সালমানের সাথে দেখা করতে চেয়েছিলেন ‘ধুরন্ধর’ খ্যাত শিল্পী খান সাবের মা

বলিউডে সাফল্যের স্বাদ পেয়েছেন, পরিচিতিও বেড়েছে। কিন্তু সেই আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মতো মা-বাবা কেউই আজ পাশে নেই। ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার ‘জান সে গুজরতে হ্যায়’ গানটি গেয়ে আলোচনায় আসা গায়ক খান সাবের কাছে তাই সাফল্যের গল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে গভীর এক শূন্যতা।
সম্প্রতি শুভঙ্কর মিশ্রর সঙ্গে এক আলাপচারিতায় নিজের প্রয়াত মা-বাবাকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন খান সাব। জানান, বলিউডে কাজ করার স্বপ্ন তার মা সবসময়ই দেখতেন। ছেলে একদিন বড় পরিসরে গান করবেন এমন বিশ্বাস ছিল তার। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার পর মাকে আর পাশে পাননি তিনি।
খান সাব বলেন, বলিউডে পরিচিতি পাওয়ার পর মায়ের কবরের কাছে গিয়ে তিনি দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন। এমনকি কবরের পাশে শুয়ে মায়ের কানে গিয়ে নিজের সাফল্যের কথা জানিয়েছেন।
তার ভাষায়, ‘আমি আমার আম্মির কবরের পাশে গিয়ে শুয়ে পড়েছিলাম। আম্মির কানে গিয়ে বললাম, দেখো, আমি বলিউডে গিয়ে এসেছি।’ ছেলের প্রতিভার ওপর তার মায়ের আস্থা ছিল প্রবল। খান সাব জানান, তার মা প্রায়ই তাকে বলতেন, ‘বলিউডে যাও না কেন?’ মায়ের সেই উৎসাহই তাকে গান নিয়ে আরও বড় স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করেছিল।
খান সাবের মা ছিলেন অভিনেতা সালমান খানের ভীষণ ভক্ত। ছেলের কাছে তার আবদার ছিল, কোনোভাবে যেন সালমান খানের সঙ্গে তাকে দেখা করিয়ে দেওয়া হয়। মায়ের সেই কথা স্মরণ করে খান সাব বলেন, “আম্মি সালমান ভাইয়ের ভক্ত ছিলেন। বলতেন, ‘আমাকে সালমান খানের সঙ্গে দেখা করিয়ে দাও।’ তখন মাকে মজা করে বলতাম, ‘আম্মি, আমি নিজেই তো তার সঙ্গে দেখা করিনি, আপনাকে কীভাবে দেখা করাব?’”
কিন্তু মায়ের সেই ইচ্ছা আর পূরণ করা হয়নি। বলিউডে এসে সালমান খানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাওয়ার আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যান তার মা।
মাকে নিয়ে আরও একটি অপূর্ণ স্বপ্নের কথা জানান খান সাব। তার মা কখনো বিমানে ভ্রমণ করেননি। উপার্জন করে সামর্থ্যবান হওয়ার পর মাকে প্রথমবার বিমানে করে কোথাও নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন তিনি। শুধু বিমানে তোলাই নয়, মাকে আরাম করে ভ্রমণ করাতে চেয়েছিলেন। অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল হওয়ার পর ইকোনমি ক্লাসের বদলে মাকে বিজনেস ক্লাসে ভ্রমণ করানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু সেই সামর্থ্য অর্জনের আগেই মাকে হারান তিনি।
বাবাকে নিয়েও একই রকম একটি অপূর্ণ স্মৃতি রয়েছে খান সাবের। তার বাবা চেয়েছিলেন, ছেলে একদিন একটি টয়োটা ফর্চুনার কিনবে। পরে সেই গাড়ি কিনতে পারলেও তখন বাবা আর জীবিত ছিলেন না।
মা-বাবাকে হারানোর কষ্টের কথা বলতে গিয়ে খান সাব বলেন, “পয়সা ছিল না, মা-বাবা ছিলেন। এখন পয়সা আছে, মা-বাবা নেই। এই বিষয়গুলো খুব বেশি মিস করি। মা-বাবা ছাড়া বেঁচে থাকা খুব কঠিন।” এনডিটিভি
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
