
মুম্বাইয়ের মিঠি নদী থেকে পলি অপসারণের কাজে অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে এবার নাম এসেছে বলিউড অভিনেতা ডিনো মোরিয়ার। তার জেরেই শুক্রবার এই তারকাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের (বিএমসি) ওই কাজের চুক্তি ঘিরে অনিয়মের তদন্তে তার ফোন রেকর্ড ও কিছু আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
প্রায় ৮ ঘণ্টা মুম্বাইতে ডিনো মোরিয়ার বান্দ্রার বাড়িতে তাকে জেরা করে পুলিশ। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, মিঠি নদীর পলি অপসারণের জন্য দেওয়া বিভিন্ন চুক্তিতে ঠিকাদার, মধ্যস্থতাকারী ও কিছু পৌর কর্মকর্তার যোগসাজশে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারসাজি করা হয়। পাশাপাশি, ভুয়া বা প্রশ্নবিদ্ধ নথি জমা দেওয়া এবং নদী থেকে অপসারণ করা কাদার পরিমাণ বাড়িয়ে দেখানোরও অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের দাবি, এসব অনিয়মের কারণে বিএমসির প্রায় ৬৫ কোটি ৫৪ লাখ রুপি ক্ষতি হয়েছে।
এই তদন্তের সূত্র ধরেই বলিউড তারকা ডিনো মোরিয়ার নাম সামনে আসে। কর্মকর্তারা তার সঙ্গে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের যোগাযোগের তথ্য পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
এর মধ্যে কেতন কদম নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে ডিনোর আর্থিক লেনদেনও তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিনো মোরিয়া ও কেতন কদমের মধ্যে প্রায় ১৪ লাখ থেকে ১৮ লাখ রুপির একাধিক লেনদেনের তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে।
তদন্তকারীরা এখন এসব লেনদেনের প্রকৃতি এবং মিঠি নদীর পলি অপসারণের চুক্তি ঘিরে কথিত অনিয়মের সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। একই সঙ্গে ফোন রেকর্ড, আর্থিক লেনদেন ও কাজসংক্রান্ত নথিও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিনো মোরিয়া কোনো অপরাধ করেছেন- এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তদন্তে তার নাম উঠে আসা এবং আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে, এগুলোই বর্তমানে প্রকাশ্যে আসা তথ্য। তদন্তের পর কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ওপরই বিষয়টির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।
মিঠি নদীর পলি অপসারণের কাজ ঘিরে কথিত টেন্ডার কারসাজি, অর্থের লেনদেন এবং অপসারণ করা কাদার পরিমাণ নিয়ে ওঠা অভিযোগের তদন্ত এখনো চলছে।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…




