বিজিবির সব ইউনিটে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন | বাংলাদেশ

বিজিবির সব ইউনিটে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন | বাংলাদেশ

<![CDATA[

প্রতি বছরের মতো এবারও যথাযোগ্য মর্যাদা এবং উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

রোববার (২৬ মার্চ) দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রত্যুষে পিলখানা সদর দফতরসহ সারা দেশে বিজিবির সব ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

এরপর বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম নাজমুল হাসান পিলখানাস্থ ‘সীমান্ত গৌরব’-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় বিজিবির একটি সুসজ্জিত দল ‘গার্ড অব অনার’ দেয়। এ ছাড়া ভোরে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠানে বিজিবি মহাপরিচালক অংশগ্রহণ করেন।

দিবসের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ফজর নামাজের পর বিজিবি সদর দফতরসহ সারা দেশে বিজিবির সব রিজিয়ন, প্রতিষ্ঠান, সেক্টর ও ইউনিটের মসজিদগুলোতে জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি, বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের শাহাদতবরণকারী সদস্যসহ মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের আত্মার শান্তি এবং বিজিবির উত্তরোত্তর অগ্রগতি ও একাত্মতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পিলখানাস্থ কেন্দ্রীয় মসজিদে মহাপরিচালকসহ বিজিবির সব কর্মকর্তা, জুনিয়র কর্মকর্তা, অন্যান্য পদবির সেনা এবং বেসামরিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন। দিবসটি উপলক্ষ্যে সন্ধ্যায় বিজিবি সদস্যদের মাঝে উন্নতমানের ইফতারি ও খাবার পরিবেশন করা হয়।   

আরও পড়ুন: স্বাধীনতা দিবসে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৩ উদযাপন উপলক্ষে সারা দেশে বিজিবির বিভিন্ন স্থাপনায় ‘স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়। বিজিবি সদর দফতর, পিলখানাস্থ সীমান্ত সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে বিজিবি মহাপরিচালক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সবার উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট শাহাদতবরণকারী তার পরিবারের সব সদস্য, মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সব বীর শহীদ এবং বিজিবির ২জন বীরশ্রেষ্ঠসহ আত্মোৎসর্গকারী ৮১৭ জন বীর শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান বিজিবি মহাপরিচালক।

তিনি বলেন, আজ বাঙালি জাতির জন্য একটা গর্বের দিন। আজকের এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। বিজিবির মতো ঐতিহ্যবাহী এই বাহিনীর জন্যও দিনটি অত্যন্ত গর্বের। সেদিন বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা তৎকালীন ইপিআরের ওয়ারলেসের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দেয়া হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর এই মহান বাণী আপামর জনসাধারণকে জাগ্রত করেছিল। যার ফলশ্রুতিতে পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছিল আমাদের স্বাধীনতা।

বিজিবি মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী’ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সবসময়ই অগ্রভাগে থেকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাসহ দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করে আসছে। ভবিষ্যতেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং স্বাধীনতার মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে বিজিবি অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে-এটাই হোক আজকের দিনের শপথ।

তিনি ব্যক্তি স্বার্থকে ঊর্ধ্বে রেখে সামগ্রিকভাবে দেশের উন্নতির জন্য, দেশের মানুষের কল্যাণে এবং বিজিবির সমৃদ্ধি ও সুনাম বৃদ্ধির জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন: মুক্তিযোদ্ধাদের গাওয়া জাতীয় সংগীত ফেসবুকে দিলেন রাদওয়ান মুজিব

এদিকে, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বেনাপোল-পেট্রাপোল, বাংলাবান্ধা-ফুলবাড়ী ও আখাউড়া-আগরতলা আইসিপিগুলোতে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি-বিএসএফ) জমকালো যৌথ ‘রিট্রিট সিরিমনি’ প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। ‘রিট্রিট সিরিমনি’ প্যারেডে বিজিবি-বিএসএফ- এর কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় দর্শনার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত শিশুদের জন্য বিজিবি জাদুঘর উম্মুক্ত রাখা হয়। সন্ধ্যার পর পিলখানাসহ সারা দেশে বিজিবির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহে সীমিত আকারে বর্ণিল আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়।

]]>