ডালাসের রাতটা ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসির হয়েই থাকল। অস্ট্রিয়ার জালে দ্বিতীয়বার বল জড়িয়ে মেসি হয়ে গেলেন বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা (২৮ ম্যাচে ১৮ গোল) মিরোস্লাভ ক্লোসাকে টপকে। আটত্রিশ বছর পেড়িয়ে ষষ্ঠ বিশ্বকাপে এসে যা করছেন, সেটাকে জাদু ছাড়া আর কী বলা যায়।
কিন্তু একটা মজার প্রশ্ন ঘুরছে সামাজিক মাধ্যমে। ‘আর্জেন্টিনার বাকি ফুটবলাররা কোথায়?’ কারণ দুই ম্যাচে আর্জেন্টিনার গোল পাঁচটি, পাঁচটাই মেসির।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া। লাউতারো মার্তিনেজ না, হুলিয়ান আলভারেজ না, আর কেউ একবারও জালে বল পাঠাতে পারেননি। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল, অথচ গোলের খাতায় একজনের নামই লেখা! সামাজিক মাধ্যমে আকাশি-সাদা ফ্যানরা যখন মেসি বন্দনায় মুখর, তখন হলুদ-সবুজের ভক্তরা ট্রল করে নয়তো হেসে বলছেন, ওটা তো আর্জেন্টিনা না, ওটা আসলে ‘মেসি এফসি’।
খোঁচাটা অবশ্য চিরকালের না। আর্জেন্টিনার গ্রুপের শেষ ম্যাচ বাকি, ২৭ জুন জর্ডানের সঙ্গে। মেসিকে হয়তো সেদিন বিশ্রাম দেওয়া হবে, আর তখন অন্য কেউ একটা গোল পেয়ে গেলে এই রসিকতার মেয়াদ ফুরিয়ে যাবে। তার আগ পর্যন্ত হিসাবটা কিন্তু হলুদ-সবুজের পক্ষেই।
তবে ট্রল আর হাসি একপাশে রেখে আসল বিষয়ে আসি। কারণ গল্পটা মেসিকে নিয়ে নয়, ব্রাজিলকে নিয়ে। আর সেই গল্পটা একজন তারকার নয়, পুরো একটা দলের।
সাত গোলের পেছনের গল্প
গ্রুপ ‘সি’-র চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে উঠেছে ব্রাজিল। এক ড্র, দুই জয়, সাত পয়েন্ট। মরক্কোর সঙ্গে ১-১ ড্র দিয়ে নড়বড়ে শুরু, তারপর হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া। তিন ম্যাচে গোল সাতটি, হজম মাত্র একটি।
এই সাত গোলের ভেতরেই লুকিয়ে আছে কার্লো আনচেলত্তির দলের আসল পরিচয়। স্কোরশিটে নাম দুজনের, ভিনিসিয়াস জুনিয়র চারটি আর ম্যাথিয়াস কুনহা তিনটি। শুনতে মনে হতে পারে, তাহলে তো ব্রাজিলও দু-একজনের ওপরই দাঁড়িয়ে। কিন্তু গোল মানে তো শুধু শেষ ছোঁয়াটা নয়। গোল মানে তার আগের পাস, তার আগের দৌড়, প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা সেই মুহূর্তটা। আর সেদিকে তাকালেই বোঝা যায়, এই দলে কেউ একা নয়। প্রত্যেকটা গোলের পেছনে একাধিক ফুটবলারের অবদান।
আক্রমণভাগ: ভিনিসিয়াস আছেন, কিন্তু একা নন
শুরুটা ভিনিসিয়াসকে দিয়েই হোক, কারণ তিনিই এই দলের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু। মরক্কোর সঙ্গে ম্যাচে যখন গোল হজম করে পিছিয়ে পড়েছিল ব্রাজিল, তখন সমালোচনার চাপ বাড়ছিল আনচেলত্তির ওপর। সেই ম্যাচে ৩২ মিনিটে সমতা ফেরানো গোলটা করে দলকে অন্তত একটা পয়েন্ট এনে দেন এই রিয়াল মাদ্রিদ উইঙ্গার।

