<![CDATA[
আগুন নিয়ন্ত্রণে বীরত্বের প্রতীক ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। যেকোনো দুর্ঘটনার উদ্ধারকাজে নির্ভীক ও অকুতোভয় এই সৈনিকেরাই নিজের জীবন বিপন্ন করে ঝাঁপিয়ে পড়েন উদ্ধারকাজে। কাজ করতে গিয়ে প্রায় সময় তারা আহত হন। তেমনি নিউমার্কেটের ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণেও আহত হয়েছেন এই ফায়ার ফাইটাররা।
রাজধানীর নিউ সুপার মার্কেটের আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ছাড়াও আহত হয়েছেন অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। অগ্নিকাণ্ডে আহত ও অসুস্থ্যের মোট সংখ্যা ৪৬ জন। আহত ও অসুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে ২১ জন দোকান মালিক ও কর্মচারী, ১৩ জন ফায়ার সার্ভিসের কর্মী, ৯ জন স্বেচ্ছাসেবক, একজন বিমানবাহিনীর সদস্য, একজন সাংবাদিক ও একজন রিকশাচালক।
এর মধ্যে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দেয়া হয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১১ জন সদস্য ও ২ জন স্পেশাল ইউনিটের আনসার ব্যাটেলিয়ন সদস্যকে।
তাদের খোঁজখবর নিতেই সময় সংবাদের এই প্রতিবেদক হাজির হন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। সেখানে গিয়ে কথা বলেন তাদের সঙ্গে। শোনেন অভিজ্ঞতার গল্প।
এমনই একজন ফায়ার সার্ভিসের হেড কোয়ার্টারের স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম সুমন। তিনি বলেন, আগুনের খবর পেয়েই আমরা স্পেশাল গাড়িগুলো নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। যাওয়ার পর আমরা ৩ তলাতে আগুন দেখতে পাই। এরপর আমরা মার্কেটের চারপাশ দিয়ে কাজ শুরু করি। যাতে আগুনটা ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য আমরা কেউ ডান দিক থেকে, কেউ বাম দিক থেকে কাজ শুরু করি। আর আমি ওভারব্রিজের সামনের দিক থেকে কাজ করি।
আরও পড়ুন : ‘আমার অসিলায়ও যদি কিছু জিনিস বাঁচে’
তিনি বলেন, নিউমার্কেটের আগুনে প্রচণ্ড ধোঁয়া ও হিট ছিল। পুরো মার্কেটে কোনো ভেন্টিলেশন (অবাধে বায়ু চলাচল) ব্যবস্থা ছিল না। যার কারণে ধোঁয়া বের হতে পারছিল না। যদি মার্কেটে জানালা বা খোলা কোনো জায়গা থাকতো তাহলে ধোঁয়াটা বের হয়ে যেতে পারতো। কিন্তু প্রত্যেকটা দোকান ছিল বন্ধ। এতে ধোঁয়া বের হতে না পেরে আশেপাশেই ঘুরপাক খাচ্ছিল। এ জন্য আমাদের কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছিল। পরে আমাদের ফায়ার ফাইটাররা তালা ভেঙে সাটার খুলে পানি দিচ্ছিল। এভাবে অনেক কষ্ট করে আমাদের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়।
আহত হবার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রোজা রেখে সেই সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছি। ধোঁয়ায় নিশ্বাস নেয়া যাচ্ছিল না। আগুন নিয়ন্ত্রণে যে পানি দেয়া হয়েছে সেই পানিটাও প্রচণ্ড গরম। পুরো মার্কেটে ভয়ংকর অবস্থা। এত পরিমাণে তাপ ছিল যে শরীর পুড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। এ জন্য একটা টিম সামনে যাচ্ছে আর পেছন থেকে আরেকটা টিম তাদের পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিচ্ছিল। আপনি বিশ্বাস করবেন না, পানি দিয়ে ভিজিয়ে দেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তা আবার শুকিয়ে যাচ্ছিল, এতো ভয়ংকর তাপ ছিল। এক পর্যায়ে রোজাটাও রাখতে পারিনি। পানি খেয়ে আবার উদ্ধার কাজ শুরু করি। এর মধ্যে কামরুজ্জামানসহ কয়েকজন ফায়ার ফাইটার অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন তাদের উদ্ধার করতে আমি যাই। উদ্ধার করতে করতে একটা সময় হঠাৎ আমার মাথাটা ঘুরে ওঠে। আমি নিচে নামতে না নামতেই তিন চার বার বমি করি। এর পরেই অচেতন হয়ে পড়ি।
আরও পড়ুন : স্বপ্ন পুড়ে গেছে পারভেজের
