‘অতীতের ক্ষত বয়ে বেড়াতে চাই না’- গ্রেপ্তারকাণ্ডে সরব পরীমনি | চ্যানেল আই অনলাইন

‘অতীতের ক্ষত বয়ে বেড়াতে চাই না’- গ্রেপ্তারকাণ্ডে সরব পরীমনি | চ্যানেল আই অনলাইন

প্রায় পাঁচ বছর আগে র‍্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা নিয়ে এবার সবচেয়ে খোলামেলা বক্তব্য দিলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। দীর্ঘ এক ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট বনানীর বাসা থেকে তাকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এবং বিশেষ মহলের স্বার্থে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলেন।

একই সঙ্গে রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি জানতে চেয়েছেন, হারিয়ে যাওয়া সম্মান, মানসিক শান্তি ও জীবনের সেই দিনগুলো কি আর কখনো ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব?

শুক্রবার গভীর রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টের শুরুতেই র‍্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানান পরীমনি। সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে দেওয়া তার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে অভিনেত্রী লেখেন, দীর্ঘ সময় অভিযান চালানোর নামে নাটকীয়তার পর তৎকালীন র‍্যাব প্রধান ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশে তাকে অন্যায়ভাবে, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এবং বিশেষ মহলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

পরীমনির ভাষ্য, পরে একটি মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় এবং টানা ২০ দিন কারাগারে রাখা হয়। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা তার জীবনকে এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যা ‘আল্লাহ আর আমি ছাড়া পৃথিবীর আর কারও পক্ষে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়।’ বলে মন্তব্য করেন।

পরী লেখেন, “সত্য একদিন না একদিন প্রকাশিত হয়। সময় লাগতে পারে, কিন্তু সত্যকে চিরদিন চাপা রাখা যায় না।”

নিজেকে এখনও ওই ঘটনার ভুক্তভোগী উল্লেখ করে পরীমনি বলেন,“গ্রেপ্তারের দিন থেকে আজ পর্যন্ত আমি সেই ঘটনার একজন ভুক্তভোগী হয়েই জীবন কাটাচ্ছি। যেভাবে আমাকে অপদস্থ করা হয়েছে, আমার সম্মান, নৈতিকতা এবং চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে। রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীকে ব্যবহার করে একজন সাধারণ নারী শিল্পীর জীবনকে যেভাবে বিপর্যস্ত করা হয়েছে, আমি শুধু চাই ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এমন অভিজ্ঞতার শিকার না হন।”

পোস্টে প্রতিশোধ নয়, সত্য ও ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়ে পরী লেখেন,“আমি কোনো ক্ষোভ বা প্রতিশোধের কথা বলতে চাই না। আমি শুধু সত্য, ন্যায়বিচার এবং মানবিকতার পক্ষে কথা বলতে চাই।”

রাষ্ট্রের উদ্দেশে একাধিক প্রশ্নও ছুড়ে দেন এই অভিনেত্রী। তিনি লেখেন,“এবার হয়তো রাষ্ট্রীয় সেই সাজানো মামলা থেকে মাননীয় আদালত আমাকে অব্যাহতি দিবেন। কিন্তু আমার সেই দিনগুলো কি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব? যে জীবন, যে সম্মান, যে মানসিক শান্তি আমি হারিয়েছি, তা কি আর কখনো ফিরে পাব? মানুষের মনে আমাকে নিয়ে যে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত ধারণা তৈরি করা হয়েছে, রাষ্ট্র কি তার দায় নেবে? রাষ্ট্রের কাছে আমি এই প্রশ্নগুলোর জবাব চাইলে কি দিতে পারবেন?”

“আমি কখনো চাইনি আমার পরিচয় একজন বিতর্কিত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। আমি সব সময় একজন শিল্পী হিসেবে মানুষের ভালোবাসা নিয়েই বেঁচে থাকতে চেয়েছি। কিন্তু একটি ঘটনার অভিঘাত আমার জীবনকে এমনভাবে বদলে দিয়েছে, যার দ্বায়ভার আমাকে আজও বহন করতে হচ্ছে।” মন্তব্য করেন পরী।

রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা ও জবাবদিহিতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি লেখেন, ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এ ধরনের অন্যায়ের শিকার না হন। রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থার ভিত্তি হওয়া উচিত ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা।

কঠিন সময়ে পাশে থাকা পরিবার, সহকর্মী, বন্ধু, সাংবাদিক এবং ভক্তদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান পরীমনি। তাদের ভালোবাসা ও সমর্থনই তাকে বারবার ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অতীতের তিক্ততা পেছনে ফেলে নতুন করে বাঁচার প্রত্যয়ের কথাও উঠে আসে তার পোস্টের শেষ দিকে। তিনি লেখেন,“আমি অতীতের ক্ষত বয়ে বেড়াতে চাই না। আমি মুক্ত আকাশে পরীর মতো করেই উড়তে চাই। আমি বাঁচতে ভালোবাসি আর আমার কাজ, আমার সন্তান, আমার পরিবার এবং আমার দর্শকদের ভালোবাসা নিয়েই বাকি জীবন বাঁচতে চাই।”

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে পরীমনিকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। পরে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। মামলাটি বর্তমানে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এ সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া ঢাকা বোট ক্লাবের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া দুটি মামলাও বিচারাধীন।