দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট প্রশ্নবিদ্ধ লম্বা সময় ধরে। এবার কাঠামোতে পরিবর্তন আনার কথা ভাবছেন বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল। ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটের ছোঁয়া আনতে চাচ্ছেন নতুন কাঠামোতে।
দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে এনসিএল, বিসিএলসহ দীর্ঘ ফরম্যাটের লিগগুলোতে প্রতিটি দলের একটি করে একাদশ এতদিন ম্যাচ খেলেছে। এবার একই দলের দুইটি করে একাদশ বানানোর পরিকল্পনা করছেন বিসিবি প্রধান। সোমবার সংবাদ সম্মেলনে জানালেন এমনই। আসন্ন মৌসুম থেকেই এটি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তামিম। এছাড়া নিয়মিত কোনো খেলোয়াড় চোটে পড়লে সেখান থেকে ফিরতে আগে খেলতে হবে দ্বিতীয় একাদশে। সেখানে অবশ্য বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল রাখা হবে।
তামিম বলেছেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেট যেভাবে সাজানো, একটা অংশকে কেন্দ্র করে আমাদের বেশিরভাগ ক্রিকেট। যারা জাতীয় দলে খেলে তারাই বিপিএল, এনসিএল, বিসিএল, এনসিএল টি-টুয়েন্টি খেলে। এক ধরনের খেলোয়াড়রাই ৬-৭ ধরনের টুর্নামেন্ট খেলছে। যারা তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট খেলে, তাদের কী অবস্থা? প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ যারা খেলে, তাদের জন্য লিগ ছাড়া আর কোনো খেলাই নাই। আমাদের ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্বিতীয় বিভাগ বা তৃতীয় বিভাগ থেকে কোনো প্লেয়ার উঠে এসে জাতীয় দলে খেলেছে। এটা ইতিহাসে কম এই কারণে আমরাই তাদেরকে সেই প্ল্যাটফর্মটা তৈরি করে দিতে পারিনি। আমরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এই মৌসুম থেকেই শুরু করব। আপনারা সবাই কাউন্টি ক্রিকেট সম্পর্কে জানেন। সব দলের প্রথম একাদশ, দ্বিতীয় একাদশ থাকে। এখন থেকে এনসিএল যখন শুরু হবে, ঢাকার দুইটি একাদশ থাকবে, প্রথম একাদশ এবং দ্বিতীয় একাদশ থাকবে। চট্টগ্রামের দুইটি একাদশ থাকবে, প্রথম একাদশ এবং দ্বিতীয় একাদশ, এভাবে সব দলের হবে।’
সব দলের দুইটি করে একাদশ রাখার সুবিধাও আছে অনেক। তামিম বলেছেন, ‘এটার সুবিধা হচ্ছে, অনেক প্লেয়ার দ্বাদশ, ত্রয়োদশ প্লেয়ার হিসেবে আজীবন থেকে যায়। তাদের জন্য আরেকটা টুর্নামেন্টের সিস্টেম ছিল না আগে। আরেকটা একাদশ হলে ১৫০-২০০ ক্রিকেটার নতুন করে খেলার সুযোগ পাবে। দ্বিতীয় একাদশের ম্যাচগুলো হবে তিন দিনের ম্যাচ। এই যে পিকনিক ক্রিকেট যে কথাটা উঠে আসে, এর দায় ক্রিকেটারদের না শুধু, আমাদেরও, বোর্ডেরও দায় আছে। আমরাই সেই সংস্কৃতি তৈরি করেছি। এখন আর কাউকে বাসা থেকে তুলে আনতে হবে না (ম্যাচ খেলানোর জন্য), দ্বিতীয় একাদশে থাকা কেউ একইসময়ে খেলতে থাকবে, প্রথম একাদশ দেখতে পারবে সে কেমন করছে, পরের ম্যাচে নিয়ে আসতে পারবে প্রথম একাদশে। কেউ যদি প্রথম একাদশে খারাপ করে, তখন তার কাছেও সুযোগ থাকবে দ্বিতীয় একাদশে কিছু ম্যাচ খেলে আবার প্রথম একাদশে ফেরার।’
অবশ্য দ্বিতীয় একাদশে থাকা ক্রিকেটারদের মধ্যে বাড়তি ক্ষুধা আশা করছেন তামিম। যেন তারাও সামনের দিকের ক্রিকেটারদের আরও বেশি করে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে যেতে পারেন। সাথে নিজেদের পারফরম্যান্সও উন্নত করে এগিয়ে যেতে পারেন।
তামিম বলেছেন, ‘দ্বিতীয় একাদশের সুযোগ সুবিধা অনেক বেশি থাকবে? না, মিনিমাম ম্যাচ ফি থাকবে। তাদের মধ্যে ওই ক্ষুধাটা আনতে হবে যে ৬৫ হাজার টাকা বেতন করেছি, ১ লাখ টাকা ম্যাচ ফি করেছি ওটাকে চ্যালেঞ্জ করার, কীভাবে দ্বিতীয় একাদশ থেকে পারফর্ম করে প্রথম একাদশে ঢোকা (যায়)। এই প্রতিযোগিতাটা সৃষ্টি করা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের দায়িত্ব না কীভাবে ব্যাটিং বোলিং করতে হয়, এটা দেখানো আমাদের দায়িত্ব নয়। আমাদের দায়িত্ব এটাই যে, এই পরিবেশ এবং চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করা যে, তুমি যদি এভাবে ভালো করো, তাহলে এগুলো (সুযোগ-সুবিধা) পাবে।’
তামিম বলেছেন, ‘পিকনিক ক্রিকেট… যেভাবে বলেছিলাম, আজকে তাসকিন আহমেদ চোট পেলে আমরা কী করি? প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলতে পাঠায়ে দেই, আমরাই বলে দেই ৬ ওভারের বেশি যেন বল না করে। তখন তাসকিন আহমেদ যাবে দ্বিতীয় একাদশে, তখন অনেক রিল্যাক্সড নিয়ম থাকবে। উদাহরণ হিসেবে জফরা আর্চার চোট থেকে সেরে উঠে কাউন্টিতে দ্বিতীয় একাদশে ম্যাচ খেলে নিজেকে প্রস্তুত করেছে। এটা খুবই জরুরি বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য, এমন টুর্নামেন্ট করা।’
তামিমদের বর্তমান বোর্ড ১১ সদস্যের অ্যাড-হক কমিটি। কিছুদিনের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজন করবে এই বোর্ড। এরপর নির্বাচিত বোর্ড দায়িত্ব নেবেন। নতুন বোর্ড দায়িত্ব নিলে এই পরিকল্পনা টিকবে কিনা সেটা নিয়েও রয়েছে সংশয়। যদিও এটি নিয়ে ভাবছেন না তামিম। তার মতে, কেউ যদি বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভালো চান, এই নিয়ম চালু রাখবেনই।
বলেছেন, ‘সামনে নির্বাচনে যে কেউ থাকতে পারে, আমিও আসতে পারি। যদি এই সিস্টেম আমরা করে দিতে পারি, তাহলে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় যদি (নতুন যারা আসবে), এটা চালিয়ে যাওয়া অনেক জরুরি। এই বছর থেকেই এটা দেখতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।’