ক্লাবের হয়ে যে আলো ছড়ান, দেশের জার্সিতেও সেটা করে দেখানোর চাপ ছিল তাঁর। তিন ম্যাচেই গোল করে সেই দায় তিনি মিটিয়েছেন, ব্রাজিলের ইতিহাসে পঞ্চম খেলোয়াড় হিসেবে এক বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রতি ম্যাচে জালের দেখা পেয়েছেন।
কিন্তু ভিনিসিয়াসের আসল মূল্য শুধু গোলসংখ্যায় ধরা পড়ে না। হাইতি ম্যাচে তাঁর শট গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দিলে ফিরতি বলে কুনহা প্রথম গোলটা করেন, মানে গোলটার জন্ম ভিনিসিয়াসের পায়েই। একটু পরে নিজে স্কোরার থেকে বনে যান সরবরাহকারী, বাঁ দিক থেকে মাপা পাসে কুনহাকে দিয়ে করিয়ে নেন দ্বিতীয় গোলটা। বাঁ প্রান্তে তিনি একই সঙ্গে গোলদাতা ও নির্মাতা, এটাই তাঁকে আলাদা করে। প্রতিপক্ষ যদি শুধু তাঁকে আটকানোর কথা ভাবে, তাহলে তিনি পাস বাড়িয়ে দেন, আর যদি পাসের রাস্তা বন্ধ করে, তাহলে নিজেই ঢুকে পড়েন বক্সে।
ভিনিসিয়াসের পাশে নয় নম্বর জার্সিতে দাঁড়িয়ে গেছেন ম্যাথিয়াস কুনহা। ব্রাজিলে নয় নম্বর মানে রোনালদো নাজারিওর ছায়া, বিরাট চাপের জার্সি। প্রথম ম্যাচে তাঁকে শুরুতে না খেলানোয় সমালোচনা হয়েছিল আনচেলত্তির। সেই কুনহা জবাবটা দিয়েছেন মাঠে, হাইতির বিপক্ষে জোড়া আর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে একটি গোল করে। জাতীয় দলে আগের ২৯ ম্যাচে তাঁর গোল ছিল মাত্র একটি, সেই খরা কাটিয়ে এক গ্রুপ পর্বেই তিনটি।

বক্সের ভেতরে-বাইরে অনায়াসে ঘুরে বেড়ান, সতীর্থদের সঙ্গে দ্রুত বল দেওয়া-নেওয়ায় পারদর্শী। তিন গোল দিয়ে নিজের জায়গাটা একরকম পাকা করেই ফেলেছেন তিনি।
ডান প্রান্তে আছেন আঠারো বছরের তরুণ রায়ান, বোর্নমাউথের বিস্ময়বালক। স্কটল্যান্ড ম্যাচের সপ্তম মিনিটে তাঁর আগ্রাসী প্রেসিংয়েই ভড়কে গিয়ে বল হারান স্কটিশ ডিফেন্ডার, আর সুযোগটা লুফে নিয়ে গোল করেন ভিনিসিয়াস। স্কোরশিটে রায়ানের নাম নেই, কিন্তু ওই গোলের আসল কারিগর তিনিই। গোলের গন্ধ পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়ার এই স্বভাবটাই তাঁকে অল্প বয়সেই আনচেলত্তির আস্থা এনে দিয়েছে।
তরুণ এই তারকা ব্রাজিলের বাড়তি অস্ত্র, যেকোনো সময় জ্বলে উঠে গড়তে পারেন ইতিহাস।
আর এসবের মধ্যেই একটা বড় ধাক্কা সামলেছে ব্রাজিল। হাইতি ম্যাচের মাঝপথে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে মাঠ ছাড়েন রাফিনহা, বার্সেলোনার এই উইঙ্গার আক্রমণের অন্যতম বড় নাম। চোটের আগে দুবার তিনি বল জালেও পাঠিয়েছিলেন, যদিও অফসাইডে গোল দুটি বাতিল হয়। এমন একজন বেরিয়ে যাওয়ার পরও আক্রমণে এতটুকু ভাটা পড়েনি।
একজন বড় তারকা ছিটকে গেলে যে দল থেমে যায় না, সেই দলের গভীরতা নিয়ে আলাদা করে কিছু বলার দরকার পড়ে না।
মাঝমাঠ: যেখানে গোলগুলো আসলে তৈরি হয়
