ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসের ল’ সোসাইটি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে আইনজীবীদের মনোনয়ন বাতিল, বাধা এবং হয়রানির অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে লেখা এক চিঠিতে এসব ঘটনাকে আইনজীবীদের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের জন্য হুমকি বলে অভিহিত করেছে।
বুধবার ১৩ মে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো ওই চিঠিতে ল’ সোসাইটির প্রেসিডেন্ট মার্ক ইভান্স জানান, ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে বেশ কয়েকটি জেলা বার এবং সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগপন্থী ও স্বতন্ত্র আইনজীবীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে শারীরিক হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কিছু মনোনয়নপত্র ফ্যাসিস্টদের সহযোগী অভিযোগে বাতিল করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়, পুলিশ কোনো কোনো প্রার্থীকে প্রত্যাহারে চাপ দিয়েছে এবং তাদেরকে সাবেক সরকারের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই ধরনের ঘটনা জাতিসংঘের বেসিক প্রিন্সিপলস অন দ্য রোল অব লয়ার্সের ১৬, ১৭, ১৮ ও ২৩ নম্বর নীতির সরাসরি লঙ্ঘন বলে মনে করে ল’ সোসাইটি।
ল’ সোসাইটির দাবি- সব আইনজীবীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, নির্বাচনী অনিয়ম, বাধা ও হয়রানির অভিযোগ তদন্ত করা ও আইনজীবীদের কোনো ধরনের প্রতিশোধ, ভয়ভীতি ও হয়রানি ছাড়া পেশাগত দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া। চিঠিতে আরও বলা হয়, আইনজীবীদের পেশাগত স্বাধীনতা ও বার অ্যাসোসিয়েশনের স্ব-শাসন ক্ষমতা রক্ষা না করলে আইনের শাসন ও বিচার ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ হবে।
চিঠির কপি বাংলাদেশের যুক্তরাজ্য হাইকমিশনার, বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনার, জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং জাতিসংঘের স্বাধীন বিচারক ও আইনজীবী বিষয়ক স্পেশাল র্যাপোর্টিয়ার প্রফেসর মার্গারেট স্যাটার্থওয়েটকেও পাঠানো হয়েছে। তবে এই বিষয়ে সরকারের কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।







