কবি শামসুর রাহমানকে নিয়ে সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত সেমিনারের মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক তারানা নূপুর কবির সমগ্র কবিতা পাঁচটি পর্যায়ে ভাগ করে প্রতিটি পর্যায়ের বৈশিষ্ট্য এবং তারপর সামগ্রিকভাবে কবিতা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ের কাব্যশৈলীতে মিথ-প্রতীক-চিত্রকল্প-রূপকল্প চেতনার অন্তর্বায়ন প্রাধান্য পেয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে পুনরাবৃত্তি, তালিকায়ন, শব্দ ও ভাষার বিন্যাস। তৃতীয় পর্যায়ে স্বপ্ন-কল্পনা, পরাবাস্তবতা, চেতন-অবচেতনের রূপায়ণ। চতুর্থ পর্যায়ে ব্যঙ্গ–বিদ্রূপ, সমকালীন রাজনীতি ও পঞ্চম পর্যায়ের কবিতায় রূপান্তর কৌশলের মাধ্যমে ব্যক্তিসত্তার প্রকাশ ঘটেছে।
প্রবন্ধকার প্রধানত কবিতার নান্দনিকতার বিষয়েই তার আলোচনা কেন্দ্রীভূত রেখেছিলেন। তিনি বলেন, তাঁর কবিতায় নগর ঢাকার আর্থসামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতা নান্দনিকতা পেয়েছে। এ শহর যেমন তাঁর কবিতার নিয়ামক, তেমনি তাঁর কবিতাও এই শহরের আরশি। বাংলাদেশের কবিতাকে তিনি তিল তিল করে মূর্ত করে তুলেছেন। বাংলাদেশ ও এই দেশের মানুষের জীবনকে অন্ধকার থেকে আলোক-অভিসারীরূপে দেখতে চাওয়ার আমরণ বাসনা প্রকাশ করে গেছেন তিনি।
আলোচক কবি জহির হাসান বলেন, শামসুর রাহমান বাংলা কবিতার বড় কবিদের অন্যতম। তিনি স্তম্ভের মতো। বাংলাদেশের কবিদের ওপরে যখন কলকাতার ত্রিশের দশকের কবিদের প্রবল প্রভাব ক্রিয়াশীল ছিল, তখন শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, শহীদ কাদরীদের মতো কবিরাই সেই প্রভাব কাটিয়ে নিজেদের জায়গা তৈরি করেছেন। শামসুর রাহমান নিজেকে বৈশ্বিক পর্যায়ের কবি বলে মনে করতেন। ঢাকা শহরকে তিনি কবিতার ভেতরে যেভাবে চালিত করেছেন, তা অসাধারণ। তবে পশ্চিমা মিথের বিপুল ব্যবহার ও শেষ দিকের কবিতায় রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রাধান্যের কারণে তাঁর কবিতা নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে।