গোল হয় সামনে, কিন্তু গোলের নকশা আঁকা হয় মাঝমাঠে। আর এখানেই ব্রাজিলের সবচেয়ে নীরব নায়ক, ব্রুনো গিমারাইস। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে একাই দুটি গোলের জোগানদাতা তিনি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ডান প্রান্ত থেকে তাঁর মাপা ক্রসে হেডে গোল করেন ভিনিসিয়াস। দ্বিতীয়ার্ধে আবার, ৬০ মিনিটে তাঁর রক্ষণচেরা পাস ধরে জাল কাঁপান কুনহা। নিউক্যাসলের এই মিডফিল্ডার নিচ থেকে খেলা গড়েন, আবার দরকারে আক্রমণেও সুতো বুনে দেন। তাঁর জায়গাটা পরিসংখ্যানই যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দেয়, দুই অ্যাসিস্ট মানে দলের অর্ধেক গোলেই তাঁর সরাসরি ছোঁয়া।
নেইমারের অনুপস্থিতিতে দশ নম্বর ভূমিকায় খেলছেন লুকাস পাকেতা। হাইতির বিপক্ষে তাঁর উঁচু পাস ধরেই গোলরক্ষককে কাটিয়ে তৃতীয় গোলটা করেন ভিনিসিয়াস। মাঝমাঠ আর আক্রমণের মাঝখানের সেতুটা তিনিই, বল ধরে রাখা, ঠিক সময়ে ছেড়ে দেওয়া, ফাঁকা জায়গা খুঁজে বের করা, এই কাজগুলোই নিঃশব্দে করে যাচ্ছেন তিনি। বড় নাম যাঁরা সামনে গোল করছেন, তাঁদের পায়ে বলটা ঠিক সময়ে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বটা পাকেতার।
তাঁদের পেছনে পাহারাদার হিসেবে আছেন কাসেমিরো, সম্ভবত নিজের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নামা এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার। রিয়াল মাদ্রিদে আনচেলত্তির অধীনে বহু শিরোপা জেতা কাসেমিরো জানেন তাঁর কোচ ঠিক কী চান। তিনি সামনের খেলোয়াড়দের স্বাধীনতা দেন, নিজে দাঁড়িয়ে থাকেন রক্ষণের সামনে ঢাল হয়ে।
গিমারাইস কিংবা পাকেতা যে নির্ভয়ে আক্রমণে উঠে যেতে পারছেন, তার পেছনে কাসেমিরোর এই নীরব শ্রম। ফুটবলে সব কাজ স্কোরশিটে ওঠে না, কিন্তু মাঠে তার দাম সবচেয়ে বেশি।
রক্ষণ আর আলিসন: যে ভিতের কথা কেউ বলে না
সাত গোলের গল্পে যাঁদের নাম ওঠে না, তাঁরাই হয়তো সবচেয়ে বড় কারণ ব্রাজিলের এই দাপটের। তিন ম্যাচে মাত্র এক গোল হজম করেছে দলটি, শেষ দুই ম্যাচে রাখেনি কোনো গোলই। হাইতি ম্যাচে কর্নার থেকে আসা বিপজ্জনক হেড অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক আলিসন বেকার, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেও স্কট ম্যাকটমিনের জোড়া হেড রুখে দেন তিনি। সামনে চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী মার্কিনিওস, গাব্রিয়েল মাগালিয়াইস, দানিলো আর ডগলাস সান্তোসদের রক্ষণ গোটা টুর্নামেন্টে বল হারানোর ভুল করেছে খুব কম। নকআউটের লড়াইয়ে যেখানে একটা গোলই ম্যাচের ভাগ্য লিখে দেয়, সেখানে এমন নিশ্ছিদ্র রক্ষণ আর একজন আস্থাভাজন গোলরক্ষক থাকা মানে অর্ধেক যুদ্ধ আগেই জিতে রাখা।
