যে কারণে নির্বাচনী বিতর্কে অংশ নেননি ডা. তরুণ – DesheBideshe

যে কারণে নির্বাচনী বিতর্কে অংশ নেননি ডা. তরুণ – DesheBideshe


স্কারবরো সাউথওয়েস্টের প্রাদেশিক উপনির্বাচন সামনে রেখে গত ১৮ আগস্ট আয়োজিত প্রার্থী বিতর্কে অংশ নেননি পিসি প্রার্থী ডা. এ এস এম নুরুল্লাহ তরুণ। তিনি জানিয়েছেন, এটি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল না; দলের নির্দেশনা অনুসরণ করেই তিনি অনুষ্ঠানে যাননি। তবে বিতর্কে অংশ না নিলেও নির্বাচনী এলাকায় তাঁর প্রচার এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ নিয়মিত চলছে।

ওয়েস্ট স্কারবরো নেবারহুড কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত বিতর্কটি যৌথভাবে আয়োজন করে ডেইলি ব্রেড ফুড ব্যাংক, স্কারবরো ইউনাইটেড নেবারহুডস এবং সাউথ এশিয়ান উইমেনস অ্যান্ড ইমিগ্র্যান্টস সার্ভিসেস। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সেন্টার ৫৫-এর নির্বাহী পরিচালক রেজা খোশদেল।

বিতর্কে অংশ নেন এনডিপি প্রার্থী ফাতিমা শাবান, লিবারেল প্রার্থী আহসানুল হাফিজ এবং গ্রিন পার্টির মার্ক বেকারিং। স্বতন্ত্র প্রার্থী মাইকেল পারডেলউইৎজ উদ্বোধনী ও সমাপনী বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পান। আয়োজকদের হিসাবে, ১২০ জনের বেশি মানুষ সরাসরি উপস্থিত ছিলেন এবং ১০৭ জন অনলাইনে অনুষ্ঠানটি দেখেন।

ডা. তরুণের অনুপস্থিতি নিয়ে যাঁরা দিনভর আলোচনায় মুখর ছিলেন, পরদিনই তাঁদের সেই আলোচনা অনেকটা থেমে যায়। এর কারণ, ১৯ আগস্ট কাছের বিচেস-ইস্ট ইয়র্কের ফেডারেল উপনির্বাচনের প্রার্থী বিতর্কেও কনজারভেটিভ প্রার্থী জিম সিরবোস অংশ নেননি। ক্যালভারি ব্যাপ্টিস্ট চার্চে অনুষ্ঠিত সেই বিতর্কে লিবারেল প্রার্থী তানভীর শাহনাওয়াজ, এনডিপির শ্যানন ডিভাইন এবং গ্রিন পার্টির ব্রুস লাইভসি উপস্থিত ছিলেন। আমন্ত্রণ জানানো হলেও জিম সিরবোস অনুষ্ঠানে যাননি।

কাছাকাছি সময়ে পাশাপাশি দুটি নির্বাচনী এলাকায় একই ধরনের ঘটনা ঘটায় ডা. তরুণের অনুপস্থিতির বিষয়টি আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে থাকেনি। উল্লেখ্য, স্কারবরো সাউথওয়েস্টের নির্বাচনটি প্রাদেশিক, আর বিচেস-ইস্ট ইয়র্কেরটি ফেডারেল। অন্টারিও পিসি পার্টি ও কানাডার ফেডারেল কনজারভেটিভ পার্টিও দুটি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন। তাই দুই প্রার্থীর অনুপস্থিতিকে একই দলীয় সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে দুটি বিতর্কে দুই কনজারভেটিভ প্রার্থীর অনুপস্থিতি থেকে ধারণা করা যায়, নির্বাচনী বিতর্কে অংশ নেওয়া বা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত দল ও প্রচারশিবিরের কৌশলের অংশ হতে পারে।

বিতর্কে অংশ না নিলেও নির্বাচনী এলাকায় ডা. তরুণের প্রচার থেমে নেই। তাঁর প্রচারশিবিরের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন। স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থান, আবাসন ও স্থানীয় নিরাপত্তাসহ বাসিন্দাদের বিভিন্ন উদ্বেগ শুনছেন এবং তাঁদের কাছে পিসি সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরছেন।

ডা. তরুণের প্রচারণায় প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ডসহ অন্টারিও পিসি পার্টির একাধিক মন্ত্রী ও এমপিপি অংশ নিয়েছেন। সিলভিয়া জোন্স তাঁর সঙ্গে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালিয়েছেন। ডেভিড পিচিনি ও নোলান কুইনও স্কারবরো সাউথওয়েস্টে গিয়ে তাঁর পক্ষে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেছেন। মাইকেল কার্জনারসহ পিসি দলের অন্য প্রতিনিধিদেরও প্রচারে অংশ নিতে দেখা গেছে।

পেশায় পারিবারিক চিকিৎসক ডা. তরুণ দীর্ঘদিন ধরে স্কারবরো এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছেন। তাঁর প্রচারণায় স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানো, স্থানীয় কর্মসংস্থান রক্ষা, পরিবারের ব্যয় কমানো এবং প্রাদেশিক সরকারের সঙ্গে এলাকার কার্যকর যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো প্রাধান্য পাচ্ছে। বিতর্কের মঞ্চে উপস্থিত না থাকলেও বাড়ি বাড়ি প্রচারের মাধ্যমে তিনি ভোটারদের কাছে নিজের বক্তব্য ও পরিকল্পনা তুলে ধরছেন।

স্কারবরো সাউথওয়েস্টে আগাম ভোট গ্রহণ হবে ২৬ থেকে ২৮ আগস্ট। নির্বাচনের দিন ৩ সেপ্টেম্বর। ভোট সামনে রেখে ডা. তরুণ ও তাঁর প্রচারশিবির বাড়ি বাড়ি প্রচার এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ আরও জোরদার করছেন।

তথ্যসূত্র:
Daily Bread Food Bank
Beach Metro Community News