
ছবি: সংগৃহীত
স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় ৬৯ জন নিহত হওয়ার এক সপ্তাহ পর পদত্যাগ করেছেন দেশটির পরিবহনমন্ত্রী ওস্কার পুয়েন্তে। মঙ্গলবার তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে আগামী ২৯ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় আগাম সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্তও জানিয়েছেন তিনি। চলতি শতকে ইউরোপের অন্যতম ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে ঘটনাটিকে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।
দুর্ঘটনার পর দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্কের ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ‘নিরলসভাবে’ কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন পুয়েন্তে। তবে দুর্ঘটনা এবং চলতি বছরের শুরুর দিকে ঘটে যাওয়া আরেকটি রেল বিপর্যয় স্পেনের আসন্ন নির্বাচনী প্রচারে প্রভাব ফেলেছে। ওই নির্বাচনে জনমত জরিপে পিছিয়ে রয়েছেন সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।
দুর্ঘটনার পর কয়েকবারই পদত্যাগের সম্ভাবনা নাকচ করেছিলেন পুয়েন্তে। তবে মঙ্গলবার আইনপ্রণেতাদের সামনে দীর্ঘ শুনানি শেষে তিনি বলেন, ‘আমি শুধু পরিবহনমন্ত্রীর পদ থেকেই সরে দাঁড়াচ্ছি না, ২৯ নভেম্বরের আগাম সাধারণ নির্বাচনে প্রার্থীদের তালিকা থেকেও নিজের নাম প্রত্যাহার করছি।’
এর কয়েক ঘণ্টা আগেই এক সংবাদ সম্মেলনে রেল নিরাপত্তা বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেছিলেন তিনি। সেখানে পুয়েন্তে বলেছিলেন, উচ্চগতির রেল ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা অর্জন ও পুনরুদ্ধারে সরকার নিরলসভাবে কাজ করবে।
তবে ডানপন্থী বিরোধী দল ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন তার ভূমিকার সমালোচনা করেছে। বিরোধীরা তার পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিল। তাদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার সব দায় একটি নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের কর্মীর ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছেন পরিবহনমন্ত্রী।
গত বুধবার মাদ্রিদ থেকে প্রায় ৮০ মাইল দক্ষিণে উর্দা গ্রামের বাইরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রেল সংস্থা রেনফের একটি ট্রেন বেসরকারি স্প্যানিশ রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইরিওর একটি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ৬৯ জন নিহত হন।
দুর্ঘটনার পর রেল নিরাপত্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এরই মধ্যে পরিবহনমন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনা স্পেনের নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…