আনচেলত্তি দল ঘোষণার সময় বলেছিলেন, তিনি বিশ্বের সবচেয়ে দৃঢ় দলটা গড়তে চান, কারণ নিখুঁত দল বলে কিছু হয় না, জেতে দৃঢ় দলই। ম্যাচ শেষেও তাঁর সাফ কথা, সুন্দর ফুটবল খেলা তাঁর লক্ষ্য নয়, লক্ষ্য জয়। এই দর্শনটাই মাঠে ফুটে উঠছে, একটা দল যেখানে আক্রমণ আর রক্ষণ দুই প্রান্তেই কাজটা ভাগ হয়ে গেছে অনেক কাঁধে। মনে রাখা ভালো, ব্রাজিলের ইতিহাসে এই প্রথম একজন বিদেশি কোচ বিশ্বকাপে দলটাকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, আর ২০০২ সালের পর থেকে শিরোপাহীন থাকা একটা দলকে তিনি গড়ছেন নিজের ছাঁচে।
নেইমার-নির্ভরতার দিন শেষ
ব্রাজিলকে এত বছর একটা প্রশ্ন তাড়া করে বেড়িয়েছে, নেইমার না থাকলে কী হবে? ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে তাঁর চোটের পর দলটা যেভাবে ভেঙে পড়েছিল, সেই ক্ষত আজও দগদগে। এরপরের কয়েকটা বিশ্বকাপেও এই নির্ভরতাই বহুবার ভুগিয়েছে সেলেসাওদের। অথচ এবারের ছবিটা একেবারে আলাদা।
কাফের চোট কাটিয়ে নেইমার এই বিশ্বকাপে প্রথম মাঠে নামেন স্কটল্যান্ড ম্যাচের ৭৬ মিনিটে, বদলি হিসেবে। ততক্ষণে ব্রাজিল গ্রুপের শীর্ষে, নকআউট নিশ্চিত, ৩-০ গোলে এগিয়ে। মানে যাঁকে ঘিরে এতদিন গোটা দল সাজানো হতো, সেই নেইমারকে ছাড়াই দুই ম্যাচ আর গ্রুপ জয় সেরে ফেলেছে ব্রাজিল। গ্যালারির সমর্থকেরা তাঁর নাম ধরে গর্জে উঠেছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেটা ভালোবাসার ডাক, প্রয়োজনের নয়।
এটাই এই দলের সবচেয়ে বড় পরিণতি। নেইমার এখন বাড়তি পাওয়া, বোঝা নয়। বেঞ্চে অপেক্ষায় এন্দ্রিক, গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির মতো নামও, নামলেই খেলা বদলে দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন যাঁরা। যে দলের একাদশের বাইরেও এত অস্ত্র, সেই দল এক-দুজনের ভালো-মন্দ দিনের ওপর ঝুলে থাকে না। ঠিক এখানেই আর্জেন্টিনার সঙ্গে ব্রাজিলের আজকের পার্থক্য, এক দলের পুরো ভার একজনের কাঁধে, আরেক দলের ভার ভাগ হয়ে গেছে এগারো জোড়া পায়ে।
সামনে নকআউট, অপেক্ষায় আসল পরীক্ষা
বাছাইপর্বটা ব্রাজিলের জন্য মোটেই মসৃণ ছিল না। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে বুয়েনস আয়ার্সে ৪-১ গোলে হারের লজ্জা, এমনকি ঘরের মাঠেও বিশ্বকাপ বাছাইয়ে হার, একের পর এক হোঁচটে দলটার ওপর আস্থা টলে গিয়েছিল। সেই ভাঙাচোরা অবস্থা থেকে আনচেলত্তি যে দলটা দাঁড় করিয়েছেন, তার মূল মন্ত্রই হলো সমষ্টি। কোনো একজনের ঝলকে নয়, দলটা এখন ভরসা রাখছে সবার ছোট ছোট অবদানের যোগফলে। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচ যেন সেই দর্শনেরই প্রথম পরীক্ষা, আর সেটায় উতরে গেছে তারা।
গ্রুপ পর্ব শেষে এবার শুরু আসল লড়াই। ২৯ জুন হিউস্টনে শেষ ৩২-এর ম্যাচে নামবে ব্রাজিল, প্রতিপক্ষ গ্রুপ ‘এফ’ এর রানার্স-আপ, নেদারল্যান্ডস, জাপান কিংবা সুইডেনের কেউ একজন। টানা পনেরোতম বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে উঠল তারা, কিন্তু সেলেসাওদের সাম্প্রতিক ক্ষতগুলোও এই নকআউটেই। ২০১৮ আর ২০২২, পরপর দুই বিশ্বকাপেই কোয়ার্টার ফাইনালে থেমে গিয়েছিল তাদের স্বপ্ন।
