
ছবি: সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের সি ব্লকের ২৮ নম্বর কূপ থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়েছে। কূপটি চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এই সরবরাহ দেশের চলমান গ্যাস সংকট কিছুটা কমাতে সহায়তা করবে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী আনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি আনুষ্ঠানিকভাবে কূপটির উদ্বোধন করেন।
চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিসিডিসি খনন করা ৩ হাজার ৬০১ মিটার গভীরতার এই কূপ থেকে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। মূসক ও আয়করসহ কূপটি খননে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) জানায়, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর অংশ হিসেবে ‘তিতাস ও কামতা ফিল্ডে ৪টি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন’ প্রকল্পের আওতায় কূপটি খনন করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর ২৮ নম্বর কূপের খননকাজ শুরু হয়। প্রায় পাঁচ মাসের কাজ শেষে চলতি বছরের ২৭ মে খনন শেষ হয়। এরপর প্রায় দুই মাস পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।
উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী আনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, জ্বালানি খাতে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে জ্বালানি খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি কূপের খননকাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, জ্বালানি অবকাঠামো বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শেষ করতে পারলে সরবরাহ ও চাহিদার ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে।
বর্তমানে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৩টি কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩২৫ থেকে ৩৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। নতুন ২৮ নম্বর কূপ থেকে আরও সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হওয়ায় মোট সরবরাহ কিছুটা বাড়বে।
বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিক বলেন, নতুন কূপগুলো থেকে গ্যাস পাওয়া গেলে বেশি দামে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নির্ভরতা কমবে। গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে তিতাসের ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপ খননের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৯ নম্বর কূপের কাজ শেষ হয়েছে এবং ৩১ নম্বর কূপের খননকাজ চলছে। ৩১ নম্বরের কাজ শেষ হলে একই রিগ দিয়ে ৩০ নম্বর কূপের খনন শুরু হবে।
বিজিএফসিএলের গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব বলেন, জরিপ অনুযায়ী তিতাসের ওই এলাকায় প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত থাকতে পারে। কারিগরি জটিলতা না হলে ৩১ নম্বর কূপের খননকাজ শেষ হতে আরও তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নন্দনপুর এলাকায় গত ১৯ এপ্রিল তিতাসের ৩১ নম্বর কূপের খনন শুরু হয়। এটি দেশের প্রথম ও সবচেয়ে গভীর অনুসন্ধান কূপ হিসেবে ৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীরতায় খনন করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কূপটির ৪ হাজার ৬৩৭ মিটার পর্যন্ত খনন হয়েছে। তিতাসে এর আগে সর্বোচ্চ প্রায় ৩ হাজার ৭০০ মিটার গভীরতা থেকে গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে।
উদ্বোধন শেষে প্রতিমন্ত্রী ও অতিথিরা তিতাস-৩১ ও তিতাস-২৯ গভীর অনুসন্ধান কূপের খননকাজ পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এমপি, জ্বালানি সচিব মো. জিয়াউল হকসহ মন্ত্রণালয় ও বিজিএফসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৯৬২ সালে পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি তিতাস গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে। ১৯৬৮ সালে এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
