এরদোয়ানের কর্তৃত্ববাদী শাসনের হাত থেকে রক্ষা পেতে বিরোধী মতের অনেকে তুরস্ক থেকে সুইডেনে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন। এরদোয়ানের অভিযোগ হলো, সুইডেন ‘সন্ত্রাসীদের’ আশ্রয় দিচ্ছে। সমস্যা হলো এরদোয়ানের শাসনের বিরোধিতা যাঁরা করেন, সবাই তাঁর কাছে সন্ত্রাসী। অর্থনীতি থেকে শুরু করে মানবাধিকার, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা—সব ক্ষেত্রেই তিনি তুরস্কে একধরনের দুর্বল ব্যবস্থা চালু করেছেন।
একটি স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ছাড়া বিদেশে আশ্রয় নেওয়া তুরস্কের নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর আবেদনের আইনগত ভিত্তি আছে কি না, সেটা নিরূপণ করা অসম্ভব। এমনকি সুইডেনের বর্তমান পার্লামেন্টের একজন আইনপ্রণেতাকে (ইরানি বংশোদ্ভূত কুর্দি) তাদের কাছে সমর্পণের দাবি জানিয়েছে আঙ্কারা। সুইডেন কেন, কোনো গণতান্ত্রিক দেশের পক্ষেই তুরস্ক যে দাবি জানিয়েছে তার বেশির ভাগটা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। সুইডেন শুধু একজন মাদক বিক্রেতাকে তুরস্কে ফেরত পাঠাতে সম্মত হয়েছে এবং কুর্দিদের কাছে যাতে অর্থ সহজে না পৌঁছায়, সে জন্য নিয়মবিধি কঠোর করেছে।
কিন্তু এরদোয়ান এটা বুঝতে পারেন না যে অপরাধীদের প্রত্যর্পণে ক্ষেত্রে তুরস্কের পক্ষ থেকে তারা সুইডেনকে যে অনুরোধ করেছে, সেটা একটা প্রতারণাপূর্ণ অবস্থান। কেননা সুইডেনের পক্ষ থেকে আঙ্কারাকে বেশ কয়েকবার অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে পলাতক আসামি, মাদক বিক্রেতা, সন্দেহভাজন খুনি যাঁরা তুরস্কে আশ্রয় খুঁজছেন, তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। কিন্তু তুরস্ক সেটা করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।

