ইসলামী ব্যাংকে খাল কেটে কুমির আনা হয়েছে! নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের পর জামায়াতের হুঁশিয়ারি – DesheBideshe

ইসলামী ব্যাংকে খাল কেটে কুমির আনা হয়েছে! নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের পর জামায়াতের হুঁশিয়ারি – DesheBideshe


ইসলামী ব্যাংকে খাল কেটে কুমির আনা হয়েছে! নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের পর জামায়াতের হুঁশিয়ারি – DesheBideshe

ঢাকা, ২৫ মে – ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় মেরুদণ্ড ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’ নিয়ে তৈরি হলো নতুন এক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহাবিতর্ক! ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ এবং ব্যাংকের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ‘অযাচিত হস্তক্ষেপের’ অভিযোগ তুলে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিস্ফোরক বিবৃতিতে বলেছেন, ইসলামী ব্যাংকে যাকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে বসানো হয়েছে, তিনি মূলত পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের একজন চিহ্নিত দোসর। তার মতো বিতর্কিত ব্যক্তিকে এমন একটি সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ দায়িত্বে বসানো ‘খাল কেটে কুমির আনা’র শামিল।

সোমবার (২৫ মে, ২০২৬) সকালে দলটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক জরুরি বিবৃতিতে এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান জামায়াত নেতা।

বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপের ওপর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, সরকার একের পর এক হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশের ব্যাংক ব্যবস্থা তথা পুরো আর্থিক খাতকে এক চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। গতকালই (রবিবার) ইসলামী ব্যাংকের এমডিকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। জনগণের আস্থায় যাতে বড় ধরণের ফাটল ধরে, সেই সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়েই ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যানকেও নাটকীয়ভাবে পদচ্যুত করা হয়েছে। এমন একতরফা পরিস্থিতিতে ব্যাংকের কোটি কোটি গ্রাহক এবং সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের আগুন জ্বলছে।”

জামায়াতের মূল অভিযোগের তীর বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন সাবেক ডেপুটি গভর্নরের দিকে, যাকে সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মিয়া গোলাম পরওয়ারের দাবি, দেশের ব্যাংক খাত থেকে যারা আড়াই লাখ কোটি টাকা লুটপাট করেছে, সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান বা কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো সেই লুটেরাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে রেখে লুণ্ঠনের পথ আবারও প্রশস্ত করতেই ওই সাবেক ডেপুটি গভর্নরকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারে বসানো হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, এই কর্মকর্তা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে লুটপাটের সহযোগী ছিলেন। তাই সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের এই আত্মঘাতী পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অনতিবিলম্বে তার অপসারণ দাবি করেছে জামায়াতে ইসলামী।

দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকারকে বেশ কিছু কড়া তাগিদ ও শর্ত দিয়েছে জামায়াত।

দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়:

  • অবিলম্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘অযোগ্য ও দলদাস’ গভর্নরকে তার পদ থেকে অপসারণ করতে হবে।
  • বিগত সরকারের আমলে লুণ্ঠনকৃত ও পাচার হওয়া সমস্ত অর্থ দেশে ফেরত আনার জন্য কার্যকর অ্যাকশন নিতে হবে।
  • কোনো একজন যোগ্য, নিরপেক্ষ ও সৎ ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান করে এবং ইসলামী ব্যাংকিংয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, মেধাবী ও সৎ লোকদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ (বোর্ড) নতুন করে পুনর্গঠন করতে হবে।

বিবৃতির শেষে জামায়াত নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি ইসলামী ব্যাংককে ধ্বংসের এই আমলাতান্ত্রিক চক্রান্ত অবিলম্বে বন্ধ করা না হয়, তবে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতি ও আর্থিক বিপর্যয়ের সমস্ত দায়-দায়িত্ব এই সরকারকেই বহন করতে হবে।

এনএন/ ২৫ মে ২০২৬