পেশাগত সম্বোধনের ক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্য কেবল স্যার-ম্যাডাম ডাকায় সীমাবদ্ধ নয়। লক্ষণীয় যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নারী শিক্ষিকদের অনেক সময় আপা বলে ডাকলেও পুরুষ শিক্ষকেরা কখনোই ভাই হন না, অন্তত আমি এমনটি হতে দেখিনি। বাংলাদেশে নারীদের আপা ডাকার ব্যাখ্যা হলো—নারী কোমল, স্নেহময়ী, কাছে টেনে নেন। এর মাধ্যমে যেমন একদিকে নারীত্বের একটা স্টেরিওটাইপ তৈরি হয়, অন্যদিকে নারী পেশাজীবীদের পেশাদার গাম্ভীর্যকে লঘু করা হয়—কিছুটা এক ঢিলে দুই পাখি মারার মতো।
বাংলাদেশে নারীমাত্রই স্যার হতে চান না। পুরুষতন্ত্রের সঙ্গে আপনি নারী না পুরুষ, তার সম্পর্ক নেই। একজন পুরুষ নারীবাদী মানুষ হতে পারেন, আবার একজন নারী পুরোদস্তুর পুরুষতন্ত্রের ধ্বজাধারী হতে পারেন। আমি এবং আমার মতো অনেকেই মনে করেন না যে স্যার না হলে আমাদের সম্মান কমে যাবে, কারণ আমরা পুরুষকে সামাজিক সম্মানের মানদণ্ড মনে করি না। কাজেই, যেসব পুরুষতান্ত্রিক নারীরা সেভাবে ভাবেন, তাদের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ আলাদাভাবে বিবেচনার দাবি রাখে, এখানে অতিসরলীকরণ এবং অতিসাধারণীকরণ করা যাবে না।



