
ছবি: সংগৃহীত
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন ও ভাতা কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হলেও কয়েকটি ভাতার হার কমানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাড়ি ভাড়া ও বাংলা নববর্ষ ভাতা। একই সঙ্গে উচ্চ গ্রেডের চাকরিজীবীদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হারও কমানো হয়েছে। তবে মূল বেতন বাড়ার কারণে ভাতার প্রকৃত টাকার পরিমাণ আগের তুলনায় বাড়তে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ নামে এ প্রজ্ঞাপন জারি করে। নতুন কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে।
ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন
নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হলেও বর্ধিত মূল বেতন একবারে কার্যকর হবে না। ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত বাড়তি মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ পাবেন।
নতুন কাঠামোয় গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কমছে বাড়ি ভাতার হার
নতুন পে-স্কেলে বড় পরিবর্তন এসেছে বাড়ি ভাড়া ভাতায়। বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় গ্রেডভেদে মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় তা কমিয়ে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ করা হয়েছে।
ঢাকা সিটি করপোরেশনের বাইরে অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভার উপজেলায় বর্তমানে মূল বেতনের ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় তা ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা, অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভারের বাইরে কর্মরতদের বাড়ি ভাড়া বর্তমানে মূল বেতনের ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ। নতুন কাঠামোয় এ হার ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ করা হয়েছে।
তবে মূল বেতন বড় হারে বাড়ায় শতাংশ কমলেও প্রকৃত টাকার হিসাবে অনেকের বাড়ি ভাতা আগের চেয়ে বেশি হতে পারে।
নববর্ষ ভাতাও কমছে
বাংলা নববর্ষ ভাতার হারও কমানো হয়েছে। বর্তমানে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে এ ভাতা দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় তা কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে দুর্গম পার্বত্য এলাকায় কর্মরতদের পাহাড়ি ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ বহাল থাকছে। পার্বত্য জেলা ও উপজেলা সদরের জন্য সর্বোচ্চ ৫ হাজার এবং সদরের বাইরের এলাকার জন্য সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
হাওর, দ্বীপ ও চরভাতাও মূল বেতনের ২০ শতাংশ বহাল রেখে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
যেসব ভাতা অপরিবর্তিত
শিক্ষাসহায়ক ভাতা, কার্যভার ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, কুক অ্যান্ড সিকিউরিটিজ অ্যালাউন্স, উৎসব ভাতা এবং শ্রান্তি, বিনোদন ছুটি ও ভাতার বিদ্যমান হার ও পরিমাণ বহাল রাখা হয়েছে। ঝুঁকি ভাতাসহ বিভিন্ন বিশেষ ভাতার পরিমাণ বিদ্যমানের তুলনায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
উচ্চ গ্রেডে কমছে ইনক্রিমেন্ট
নতুন বেতন কাঠামোয় উচ্চ গ্রেডের চাকরিজীবীদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার কমানো হয়েছে। বর্তমানে সব গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবী মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পান।
নতুন কাঠামোয় ২০তম থেকে ষষ্ঠ গ্রেড পর্যন্ত ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বহাল থাকছে। তবে পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ, চতুর্থ ও তৃতীয় গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে।
সশস্ত্র বাহিনীতেও একই নীতি প্রযোজ্য হবে। ক্যাপ্টেন ও সমতুল্য এবং তার নিচের পদে ৫ শতাংশ, মেজর পদে ৪ শতাংশ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও কর্নেল পদে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সমপদে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