তিনি বলেন, মূলত সবাই অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমাদের কেউ কিন্তু পুড়ে যায়নি। কারণ আমরা সবাই পিপিই পড়ে উদ্ধার কাজ করেছিলাম।
উদ্ধার কাজ করতে গিয়ে কি কি সমস্যায় পড়েন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা জাতি হিসেবে অনেক আন্তরিক। সবাই চায় সাহায্য করতে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে যার যে কাজ তাকে সেটা করতে দেয়া উচিত। আগুন নিয়ন্ত্রণে আমাদের কাছে যে ইকুইপমেন্ট ও দক্ষতা আছে তা কিন্তু অন্যদের নেই। তাই আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজটা আমাদের ওপরে ছাড়লেই আমরা আরও সহজ ও ভালোভাবে কাজ করতে পারি। স্থানীয় মানুষ যদি নিজেরা ঝাঁপিয়ে না পড়ে আমাদের পানির সোর্স, জলাশয় বা পুকুর কোথায় আছে, মার্কেটের কোথায় দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করা যায়, কোথায় কী আছে এমন তথ্যগত সহায়তা দেন তাহলেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আমরা অতি দ্রুত কাজ শুরু করতে পারি। কিন্তু মানুষজন যেভাবে জড়ো হয়ে থাকেন তাতে আমরা আমাদের গাড়ি নিয়ে ঠিকমতো ঢুকতেই পারি না। উৎসুক জনতার কারণে আমরা যদি ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থলে ঢুকতেই না পারি তাহলে আগুন কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করব? তাই অযথা ঘটনাস্থলে ভিড় না করে তথ্যগত সাহায্য করলেই আমাদের কাজটা সহজ হয়।
আরও পড়ুন : নিউ সুপার মার্কেটে আগুন /ছবিতে নিউ সুপার মার্কেটের আগুন
তিনি বলেন, তবে কেউ কেউ প্রকৃতভাবেই আমাদের সাহায্য করেছেন। এর মধ্যে ঢাকা কলেজ অন্যতম। ঢাকা কলেজের পুকুরের পানি দিয়েই কিন্তু আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছিলাম। এমনকি ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা আমাদের যেভাবে সাহায্য করেছে তা অতুলনীয়। বঙ্গবাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণে যেমন শহীদুল্লাহ্ হলের পুকুর থেকে পানি নেয়া হয়েছে। তেমনি নিউমার্কেটের আগুন নিয়ন্ত্রণে ঢাকা কলেজের পুকুরটাই কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যে তিনতলায় আগুন লেগেছিল, দিনশেষে আমরা সেটাকে ছড়িয়ে পড়তে দেইনি। আহত হওয়ার পরও সবাই যার যার জায়গা থেকে নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছি এটাই সবচেয়ে ভালোলাগার ব্যাপার।
আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে কোনো বিশেষ মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছিলেন কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সাধারণত দেশের বড় বড় অগ্নিকাণ্ডের সময় অংশগ্রহণ করেছি। বঙ্গবাজার, এফ আর টাওয়ারের আগুনেও আমি ছিলাম। এফ আর টাওয়ারে কাজ করতে গিয়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিলাম। আমার সহকর্মী সোহেল রানা তো সেই অগ্নিকাণ্ডে মারাই গেলেন। ওইখান থেকে ৪০/৫০ জন মানুষকে উদ্ধার করেছিলাম। যার মধ্যে দুইজন গর্ভবতী নারীও ছিল। আমি তাদের উদ্ধার করেছিলাম। সেই দুর্ঘটনায় ৪ জন মারা গেলেও তারা বেঁচে ছিলেন। পরবর্তী কিছুদিন পর এক মহিলার বাচ্চা হয়। তিনি পরে আমাকে মেসেজ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আসলে এই অনুভূতিটাই ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আল্লাহ তায়ালাই মানুষের জীবন বাঁচান। কিন্তু আমার উছিলায় যে তারা বেঁচে গেলেন ও তার বেঁচে যাওয়া জীবনেই আরেকজন মানুষ পৃথিবীর মুখ দেখেছেন এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এর চেয়ে প্রশান্তির আর কি হতে পারে।
আরও পড়ুন : নিউ সুপার মার্কেটে আগুন, ঢামেকে ভর্তি ২২
