগানিস্তানে পোস্ত চাষের আওতাভুক্ত জমির পরিমাণ ৩৩০ শতাংশ বেড়েছে। আর, আফিম উৎপাদন পাঁচ গুণ বেড়ে ১৫০০ টনে পৌঁছেছে।
সংস্থাটির মতে, ২০২২ সালে তালেবান নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর এটিই আফগানিস্তানে পোস্ত চাষ ও আফিম উৎপাদনের প্রথম উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। কিছু দরিদ্র আফগান কৃষক তাদের পরিবারের জীবিকা নির্বাহের জন্য আবারও পোস্ত চাষে ফিরে গেছেন।
নজরদারি ও পপি চাষ ধ্বংসের অভিযান এড়াতে কৃষকেরা নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। গম ও বার্লির মতো শস্যের মধ্যে পপি চাষ, দেয়ালঘেরা জমিতে আবাদ এবং বীজ বপন ও ফসল কাটার সময় পরিবর্তন করছেন তারা। হেলমান্দ প্রদেশে ৯০ শতাংশের বেশি পপিক্ষেত আড়ালে রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২১ সালের অগাস্ট মাসে তালেবান ক্ষমতা দখল করে। এরপর ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে, ধর্মীয় কারণ দেখিয়ে তারা পপি চাষ এবং সব ধরনের মাদকদ্রব্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
এর আগে কয়েক দশক ধরে আফগানিস্তান ছিল বিশ্বের অবৈধ আফিমের বৃহত্তম উৎস। নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে, বিশ্বব্যাপী মোট সরবরাহের প্রায় ৮০ শতাংশ এখান থেকেই আসত।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) কাবুলে এক অনুষ্ঠানে মাদকবিরোধী অভিযানে অগ্রগতির দাবি করে তালেবান সরকার। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
তালেবানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাদকবিরোধী বিভাগের উপমন্ত্রী আবদুল রহমান মুনির বলেন, ২০২৬ সালে মাদকবিরোধী ২৫ হাজার ১১৬টি অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে আফিম ও গাঁজা চাষের ২৬ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি ধ্বংস করা হয়েছে এবং ১০ হাজার ৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ছাড়া ৩০১টি মাদক প্রক্রিয়াজাতকরণ পরীক্ষাগার, রাসায়নিক ট্যাবলেট তৈরির দুটি কারখানা এবং মদ উৎপাদনের ১৫টি স্থাপনা বন্ধ করার দাবি করেন তিনি। কৃষকদের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা এবং বৈধ কৃষিপণ্য উৎপাদনে সহায়তার ওপরও গুরুত্ব দেন এই তালেবান কর্মকর্তা।
এদিকে আফগানিস্তান থেকে উৎপন্ন মাদক আঞ্চলিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাশিয়াসহ প্রতিবেশী কয়েকটি দেশ এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
তবে তালেবানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি বলেন, আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলোতে মাদক চাষ ও পাচারের বিস্তার তাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। মাদক নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সহযোগিতাকে রাজনীতিকরণের বাইরে রাখতে হবে।
সব মিলিয়ে, আফগানিস্তানে পোস্ত চাষের পুনরুত্থান শুধু মাদক নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থতার বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দারিদ্র্য, খাদ্যসংকট, জলবায়ুর চাপ এবং কৃষকদের বিকল্প জীবিকার অভাব।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…




