অসহায় দিন কাটছে কাটিং ও ফিটিং মাস্টারদের | বাণিজ্য

অসহায় দিন কাটছে কাটিং ও ফিটিং মাস্টারদের | বাণিজ্য

<![CDATA[

ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে শপিংমল ও মার্কেটগুলো। বিভিন্ন দোকান ঘুরে ক্রেতারা পছন্দের পোশাক কিনে শরীরের সঙ্গে মানানসই ও নিজস্বতা আনতে ছুটতেন কাটিং ও ফিটিং মাস্টারদের (দর্জি) কাছে। কিন্তু দর্জিরা বলছেন, গার্মেন্টসগুলো প্যান্ট চিকন ও শর্ট করে ফেলায় এবার আয় নেই তাদের।

সরেজমিন রাজধানীর নিউ সুপার মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, দোকানগুলোর পাশেই সেলাই মেশিনে পোশাক কাটিং ও ফিটিংয়ের কাজ করছেন দর্জিরা। ক্রেতাদের দেহের মাপ অনুযায়ী ঈদের জন্য কেনা নতুন পোশাক কেটে ফিটিং করছেন এসব কাটিং ও ফিটিং মাস্টার।

 

কথা হয় বেশ কয়েকজন কাটিং ও ফিটিং মাস্টারের (দর্জি) সঙ্গে। তারা জানান, এখন রেডিমেড পোশাক সাইজ অনুযায়ী পাওয়া যায়। তাই আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে সেলাইয়ের কাজ। এতে বিপাকে পড়েছেন তারা।

 

আরও পড়ুন: বঙ্গবাজারের চাপ পড়েনি নিউমার্কেটে

 

দেড় যুগ এ পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকা হযরত আলী বলেন, এ বছর বাজারের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। আগে প্যান্ট অনেক লম্বা ও চওড়া ছিল। তবে এখন প্যান্ট চিকন ও শর্ট করে ফেলছে গার্মেন্টসগুলো। ফলে এখন আর প্যান্ট কাটার প্রয়োজন পড়ে না খুব একটা। পাশাপাশি শার্টও পাওয়া যায় সাইজ অনুযায়ী।

 

তিনি আরও বলেন, গত বছর এই সময়ে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা আয় হলেও এ বছর সেটি নেমে এসেছে হাজারের নিচে। প্রতিবছর রোজার শুরুর দিকে দৈনিক ১ হাজার টাকার উপরে আয় হতো। তবে এ বছর প্রথম ১০ রোজায় ২০০ টাকা বা কোনোদিন কাজই হয়নি। এখন দৈনিক আয় হচ্ছে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা।
 

দর্জিরা খুব বিপদে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, মাসে দোকান ভাড়া দিতে হয় ছয় হাজার টাকা। কাজ না থাকায় ভাড়ার টাকা দিতে কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে পরিবার নিয়ে চলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

 

আরেক দর্জি মো. রিয়াজ জানান, ১২ বছর ধরে নিউমার্কেটে প্যান্ট সেলাইয়ের কাজ করছেন তিনি। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর বেচাবিক্রি নেই বললেই চলে। এখন দোকানগুলো প্যান্টের সাইজ ছোট করে ফেলায় কাটার প্রয়োজন পড়ে না।

 

আরও পড়ুন: যশোরে ঈদ বাণিজ্য নিয়ে শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা

 

তিনি আরও বলেন, শুরুর দিকে প্রতিটি প্যান্ট কাটানোর মজুরি ছিল ৩০ টাকা। এখন সেটি বেড়ে ৫০ টাকা হয়েছে। তবে টাকার পরিমাণ বাড়লেও ক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়ায় মোট আয় কমে গেছে।

 

এতে সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে। ফলে স্বল্প আয়ে সংসার চলছে না।

 

দর্জিরা কষ্টে থাকলেও ক্রেতারা বলছেন, এখন মার্কেটগুলোতে সব ধরনের পোশাকই সাইজ অনুযায়ী পাওয়া যায়। ফলে নেই কাটানোর বাড়তি ঝামেলা। এতে কমেছে খরচ।

]]>