কথা হয় মুন্সীগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের টিম লিডার আনিসুল হকের সঙ্গে। কাজ করতে গিয়ে কীভাবে আহত হলেন তা জানতে চাইলে সময় সংবাদকে তিনি বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়েই ১০ জনের একটা টিম নিয়ে আমি ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। এসেই আমরা নিউ সুপার মার্কেটের তিন তলায় কাজ শুরু করি। প্রচণ্ড ধোঁয়া ও তাপের কারণে কাজ করা যাচ্ছিল না। আমাদের নিশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছিল। এর মধ্যেই আমি তিনটা দোকানের শাটার শাবল দিয়ে ভেঙে ভিতরের আগুন নেভাই। যখন চতুর্থ দোকানের সাটার ভেঙে কাজ শুরু করতে যাব তখন আগুনের একটা তীব্র তাপ অনুভব করি। সম্ভবত দোকানটাতে পলেস্টার ফেব্রিকসের কাপড় ছিল। প্রচণ্ড ধোঁয়া ও তাপ আমার নাক-মুখের কাছাকাছি আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি অচেতন হয়ে পড়ি। পরে অন্য সহকর্মীরা আমাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ড বলেন আর যে কোনো দুর্ঘটনা বলেন, আমরা যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছাই তখন আর পিছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ থাকে না। আমরা আমাদের সাধ্যের মধ্যে যতটুকু সম্ভব পুরোটাই দেয়ার চেষ্টা করি। যতক্ষণ সেই কাজটা সফল না হয় কাজ করে যাই।
সেখানে চিকিৎসাধীন সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশনের ফায়ার ফাইটার মোহাম্মদ রায়হান সময় সংবাদকে বলেন, নিউমার্কেটে আগুন লাগার খবর প্রথমে পায় পলাশী ফায়ার স্টেশন। এরপরেই আমরা খবর পাই। ইমারজেন্সি টেন্ডার গাড়ি নিয়ে আমরা আনুমানিক ৬টার দিকে ঘটনাস্থলে আসি। প্রচণ্ড ধোঁয়া ও আগুনের মধ্যেই আমরা গাড়ি নিয়ে ভিতরে ঢুকি। এরপর আমরা আগুন নেভানোর কাজ শুরু করি। পাইপ নিয়ে ভবনের সামনে গেলেই এত পরিমাণ তাপ গায়ে লাগছিল যে সামনে আগানো যাচ্ছিল না। তাপের সঙ্গে প্রচণ্ড ধোঁয়া। এর অন্যতম কারণ ছিল পুরো মার্কেটে কোনো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা ছিল না। তাপও এত বেশি ছিল যে আমরা যে পানি দিচ্ছিলাম সেই পানিটাও তাপে অসম্ভব গরম হয়ে যাচ্ছিল। দোকানগুলো সব বন্ধ। শাটার নামানো। এক একটা দোকানে ৮/৯টা করে তালা লাগানো। যার জন্য ভেতরেও পানি দেয়া সম্ভব হচ্ছিল না। এই গরম আর ধোঁয়ার মধ্যে একটা দোকানের এতোগুলো তালা কাটতেই আমাদের অবস্থা খারাপ হয়ে পড়ছিল। এভাবে একটা একটা করে দোকানের তালা কাটতে গিয়ে আমি খুব ক্লান্ত হয়ে পড়ি। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং ভিতরে এমন তাপ উৎপন্ন হয়েছে যে আমার শরীরের চামড়া পিপিই এর ভিতর দিয়েও পুড়ে যাচ্ছিল। পানি মারতে মারতে যখন পিছিয়ে আসি তখন বড় ধোয়ার একটা কুন্ডলী আমার মুখে এসে পড়ে। আমি শ্বাসকষ্টে ভুগি। এরপরেই আমি অচেতন হয়ে যাই। পরে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
আরও পড়ুন : যে ব্রিজ ভাঙাকে কেন্দ্র করে আগুনের অভিযোগ
তিনি বলেন, আমি প্রায় ৪ ঘণ্টা কাজ করি। সেখানে যে ব্যবসায়ীরা ছিলেন তাদের কারণে আমাদের আগুন নিয়ন্ত্রণে আরও ঝামেলা হচ্ছিল। মালামাল ও অগ্নি নির্বাপণের সরঞ্জাম টানতে কষ্ট হচ্ছিল। অনেক সময় দেখা গেছে আমরা আগুন কি নিয়ন্ত্রণ করব, মানুষকে রক্ষা করতেই সময় দিতে হচ্ছে। যদি সেটা না হতো তাহলে আরও দ্রুত আমরা আমাদের কাজ শেষ করতে পারতাম।
এদিকে নিউমার্কেটের আগুন নিয়ন্ত্রণের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন দুই আনসার সদস্যও। স্পেশাল ইউনিটের আনসার ব্যাটেলিয়ন সদস্য মোহাম্মদ শাকিল আহমেদ বলেন, আমরা সেহরি খেয়ে ঘুমাতে যাই। একটু পরেই জানতে পারি নিউমার্কেটে আগুন লেগেছে। সাথে সাথে আমরা পূর্বাচল থেকে রওনা হই। এখানে এসে দেখতে পাই ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছেন। আমরাও তাদের সঙ্গে কাজ শুরু করি। মূলত আগুনটা সবচেয়ে বেশি ছিল তিন তলাতে। শুরুতে আমরা দোতলা থেকে মালামালগুলো সরাতে সাহায্য করি। মোটামুটি আগুন নিয়ন্ত্রণে এসে পড়লেও অসম্ভব ধোঁয়া চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। দোতলার মালামাল সরানোর কাজ প্রায় শেষ হওয়ার সময় আমি তিনতলা থেকে একটা আর্তনাদের শব্দ পাই। কেউ একজন বাঁচার জন্য আর্তনাদ করছেন। আমি কোনো কিছু না ভেবেই তিনতলায় ঢুকে পড়ি।
