কৃষকের ক্ষোভ: সংকট কি ঘাটতির, না ন্যায়ের

কৃষকের কাছে সার কোনো সাধারণ পণ্য নয়। বীজ, সেচ, শ্রম ও ঋণের সঙ্গে সার সরাসরি যুক্ত ফসল উৎপাদনের অপরিহার্য উপকরণ হিসেবে। সময়মতো সার না পেলে ফলন কমে যায়, জমির বিনিয়োগ নষ্ট হয়, ঋণের বোঝা বাড়ে এবং পুরো পরিবারের খাদ্য ও আয়ের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে।

তাই সার পাওয়ার প্রশ্নটি একজন কৃষকের কাছে জীবন-জীবিকার প্রশ্ন। সরকারি মূল্যে সার বরাদ্দ থাকলেও যদি তা না মেলে, আর একই সার কালোবাজারে কয়েক গুণ দামে বিক্রি হয়, তবে কৃষকের মনে ক্ষোভ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।

এ ক্ষোভকে বোঝার জন্য ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ ই পি থম্পসনের ‘নৈতিক অর্থনীতি’ ধারণাটি গুরুত্বপূর্ণ। থম্পসন দেখিয়েছিলেন, খাদ্য বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেই মানুষ প্রতিবাদ করে না; প্রতিবাদ তীব্র হয় তখন, যখন ব্যবসায়ী ও কর্তৃপক্ষ সমাজে প্রচলিত ন্যায্যতার ধারণা ভঙ্গ করে। সাধারণ মানুষ মনে করে, খাদ্যের মতো অপরিহার্য পণ্য কেবল মুনাফার বস্তু হতে পারে না। সংকটের সময় ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের দায়িত্ব হলো ন্যায্য দামে মানুষের কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়া।

ভূরুঙ্গামারীর ঘটনায় কৃষকেরা শুধু সার আনেননি, এর মধ্য দিয়ে নৈতিকতাকে প্রশ্ন করেছেন। নৈতিকতা নিয়ে এ প্রশ্ন এখন উন্মুক্ত আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে, আইনভঙ্গের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি।