গুম প্রতিরোধে কেমন আইন ও বিচার দরকার

প্রতিকার শুধু ক্ষতিপূরণ নয়

গুমের ঘটনায় ভুক্তভোগী শুধু নিখোঁজ ব্যক্তি নন; তাঁর পরিবারও সরাসরি ক্ষতির শিকার হয়। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা, স্বজনের পরিণতি না জানা, আর্থিক সংকট, সামাজিক চাপ এবং মানসিক যন্ত্রণা পরিবারের জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। তাই প্রতিকারকে শুধু আর্থিক ক্ষতিপূরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে গুমের প্রকৃত ক্ষতিপূরণ হয় না।

প্রতিকারের মধ্যে থাকতে হবে আইনি সহায়তা, চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, জীবিকা সহায়তা, পুনর্বাসন, সত্য জানার অধিকার, রাষ্ট্রীয়ভাবে অন্যায় স্বীকার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হওয়ার নিশ্চয়তা। খসড়ায় ক্ষতিপূরণ, আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসনের বিধান ইতিবাচক। তবে এসব প্রতিকার কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তির দণ্ডের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

ফৌজদারি দায় নির্ধারণ এবং ভুক্তভোগীর প্রতিকার পাওয়ার অধিকার দুটি পৃথক বিষয়। একজন অপরাধীকে শনাক্ত বা দণ্ডিত করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তা সম্ভব না–ও হতে পারে; কিন্তু তত দিনে পরিবারের আর্থিক, সামাজিক ও মানসিক ক্ষতি থেমে থাকে না। তাই অনুসন্ধান, পুনর্বাসন, চিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের স্বতন্ত্র দায়িত্ব হওয়া উচিত।

একইভাবে ‘গুম সনদ’ বা সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা এমনভাবে করতে হবে, যাতে তা কোনোভাবেই ‘মৃত্যুঘোষণা’য় পরিণত না হয়। একজন ব্যক্তির অবস্থান অজানা থাকা পর্যন্ত তাঁকে খুঁজে বের করা, সত্য উদ্‌ঘাটন করা এবং ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাওয়া রাষ্ট্রের চলমান দায়িত্ব।