অপেক্ষা বাড়ল আর্সেনালের, টানা দ্বিতীয়বার ইউরোপসেরা পিএসজি | চ্যানেল আই অনলাইন

অপেক্ষা বাড়ল আর্সেনালের, টানা দ্বিতীয়বার ইউরোপসেরা পিএসজি | চ্যানেল আই অনলাইন

২০০৫-০৬ মৌসুমে বার্সেলোনার বিপক্ষে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল আর্সেনালের। ২০ বছর পর দ্বিতীয়বার ফাইনালে ওঠেও খালি হাতে ফিরতে হল গানারদের। পিএসজির বিপক্ষে প্রথমার্ধে লিড পেলেও দ্বিতীয়ার্ধে হারায়। অতিরিক্ত সময় গড়িয়ে টাইব্রেকারে নির্ধারিত হয় ম্যাচের ফলাফল। আর সেখানেই ভাগ্য সহায় হয়নি মিকেল আর্তেতা শিষ্যদের। ৪-৩ ব্যবধানে জিতে টানা দ্বিতীয়বার ইউরোপসেরা মুকুট দখলে নিয়েছে লুইস এনরিকের পিএসজি।

প্রায় ১০ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল গড়ায় টাইব্রেকারে। এরআগে ২০১৫-১৬ মৌসুমে শেষবার টাইব্রেকারে ফলাফল এসেছিল রিয়াল মাদ্রিদ ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ম্যাচে। ১-১ ড্রয়ের পর ৫-৩ ব্যবধানে জিতে শিরোপা ঘরে তোলে রিয়াল।

হাঙেরির বুদাপেস্টে পুসকাস অ্যারেনায় এবার টাইব্রেকে প্রথম মিসটা করে আর্সেনাল। এচেভেরি এজের নেয়া দ্বিতীয় শটটি গোলবারের বাঁদিক দিয়ে বেরিয়ে গেলে এগিয়ে যায় পিএসজি। অবশ্য পিএসজির নেয়া তৃতীয় শটটি ঠেকিয়ে দেন আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়া। এরপর গানারদের নেয়া পঞ্চম শটটি ঠেকান সোফেনোভ। গ্যাব্রিয়েল ম্যাগেলহেসের নেয়া শটটি বাঁ দিকে ঝাপিয়ে ফেরান পিএসজি গোলরক্ষক। এরপরই শিরোপ উল্লাসে মাতে ফরাসি ক্লাবটি।

এর আগে ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে আর্সেনালকে গোল এনে দিয়েছেন হাভার্টজ। দ্বিতীয়ার্ধে ৬৫ মিনিটে গতআসরের চ্যাম্পিয়নদের সমতায় ফেরান ডেম্বেলে।

ম্যাচের শুরু থেকে শেষ অবধি পুরো সময় জুড়ে রক্ষণভাগে মনোযোগ রেখে খেলেছে আর্সেনাল। গতবারের চ্যাম্পিয়নরা বল দখলে আধিপত্য দেখায় ম্যাচ জুড়েই। প্রায় ৭৫ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রাখে। বিপরীতে প্রায় ২৫ শতাংশ বল দখলে রাখে গানাররা।

প্রথমার্ধে প্রায় ৭৭ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখেও সুবিধা আদায় করতে পারেনি। বিপরীতে ২৩ শতাংশ বল দখলে রেখে গোলমুখে এটি শট নিয়ে একটি থেকেই সুবিধা আদায় করে গানাররা। অন্যদিকে পিএসজির নেয়া চারটি শটের একটিও লক্ষ্যে ছিল না।

ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে মার্কিনিউসের ক্লিয়ারেন্স ট্রোসার্ডের গায়ে লেগে সরাসরি চলে আসে হাভার্টজের পায়ে। বল নিয়ে বাঁ দিক দিয়ে দ্রুত গতিতে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। সামনে তখন কেবল ছিলেন গোলরক্ষক সাফোনভ। বক্সের কোণাকুণি ও বেশ কঠিন একটা কোণ থেকে গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে বুলেট গতিতে জালে বল পাঠান হাভার্টজ।

সমতায় ফিরতে বেশ কয়েকবার আক্রমণও করেছিল পিএসজি। তবে আর্সেনাল রক্ষণ ভাঙা সম্ভব হয়নি ফরাসি ক্লাবটির। শেষ অবধি ১-০ গোলে পিছিয়ে বিরতিতে যেতে হয়েছে তাদের।

বিরতি থেকে ফিরেও রক্ষণে মনোযোগ দেয় আর্সেনাল। তবে ৬২ মিনিটে ভুল করে বসেন ক্রিস্টিয়ান মসকুয়েরা। পেনাল্টি এরিয়া খভিচা কভারাটসখেলিয়াকে ফাউল করে বসেন গানার ডিফেন্ডার। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। পরে অবশ্য ভিএআর এর সাহায্যও নিতে হয়েছে। শেষ অবধি রেফারির সিদ্ধান্তই বহাল থাকে। ম্যাচের ৬৫ মিনিটে পেনাল্টিতে ডেভিড রায়াকে পরাস্ত করে পিএসজিকে সমতায় ফেরান ডেম্বেলে।

এরপর দুদলই একাধিকবার চেষ্টা করে লিড আদায় করতে। তবে ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচের মূল সময়। তাতে অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় খেলা। সেখানেও ফলাফল না আসায় পরে টাইব্রেকারে নির্ধারিত হয় ম্যাচের ভাগ্য।