
ঢাকা, ০৪ নভেম্বর – আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) কর্মব্যস্ত সকালে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী হলো রাজধানীর শাহ আলী থানার বেড়িবাঁধ এলাকা। কাজের তাগিদে সকালে বাসা থেকে বের হওয়া চারজন মানুষের জীবন থমকে গেল এক নিমেষেই। যাত্রীবাহী বাস ও লেগুনার সজোরে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই দু’জন নারী ও দু’জন পুরুষসহ চারজনের করুণ মৃত্যু হয়েছে।
যেভাবে ঘটল এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরের মিডিয়া সেল কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সকাল ঠিক ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে শাহ আলী থানার বেড়িবাঁধ এলাকার নবাবেরবাগ অংশে ঘটে এই বিপর্যয়। বেপরোয়া গতিতে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস এবং বিপরীতমুখী লেগুনার সজোরে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের ধাক্কায় লেগুনাটি চুরমার হয়ে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত যানের ভেতর থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে। তবে বিস্ময়কর হলেও সত্যি, ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে—এমন বিধ্বংসী সংঘর্ষের পরও আর কোনো যাত্রী আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। নিহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।
যাতায়াত স্থবির, এলাকায় শোকের ছায়া
সকালের ব্যস্ত সময়ে ঢাকার বেড়িবাঁধের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এমন করুণ পরিণতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও শোকের আবহ তৈরি হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় মানুষ দুর্ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়, যার ফলে ওই সড়কে কিছুক্ষণ যান চলাচল বিঘ্নিত হয়।
পরবর্তীতে শাহ আলী থানা-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের যৌথ প্রচেষ্টায় দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলোকে সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। শাহ আলী থানা-পুলিশ নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ—চালকের অসতর্কতা নাকি গতির প্রতিযোগিতা—তা অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।
বেপরোয়া সড়কের মূল্য আর কত?
রাজধানীর সীমানা বেড়িবাঁধ সড়কগুলোতে ছোট আকৃতির লেগুনা ও ভারি বাস-ট্রাকের বেপরোয়া চলাচল নিয়ে অভিযোগ বহুদিনের। ওভারটেকিং আর মাত্রাহীন গতির প্রতিযোগিতা যে কীভাবে একটি পরিবারের স্বপ্ন নিমেষেই গুঁড়িয়ে দিতে পারে, নবাবেরবাগের এই রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনাই তার করুণ বাস্তব চিত্র।
এনএন/ ০৪ নভেম্বর ২০২৬