তবে এবারের দলটার গড়নটাই আলাদা। যে দল গোল পায় অনেক পা থেকে, রক্ষণ সামলায় গোটা দল মিলে, আর সবচেয়ে বড় তারকাকে ছাড়াই গ্রুপ জিতে নেয়, সেই দল লম্বা পথের জন্যই তৈরি। নকআউটে এক রাতের একটা ভুলেই সব শেষ হয়ে যেতে পারে, আর ঠিক সেখানেই দরকার এই জিনিসটা, এগারোজনের ভাগ করে নেওয়া দায়িত্ব। একজনের পা যদি সেদিন না চলে, অন্য কারও পা চলবে, এই ভরসাটাই এবারের ব্রাজিলকে আলাদা করে রাখছে।

বিশেষ করে এবারের বিশ্বকাপের প্রচণ্ড গরম আর ঠাসা সূচিতে স্কোয়াডের গভীরতাই হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে বড় সম্পদ। যে দল একাদশের বাইরে থেকেও মান কমে না, ক্লান্তি জমলে যাদের হাতে মানসম্পন্ন বদলির বিকল্প থাকে, লম্বা টুর্নামেন্টে তারাই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে। নেইমার, এন্দ্রিক, মার্তিনেল্লিদের বেঞ্চে রেখে যে দল মাঠে নামে, তাদের এই জায়গাটা এবার বেশ মজবুত।
মেসির আর্জেন্টিনাকে নিয়ে রসিকতা চলতে থাকুক, ওটা ফুটবলের চিরন্তন মজা, আড্ডা ও সামাজিক মাধ্যমে তা চলতেই থাকবে। কিন্তু ব্রাজিল এবার যে পথে হাঁটছে, সেখানে নায়ক একজন নয়, গোটা দলটাই ইতিহাস গড়ে নায়ক হওয়ার জন্য প্রস্তুত। ২০০২ সালের পর থেকে জার্সিতে ‘ষষ্ঠ তারকা’ যুক্ত করার যে দীর্ঘ স্বপ্ন, তা এবার পূরণ হলেও হতে পারে।
আরও পড়ুন:
পর্ব ১: ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: মাঠে খেলা শুরুর আগেই বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা
পর্ব ২: বিশ্বকাপের বিলিয়ন ডলারের জার্সি বাণিজ্যে কেন নেই বাংলাদেশ?
পর্ব ৩: বল থেকে রেফারি: ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রযুক্তি যেভাবে বদলে দিচ্ছে সবকিছু
পর্ব ৪: ফুটবলের আড়ালে ক্ষমতার লড়াইয়ে আমেরিকা-চীন ও উপসাগরীয় শক্তি
পর্ব ৫: বিশ্বকাপের ৯৬ বছরে প্রথমবার, যে কীর্তি তিন ফুটবল মহাতারকার
পর্ব ৬: বিশ্বকাপে এশিয়ার ঝড়: জর্ডান-উজবেকিস্তান পারলে, বাংলাদেশ কেন নয়?
পর্ব ৭: পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের যে গল্পগুলো অনেকেই জানেন না
পর্ব ৮: জার্মানির বিপক্ষে কেমন করবে ২৫ প্রবাসী খেলোয়াড়ে সমৃদ্ধ ‘কুরাসাও’
পর্ব ৯: ড্র-জ্বর ছড়াচ্ছে বিশ্বকাপে, রেহাই পাচ্ছে না কোনো পরাশক্তিই
পর্ব ১০: ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার যেসব ঘটনায় হাসবেন-কাঁদবেন আবার ঝগড়াও করবেন
পর্ব ১১: ২০২৬ বিশ্বকাপের ১৩ তারকা, যাদের বাবারাও খেলেছিলেন বিশ্বকাপ
পর্ব ১২: ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো: হাজার গোলের পথে, আবারও জ্বলে ওঠার অপেক্ষায়





