<![CDATA[
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ভেসে আসা হাজার হাজার মরা জেলিফিশ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই বলে জানিয়েছেন সমুদ্র বিজ্ঞানীরা। বুধবার (২৯ মার্চ) সৈকতের কলাতলী ও ডিভাইন পয়েন্টে মরা জেলিফিশ ভেসে আসার পর রাতে এসব জেলিফিশের নমুনা সংগ্রহ করতে যায় বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট-বোরির একদল বিজ্ঞানী। দলটির নেতৃত্বে ছিলেন বোরির কেমিক্যাল ওশানোগ্রাফি বিভাগের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ভেসে আসা জেলিফিশ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই। লোবোনিমুইডিস রোবোস্টাস বা সাদা নুইন্না প্রজাতির এই জেলিফিশের সংস্পর্শে গেলে কোন ধরণের ক্ষতি হয় না। তবে আরও বিস্তারিত গবেষণার জন্য তারা নমুনা সংগ্রহ করছেন।
এই প্রসঙ্গে মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সৈকতে ভেসে এসেছে এসব জেলিফিশ।’
আরও পড়ুন: সৈকতে ভেসে আসল হাজার হাজার মৃত জেলিফিশ
বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্স ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দর বলেন, ‘কলাতলি সৈকতে ভেসে আসা মরা জেলিফিশ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এদের কর্ষিকায় মানুষের জন্য ক্ষতিকর কোন বিষ নেই। পৃথিবীতে প্রায় ২৫০০ প্রজাতির জেলিফিশ চিহ্নিত হয়েছে। এর অধিংকাশই মানুষের শরীরের বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে। এমনকি কিছু কিছু জেলিফিশের কর্ষিকার সংস্পর্শে আসলে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। আবার বিশ্বব্যাপী ১২টি জেলিফিশ শনাক্ত করা হয়েছে যেগুলো খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
তিনি বলেন, তবে আমাদের সৈকতে এখন পর্যন্ত যে দুটি প্রজাতির জেলিফিশের ব্লুম লক্ষ্য করা গেছে সেগুলির কোনটিই বিষাক্ত নয় এবং মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। এসব জেলিফিশ খালি হাতে স্পর্শ করলেও কোন ক্ষতিকর প্রভাবের সম্ভাবনাই নাই। ফলে বিষয়টি গবেষকদের ভাবনার বিষয় হলেও পর্যটকদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’
তিনি আরও বলেন, জোয়ারে এসব মরা জেলিফিশের অধিকাংশই আবার সাগরে ভেসে যাবে। আর যেগুলো পরবর্তী জোয়ারেও ভেসে না গিয়ে থেকে যাবে সেগুলোও ৭-৮ ঘণ্টার মধ্যে সৈকতের বালিয়াড়িতে মিশে যাবে এবং লাল কাঁকড়াসহ সৈকতের বালিয়ারীতে বসবাস করা অপরাপর সামুদ্রিক প্রাণীরা এদের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করবে।
আরও পড়ুন: আবারও টানা জালে আটকা পড়ল শত শত জেলিফিশ
বুধবার সকাল থেকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে জোয়ারের ঢেউয়ের সঙ্গে ভেসে আসে হাজার হাজার মরা জেলিফিশ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জোয়ারের সময় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কলাতলী পয়েন্টের আশেপাশে এসব মরা জেলিফিশ ভেসে আসার সত্যতা নিশ্চিত করেন সী সেইফ লাইফ গার্ড সংস্থার সিনিয়র লাইফ গার্ড কর্মী জয়নাল আবেদীন ভুট্টো।
তিনি বলেন, ‘বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সৈকতের কলাতলী পয়েন্ট হাজার হাজার মৃত জেলিফিশ বালুতে আটকে থাকতে দেখা গেছে। এসব মাছের মধ্যে কোনোটা আকারে ছোট, কোনোটা বড়।’
উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের ৩ ডিসেম্বর, ১১ নভেম্বর ও অগাস্ট মাসের শুরুতে দুই দফায় অসংখ্য মরা জেলিফিশ ভেসে এসেছিলো।
]]>


