বাংলাদেশ পরবর্তী ম্যানুফ্যাকচারিং হাব? | বাংলাদেশ

বাংলাদেশ পরবর্তী ম্যানুফ্যাকচারিং হাব? | বাংলাদেশ

<![CDATA[

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। যদিও রফতানির বাজারে এক্ষেত্রে আরও বৈচিত্র্য আনতে হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। স্মার্টফোন, কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স, অটোমোবাইল তথা গাড়ি নির্মাণসহ বিভিন্ন শিল্পেও বেশ অগ্রগতি হয়েছে যা বাংলাদেশের একটি ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হয়ে ওঠারই ইঙ্গিত।

সরকারি নীতি ও সংস্কারের সমন্বয়ে গত এক দশকে এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। তবে এই অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে এবং বাংলাদেশকে বিশ্বের পরবর্তী ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে গড়ে তুলতে দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা তথা লাল ফিতার দৌরাত্ম্য, জ্বালানি সংকটের মতো চ্যালেঞ্জগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।

এক সময় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনেকেই হাসি-ঠাট্টা করতেন। যেমন স্বাধীনতার এক বছর পর ১৯৭২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে একটি ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। 

কিন্তু স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরে বাংলাদেশ আর কিসিঞ্জারের সেই ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ নেই। আজ বাংলাদেশ উন্নয়ন ও অগ্রগগির রোল মডেল হিসেবে পরিণত হয়েছে। যেখানে গত এক দশক ধরে জিডিপির ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যক্ষ করছে বিশ্ব। 

১৯৭৩ থেকে ১৯৭৮ পর্যন্ত সময়কালে যেখানে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৪.১ শতাংশ, সেখানে ২০০৮ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত সময়কালে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৬.২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এরপর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে যা ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে যায় আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ শতাংশে। 

বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশ যখন নানা অর্থনৈতিক সংকটে হাবুডুবু খাচ্ছে তখন বিশ্বব্যাপী মহামারি ও এরপর ইউক্রেন ও রাশিয়া যুদ্ধ সত্ত্বেও রফতানিমুখী নানা পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতিতে নিজের শক্তির জানান দিচ্ছে। 

যখন সারা বিশ্বের সব কারখানা পরিবেশবান্ধব হতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে, তখন বাংলাদেশ ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগলাইন নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ‘গ্রিন গার্মেন্ট’ বা পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানার দেশে পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশ।

 

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় পোশাক রফতানিকারক দেশ: প্রধানমন্ত্রী

 

১৯৯১ সালে যে বাংলাদেশকে সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হওয়া থেকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল, সেই বাংলাদেশ আজ স্মার্টফোন, কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স ও অটোমোবাইল উত্পাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জনে সক্ষম হয়েছে। 

বর্তমানে বাংলাদেশের সামনে বিশ্বের অন্যতম ম্যানুফ্যাকচারিং হাব তথা অর্থনৈতিক কেন্দ্র হয়ে ওঠার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে প্রধান যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রফতানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা তথা রফতানিমুখী নতুন নতুন পণ্য উৎপাদন। কারণ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে তৈরি পোশাক সেক্টরের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা রয়েছে। 

সমস্যাগুলোর মোকাবিলায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং অনেকটা এগিয়েও গেছে। এক্ষেত্রে স্মার্টফোন তৈরি শিল্পে বাংলাদেশের অগ্রগতি উল্লেখ করার মতো। ২০১৭ সালে দেশের প্রথম স্মার্টফোন উৎপাদন কারখানা উদ্বোধন করে দেশীয় প্রযুক্তি কোম্পানি ওয়ালটন। বর্তমানে ওয়াল্টনের কারখায় বছরে ৪০ লাখ ফিচার ফোন ও ৪ লাখ স্মার্টফোন তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের তথ্য মতে, দেশে বর্তমানে ১২টি কোম্পানির মোবাইল ফোন তৈরির লাইসেন্স রয়েছে। এছাড়া স্যামসাং, সিম্ফনি, ভিভো, লাভা ও অপোর মতো বিদেশি কোম্পানিকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। 
দ্বিতীয় দ্রুতবর্ধমান খাত হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে কনজ্যুমার ইলেক্ট্রনিক্স তৈরি শিল্প।

 

আরও পড়ুন: রফতানি বাড়লেও, নেতিবাচক দিকে দেশের পোশাক খাত

 

আগে পুরো বাজার বিদেশি কোম্পানিগুলোর হাতে থাকলেও ওয়াল্টন ও ট্রান্সকম ইলেক্ট্রনিক্স ও র‌্যাংস ইলেক্ট্রনিক্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব কারখানা প্রতিষ্ঠার এ খাতে বেশ অগ্রগতি অর্জন করেছে। কনজ্যুমার ইলেক্ট্রনিক্স খাত একটা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় অংশীদারদের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশে ব্যাপক পরিমাণে বিনিয়োগ করেছে স্যামসাং ও এলজি’র মতো বিদেশি খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানগুলো। 

এলজি এয়ারকন্ডিশন ও এলইডি টিভির মতো পণ্য উৎপাদনে ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি কারখানা প্রতিষ্ঠায় ১০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। একই ধরনের স্মার্ট টিভি উৎপাদনে ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে দক্ষিণ কোরীয় কোম্পানি স্যামসাং। এছাড়া সিলেটের বঙ্গবন্ধু হাই-টেক পার্কে হোম ও কিচেন অ্যাপ্লায়ান্স পণ্য উৎপাদনে ৮ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়ে র‌্যাংস ইলেক্ট্রনিক্স। 

বাংলাদেশের গাড়ি নির্মাণ শিল্পও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের কারখানাতেই এখন দক্ষিণ কোরিয়ার বিখ্যাত হুন্দাই ব্র্যান্ডের গাড়ি সংযোজন শুরু হয়েছে। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে ছয় একর জায়গায় স্থাপিত কারখানায় এই গাড়ি সংযোজন হচ্ছে। সরকারি নীতি ও সংস্কারের সমন্বয়ে গত এক দশকে এসব অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।

এছাড়া স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথোরিটি (বিএইচটিপিএ) নামে নতুন একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে।  

দ্য কনফ্লুয়েন্সে প্রকাশিত বাংলাদেশ টেলিভিশন ডিবেট চ্যাম্পিয়ন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর শিক্ষার্থী শাহ আদান উজ্জামানের প্রবন্ধ থেকে সংক্ষেপে অনূদিত। 

 

 

 

 

 

]]>