
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে আমানতের টাকা ফেরত পেতে শুরু করেছেন গ্রাহকেরা। ১ সেপ্টেম্বর প্রথম দিন যে গ্রাহকেরা আবেদন করেছিলেন, আজ তারা টাকা ফেরত পেতে শুরু করেছেন।
ইতিমধ্যে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে শাখায় টাকা পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি অনলাইনে টাকা স্থানান্তর কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। ফলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরে আসতে শুরু করেছে।
একীভূত হওয়া পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক হলো ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক। এসব ব্যাংকের মোট শাখা ৭৬১টি। এই ব্যাংকগুলো একীভূত হয়ে বর্তমানে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তি হিসাবের গ্রাহকদের মূল আমানতের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু হয়েছে আজ থেকে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে আমানত তোলার জন্য ৭৪ হাজার গ্রাহক আবেদন করেন। এসব আবেদনের বিপরীতে মোট ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা ফেরত চেয়েছেন তারা। গতকাল রোববার ছিল আমানত তোলার আবেদনের শেষ দিন।
রাজধানীর গুলশান, মহাখালী, বনানী ও মতিঝিল এলাকার শাখাগুলোতে আজ সকালে সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রথম দিনে আবেদনকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য প্রধান কার্যালয় থেকে শাখায় পর্যাপ্ত টাকা সরবরাহ করা হয়েছে। সকাল থেকে এ পর্যন্ত অনেকে টাকা তুলেছেন। কেউ কেউ অপেক্ষায় আছে। যারা আবেদন করছেন, শাখা থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
নয়াপল্টন শাখায় (সাবেক গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক) টাকা তুলতে আসা এক নারী গ্রাহক জানান, তিনি গত ৩ সেপ্টেম্বর টাকা ফেরতের জন্য আবেদন করেছিলেন। তবে সন্তান অসুস্থ হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে তার ২০ হাজার টাকা প্রয়োজন হয়। বিষয়টি শাখা ব্যবস্থাপককে জানালে তিনি ২০ হাজার টাকা তোলার অনুমতি দেন। ব্যাংকে এসেই জরুরি টাকাটা পেয়ে তিনি স্বস্তি বোধ করছেন।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের তোপখানা শাখার ব্যবস্থাপক রোখশানা আখতার বলেন, সকাল থেকে ১০ থেকে ১৫ জন গ্রাহককে টাকা দেওয়া হয়েছে। যারা আবেদন করেছেন, তারা টাকা পাচ্ছেন। এ ছাড়া যাদের নতুন মুনাফা জমা হয়েছে, তারা ওই টাকা তুলতে পারছেন।
ইউনিয়ন ব্যাংক উত্তরা শাখার ব্যবস্থাপক এ বি এম মোকাররম মাহমুদ বলেন, প্রথম দিন আটজন টাকা তোলার আবেদন করেন। চার গ্রাহক টাকা তুলেছেন, অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া যাদের মুনাফা জমা আছে, তারাও টাকা তুলতে পারছেন। কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে, গ্রাহকদের তা জানানো হয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের আমানতের মুনাফা কেটে রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
