ভেনামি চিংড়িতে আশা দেখছেন চাষিরা | বাংলাদেশ

ভেনামি চিংড়িতে আশা দেখছেন চাষিরা | বাংলাদেশ

<![CDATA[

দুই দফায় পরীক্ষামূলক সাফল্যের পর দেশে বাণিজ্যিকভাবে ভেনামি চিংড়ি চাষের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এই চিংড়ির উৎপাদন বাগদা ও গলদার চেয়ে চারগুণ বেশি। এতে সময় ও খরচও কম। এ অবস্থায় চিংড়ি চাষে আশা দেখছেন খামারি ও চাষিরা। তারা বলছেন, আগামী বছর থেকে চিংড়ির উৎপাদন ও রফতানি দুটোই বাড়বে।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইউরোপের বাজারে ভেনামি চিংড়ির ভালো চাহিদা রয়েছে। ভারত, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, চীনসহ এশিয়ার অনেক দেশ কয়েক বছর ধরেই এ চিংড়ি চাষ করছে। এ অবস্থায় শুধুমাত্র গলদা ও বাগদা রফতানি করে আন্তর্জাতিক বাজারে পিছিয়ে পড়ছিল বাংলাদেশ।

 

২০২১ ও ২০২২ সালে দু’বছর খুলনার পাইকগাছায় পরীক্ষামূলকভাবে ভেনামি চিংড়ি চাষে সফলতা পান খামারিরা। দেখা যায়, বাগদা থেকে অন্তত ৪০ দিন আগে অর্থাৎ মাত্র ৮০ দিনে ভেনামি চিংড়ি বিক্রির উপযোগী হয়। উৎপাদন চারগুণেরও বেশি, আর খরচ অর্ধেকেরও কম।

 

আধা নিবিড় পদ্ধতিতে বাগদার উৎপাদন যেখানে হেক্টর প্রতি সর্বোচ্চ তিন হাজার কেজি, সেখানে ভেনামির উৎপাদন কমপক্ষে ১২ হাজার কেজি। সাফল্যজনক পরীক্ষার আলোকে ২৯ মার্চ এ চিংড়ি চাষের অনুমোদন দেয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এতে খুশি খুলনা অঞ্চলের ঘের মালিক ও চিংড়ি চাষিরা।

 

যশোরের এমইউসি ফুড গত বছরও পাইকগাছায় পরীক্ষামূলক ভেনামি চিংড়ি চাষ করেছিল। এবারও তারা বাণিজ্যিকভাবে এ চিংড়ি চাষের জন্য আবেদন করেছে।

 

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি সুরেন্দ্র মন্ডল বলেন, আমরা ‍দুই বছর পরীক্ষামূলক চাষ করে সফলতা পেয়েছি। এখন সরকার এটাকে বাণিজ্যিকভাবে চাষের অনুমোদন দিয়েছে, এতে আমরা খুশি। এখন আমরা বাণিজ্যিকভাবে চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদের পুকুর প্রস্তুতির কাজ প্রায় সম্পন্ন। ঈদের পর পোনা এনে বটিয়াঘাটায় চারটি পুকুরে চাষ শুরু করবো।

 

ভেনামি চিংড়ি চাষে সাফল্য পেয়েছেন খুলনার চাষিরা  

 

ভেনামি চিংড়ির দু’টি পরীক্ষামূলক চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন কনসালটেন্ট তপন বিশ্বাস। এবারও বটিয়াঘাটায় ভেনামি চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন।

 

তিনি বলেন, নিয়ম মেনে ভেনামি চিংড়ি চাষ করা গেলে এটা অনেক বেশি উৎপাদন সম্ভব, খরচও অনেক কম। সরকার এটাকে অনুমোদন দেয়ায় এখন আমরা আরও বেশি করে পুকুরে ভেনামি চাষ করতে পারবো। এরজন্য আমরা পুরোপুরি প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করি গত দুইবারের থেকেও এবার বেশি সফল হবো।

 

ফাহিম সি ফুডের প্রতিনিধি মো. মিলন বলেন, সরকারকে অনেক ধন্যবাদ আমাদের দাবি মেনে ভেনামি চাষের অনুমোদন দেয়ায়। আমরা আশা করি প্রান্তিক পর্যায়ে আমরা আরও বেশি চিংড়ি উৎপাদন করতে সক্ষম হবো।

 

খুলনা নর্থ ফুডের মালিক প্রফুল্ল কুমার রায় বলেন, দেশের বাইরে ভেনামি চিংড়ির চাহিদা প্রচুর। তবে আমরা সেই বাজার ধরতে পারছিলাম না। এবার অনুমোদন পাওয়ায় চিংড়ি উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে। এটা আমাদের রফতানি বাজারকে আরও বড় করতে সহায়তা করবে।

 

বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী বেলায়েত হোসেন বলেন, বাগদা ও গলদা চিংড়ি রফতানি করে আমরা অন্য দেশের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছিলাম। এখন খুলনা অঞ্চলে আমরা ব্যাপকভাবে ভেনামি চিংড়ি চাষ করতে পারবো। উৎপাদন বাড়লে আমাদের রফতানিও বাড়বে। আর তাতে ক্রমাগত নিন্মমুখী হওয়া চিংড়ির রফতানি বাজার আবারও চাঙা হয়ে উঠবে। এ জন্য তিনি সরকার এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানান।

 

ভেনামি চিংড়ি চাষে পুকুর প্রস্তুতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা 

 

ভেনামি উৎপাদনে চাষিদের প্রশিক্ষণ দেয়াসহ সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নেয়ার কথা জানায় মৎস্য বিভাগ। খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব পাল বলেন, সরকার ভেনামির পরীক্ষামূলক চাষের সফলতায় সন্তুষ্ট। এ কারণে বাণিজ্যিকভাবে চাষের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ভেনামির উৎপাদন বৃদ্ধিতে মৎস্য বিভাগ সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে চাষিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে, মৎস্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকিও চলবে বলে জানান তিনি।

 

এদিকে ভেনামি চিংড়ি চাষের জন্য এখন পর্যন্ত ১২টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। গত বছর খুলনা অঞ্চল থেকে চিংড়ি রফতানি হয় ১৫ হাজার মেট্রিক টন।

]]>