তিনি বলেন, দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে আমার কাছে তখন একটা মানুষের জীবন রক্ষা করা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আমি চরম ধোঁয়ার মধ্যেই দেখলাম দোকানের ভিতরে একজন পড়ে আছে। সম্ভবত কোনো ব্যাবসায়ী তার নিজের মালামাল সরানোর সময় অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। তার বাঁচার আকুলতা দেখে আমি তখন অন্য কিছু চিন্তা করার সুযোগ পাইনি। আমার পাশে তিনজন ফায়ার ফাইটার ও একজন বিজিবি সদস্য ছিলেন। পরে আমিসহ তারা সবাই মিলে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করি। উদ্ধার করতে গিয়েই আমার চোখে মুখে ধোঁয়া ঢুকে অসুস্থ হয়ে পড়ি। এরপর আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
স্পেশাল ইউনিটের আনসার ব্যাটেলিয়ন সদস্য মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, মূলত আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাই করেন। আর আমরা উৎসুক জনতাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার কাজটা করি। পাশাপাশি মালামাল সরানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন উদ্ধার কাজে সাহায্য করি। তিনতলায় যখন আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ চলছিল সেখানে ধোঁয়ার পরিমাণটাই বেশি ছিল। তিনতলার দোকান থেকে মালামাল সরাতে সাহায্য করার সময় অতিরিক্ত ধোঁয়ায় আমি অক্সিজেন শূন্যতা অনুভব করি। এভাবে ধোঁয়া ও তাপের মধ্যে কাজ করতে করতে একটা সময় অচেতন হয়ে যাই। পরে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।
আরও পড়ুন : নিউ সুপার মার্কেটে আগুন /ফায়ার সার্ভিসের সদস্যসহ ১৮ জন ঢামেকে
কতজন আনসার বাহিনী কাজ করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের আনসার বাহিনীর অনেক মানুষ ছিলেন। তবে আমাদের স্পেশাল ইউনিটের ছিলাম ৫০ জন। যার মধ্যে আমরা দুইজন আহত হয়েছি। এ ছাড়া কাজ করতে গিয়ে অন্যান্য আনসার সদস্যরাও অসুস্থ হয়েছেন।
উল্লেখ্য, নিউমার্কেটের আগুনে আহত শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন সকলকে রোববার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে রিলিজ দেয়া হয়।
আহত ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ব্যক্তিরা হলেন– আরিফুল (২৬), কামরুজ্জামান (২৫), শরিফুল (২৪), রাসেল (২২), শান্ত (২৪), তৌফিক (২৩), রাজন (২৫), মিলন (২৬), সজীব (২৫), ডিপজল (২৪), রায়হান (২২), সোহেল রানা (৩২) ও রাজিব (৩০)।
আহত দুজন আনসার গার্ড ব্যাটালিয়ন হলেন–আলমগীর (৩৫) ও শাকিল (২৫)।
আহত অন্যান্য ব্যক্তিদের মধ্যে আরও ছিলেন বিমানবাহিনীর সদস্য সার্জেন্ট আরাফাত (৩২) ও রিকশাচালক জাকির হোসেন (৩৫) ও সাব্বির (৩৩) নামের এক স্বেচ্ছাসেবী।
এ ছাড়া স্কাউটের ১ জন, রেড ক্রিসেন্টের ১ জন, ঢাকা কলেজের ২ শিক্ষার্থী, এটিএন নিউজের সাংবাদিক মনিরুজ্জামান ও ইসলামী আন্দোলনের ২ জন স্বেচ্ছাসেবক আহত হয়ে ঢামেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পাশাপাশি আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন দোকানকর্মী। তারা হলেন- রিফাত (২৩), বায়জিদ (২৫), হাসান (২০), রিমন (২৮), কামাল হোসেন (৩৩), ফিরোজ আলম (৩০), জিসান (১৮), ইয়াসিন (২৪), জীবন (২৫), মিজান (২২), স্বপন (২৩), সুজন (২৫), সাইফ (৩২) , রাব্বি (২৭) দোকান মালিক জীবন (৩০), ফারহান (২০) ও শাফিন (১৮) ।
]]>


