কোরাল মাছকে এত লাল দেখায় কেন

মজার ব্যাপার হলো, এই রঙের উৎস মাছের নিজের শরীরে নেই। ক্যারোটিনয়েড নামে একশ্রেণির রঞ্জক পদার্থ এই লাল রঙের জন্য দায়ী। বিশেষ করে অ্যাস্টাক্সানথিন নামে একটি যৌগ, যা চিংড়ি ও অন্যান্য ছোট ক্রাস্টেশিয়ান বা খোলসযুক্ত প্রাণীর শরীরে থাকে। লাল কোরাল এদেরই শিকার করে খায়। মাছ নিজে এই যৌগ তৈরি করতে পারে না। সত্যি বলতে, কোনো মেরুদণ্ডী প্রাণীই এটি পারে না। খাবার থেকে শরীরে জমা হতে হতেই এই লাল রংটি তৈরি হয়। চামড়ায়, আঁশের নিচে, এমনকি চোখের মণিতেও লাল রং দেখা যায়। স্যামন মাছ কেন গোলাপি, কিংবা ফ্ল্যামিঙ্গো পাখি কেন গোলাপি, এর উত্তর খুঁজলেও ওই একই যৌগের গল্পই পাওয়া যাবে।

কিন্তু এরপরও একটি প্রশ্ন থেকে যায়। যে গভীরতায় লাল কোরাল থাকে, সেখানে সূর্যের লাল রংটিই তো পানির ভেতর সবার আগে শোষিত হয়ে যায়। বিজ্ঞানের ভাষায়, লাল রঙের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে দীর্ঘ বলে তা পানির নিচে সবচেয়ে কম দূরত্ব পার হতে পারে। মাত্র ১০-১২ মিটার পার হতেই লাল আলো প্রায় শেষ হয়ে যায়। তাহলে অন্ধকার তলদেশে এমন লাল রং ধারণ করে মাছটির কী লাভ? এর উত্তরটা আসলে আসে উল্টো দিক থেকে। যেহেতু ওই গভীরতায় লাল আলোই নেই, তাই লাল রঙের কোনো শরীর প্রতিফলিত করার মতো আলোও সেখানে পৌঁছায় না। ফলে শিকারির চোখে সেটিকে নিছক ধূসর বা প্রায় কালো একটি ছায়া হিসেবেই দেখা যায়, যা পাথর আর ধ্বংসস্তূপের জটিল কাঠামোর সঙ্গে মিশে যাওয়া এক অস্পষ্ট অবয়ব তৈরি করে। যে রং ওপরে টকটকে লাল, জলের নিচে সেটাই হয়ে ওঠে মাছটির সবচেয়ে নিরাপদ ছদ্মবেশ!