চট্টগ্রামে পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি সাড়ে চার লাখ মানুষ, সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত – DesheBideshe

চট্টগ্রামে পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি সাড়ে চার লাখ মানুষ, সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত – DesheBideshe


চট্টগ্রামে পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি সাড়ে চার লাখ মানুষ, সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত – DesheBideshe

চট্টগ্রাম, ১০ জুলাই – টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা। সেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এছাড়া চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। দুর্গত এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার প্রতিটি উপজেলায় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সব উপজেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ চলছে।

এদিকে সাতকানিয়ায় মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয় ও থানায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

বাঁশখালীতে বন্যার তোড়ে পাঁচ শতাধিক মাটির ঘর ভেঙে গেছে। বৈলছড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম ও বাঁশখালী প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ডলু নদী দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে পৌরসভার রামপুর এলাকায় কয়েকশ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। চন্দনাইশেও শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার মহাসড়কের হাশিমপুর এলাকায় দেড় ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ধীরগতিতে যানবাহন চলাচলের কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে দূরপাল্লার যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এনএন/ ১০ জুলাই ২০২৬